সুদানের দারফুর অঞ্চলের এল-ফাশার শহরে ভয়াবহ গণহত্যা চলছে—এমনই চিত্র ফুটে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক গবেষণা কেন্দ্রের (হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাব) নতুন স্যাটেলাইট চিত্রে। আধা-সামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ) শহরটি দখল করার পর থেকে সেখানে হত্যাযজ্ঞ, যৌন সহিংসতা, লুটপাট ও অপহরণের ঘটনাগুলো অব্যাহত রয়েছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন।
গত রোববার শহরটি দখলের পর আরএসএফ সেনাদের হাতে শত শত বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি জানা সম্ভব হচ্ছে না। তবুও স্যাটেলাইট ছবি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মিলিয়ে বিশেষজ্ঞরা একে “চলমান গণহত্যা” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এল-ফাশারের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের মৃতদেহের মতো বস্তুর উপস্থিতি ধরা পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মাঠ, সামরিক স্থাপনা এবং আবাসিক এলাকাগুলোতে আগুনের চিহ্ন, ধ্বংসযজ্ঞ এবং লাশের স্তূপ দেখা গেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, “শহরের অধিকাংশ মানুষ হয় নিহত, নয়তো বন্দী কিংবা লুকিয়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
এল-ফাশার দখলের পর আরএসএফ বাহিনী সাধারণ মানুষ, নারী ও শিশুদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন পালিয়ে আসা প্রত্যক্ষদর্শীরা। শহর থেকে পালিয়ে তাওয়িলা এলাকায় পৌঁছানো বেঁচে যাওয়া এক নারী হায়াত বলেন, “আমাদের সঙ্গে পালানোর সময় যুবকদের আলাদা করে পথ আটকানো হয়। তারপর তাদের আর দেখা যায়নি। আমরা জানি না তাদের কী হয়েছে।”
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এল-ফাশার থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ পালিয়ে গেছে। তবে এখনও হাজার হাজার মানুষ শহরে আটকা পড়ে আছে। আরএসএফের চূড়ান্ত দখলের আগেই শহরে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ অবস্থান করছিল।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়, যা দ্রুত গৃহযুদ্ধের রূপ নেয়। এল-ফাশার শহরের এই ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ সেই চলমান সংঘাতের সবচেয়ে মর্মান্তিক পরিণতি বলে মনে করা হচ্ছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?