ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডবাহিনী (আইআরজিসি)-এর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর বলেছেন, ইরান ভবিষ্যতের যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ও কঠোর জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। শত্রুদের উদ্দেশে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন,
“তেহরান শত্রুদের ওপর নরক নেমে আনবে।”
মঙ্গলবার তেহরানে ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজির সঙ্গে এক বৈঠকে এই সতর্কবার্তা দেন জেনারেল পাকপুর। জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে চালানো ১২ দিনের আগ্রাসনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন
, “ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠী কমান্ডারদের হত্যা এবং নাশকতার মাধ্যমে ইরানের জাতীয় ঐক্য ও সংহতি দুর্বল করতে চেয়েছিল। কিন্তু সর্বোচ্চ নেতার প্রজ্ঞা ও জনগণের সতর্কতার কারণে তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“শত্রুরা ভেবেছিল, সংঘাতের প্রথম দিনেই আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা হ্রাস পাবে। কিন্তু আমরা শক্তি ও নির্ভুলতার সঙ্গে কাজ করেছি—আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে। ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী।”
জেনারেল পাকপুর ১২ দিনের যুদ্ধকালে ইরানবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে ইরাক সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “উভয় দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় ইরাকের ভূমিকা প্রশংসনীয়। আমাদের দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সীমান্ত এলাকা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি যৌথ মাঠ কমিটি গঠন করা জরুরি।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“ইরানবিরোধী এই গোষ্ঠীগুলো উভয় দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাই যৌথ সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।”
বৈঠকে ইরাকি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজি ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানি জনগণের দৃঢ়তা ও ঐক্যের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন,
“ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের ইহুদিবাদী যুদ্ধে শত্রুরা আশা করেছিল, ইরানি জনগণ নিজেদের ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে। কিন্তু তার বিপরীতে জনগণ বিপ্লবের নীতির প্রতি অনুগত থেকে ঐক্য ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় মুসলিম দেশগুলোর ঐক্য অপরিহার্য। ইরান ও ইরাকের এই পারস্পরিক সহযোগিতা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।”
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?