কথিত যুদ্ধবিরতির মাঝেও উত্তর ও দক্ষিণ গাজাজুড়ে অব্যাহত রয়েছে ইসরাইলি বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলা ও গুলিবর্ষণ। দখলদার সেনাবাহিনীর এই আগ্রাসী তাণ্ডবে প্রতিদিনই ধ্বংস হচ্ছে অসংখ্য ঘরবাড়ি, নিহত-আহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গাজায় মানবিক সহায়তার নামে যে পরিমাণ ত্রাণ ঢোকার কথা ছিল, তার মাত্র এক-চতুর্থাংশ প্রবেশ করতে পারছে। বাকি ৭৫ শতাংশ ত্রাণ ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রেখেছে ইসরাইল।
রোববার দক্ষিণ গাজার পূর্ব খান ইউনিস এলাকায় ইসরাইলি আর্টিলারি টানা গোলাবর্ষণ চালায়। একই সময়ে উত্তর গাজার জাবালিয়া এবং খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চলের আরও কয়েকটি স্থানে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে দখলদার সেনারা। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, পূর্ব খান ইউনিসে একাধিক ফিলিস্তিনি বাড়িঘর ধ্বংসের পর তীব্র বিস্ফোরণের শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও স্থল, আকাশ ও নৌবাহিনী সমন্বিতভাবে ইসরাইলি হামলা প্রতিদিনই চালিয়ে যাচ্ছে গাজার বেসামরিক এলাকাগুলোয়। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এই তথাকথিত যুদ্ধবিরতি আদৌ যুদ্ধবিরতি কিনা। বাস্তবে এটি ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি আগ্রাসনের আরেকটি ধাপ বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহল।
এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৮০০-রও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত বা আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকেই চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর মুখে পড়েছেন, কারণ ওষুধ, জ্বালানি এবং খাবার বহনকারী ত্রাণ কাফেলা সীমান্তেই আটকে দিচ্ছে দখলদার বাহিনী।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, ১০ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ৩ হাজার ২০৩টি বাণিজ্যিক ও ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের অনুমতি পেয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১৪৫টি ট্রাক ঢুকতে পারছে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে নির্ধারিত দৈনিক ৬০০ ট্রাকের মাত্র ২৪ শতাংশ। এই বৈষম্যপূর্ণ অবরোধের কারণে ২৪ লাখেরও বেশি মানুষের জীবন ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসরাইল ইচ্ছাকৃতভাবে ত্রাণবাহী ও বাণিজ্যিক ট্রাকগুলোকে বাধা দিচ্ছে, খাদ্য, পানি ও ওষুধের প্রবেশ ঠেকিয়ে দিচ্ছে। ফলে গাজায় এখন মানুষ বাঁচার লড়াই করছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আহ্বান সত্ত্বেও ইসরাইলের এই অবরোধ নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
এই পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক মহল ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। গাজার আকাশে ধোঁয়া আর আগুনের নিচে এখন শুধু একটাই প্রশ্ন—এই যুদ্ধবিরতি, নাকি ইসরাইলের আরেকটি পরিকল্পিত গণবিনাশ?
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?