লেবাননের প্রেসিডেন্ট দেশটির সেনাবাহিনীর কমান্ডারকে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইহুদিবাদী ইসরাইল ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর লেবাননের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরু করে এবং দুই মাস পর, বুধবার (২৭ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, ইসরাইলকে ৬০ দিনের মধ্যে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে ইসরাইল এখনো ওই অঞ্চলের পাঁচটি কৌশলগত স্থানে সৈন্য মোতায়েন রেখেছে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই শতাধিকবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
ইরনা ও পার্সটুডের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সেনাবাহিনীর কমান্ডারকে নির্দেশ দিয়েছেন মুক্ত ভূমিতে যেকোনো ইহুদিবাদী আগ্রাসনের মুখে দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ কমিটিকে ইসরাইলের ওপর আরও আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে যাতে তারা লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন বন্ধে বাধ্য হয়।” সীমান্ত এলাকায় ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলা এবং সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের প্রেক্ষিতেই এই নির্দেশনা দেন প্রেসিডেন্ট আউন।
অন্যদিকে, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বালিদা অঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর সাম্প্রতিক আক্রমণ ও দায়িত্বে থাকা এক পৌর কর্মচারীকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনাকে তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, “এটি লেবাননের জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর স্পষ্ট হামলা।” প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, লেবানন সরকার জাতিসংঘ ও যুদ্ধবিরতি চুক্তির পৃষ্ঠপোষক দেশগুলোর মাধ্যমে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর লঙ্ঘনমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ হয় এবং তাদের সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করা যায়।
লেবাননের সেনাবাহিনী বালিদার ঘটনাকে একটি অপরাধমূলক আগ্রাসন ও সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ কমিটিকে আহ্বান জানানো হয়েছে যেন ইসরাইলি বাহিনীর বারবার শত্রুতাপূর্ণ কর্মকাণ্ড বন্ধে তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে ইসরাইলি সেনাদের একটি দল লেবানন-অধিকৃত ফিলিস্তিনি সীমান্ত অতিক্রম করে বালিদা শহরের অস্থায়ী পৌরসভা ভবনে প্রবেশ করে। ঘটনাস্থলে ড্রোনসহ ইসরাইলি বাহিনীর উপস্থিতি ছিল। পরে লেবাননের সেনাবাহিনী সতর্ক অবস্থায় এলাকায় অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করে। আক্রমণের পর বালিদা পৌরসভা জানায়, তাদের একজন কর্মচারী নিখোঁজ রয়েছেন।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?