ইরানের ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখতে ভারতের আট নাগরিক ও নয়টি কোম্পানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) ওয়াশিংটন ঘোষিত এই সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইরানি তেল, পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে কালোতালিকাভুক্ত হয়েছে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে ৬০ জন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে, যারা ইরান থেকে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে তেল ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) পরিবহনে সহায়তা করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই তালিকায় চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশের প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতের আটটি রাসায়নিক ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান গত কয়েক বছর ধরে ইরানি উৎস থেকে পণ্য আমদানি করছিল। নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে, মুম্বাই-ভিত্তিক সিজে শাহ অ্যান্ড কোং, কেমোভিক, মোডি কেম, পারিচেম রিসোর্সেস, ইন্ডিসল মার্কেটিং, হরেশ পেট্রোকেম, শিব টেক্সচেম এবং দিল্লি-ভিত্তিক বিকে সেলস কর্পোরেশন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এসব প্রতিষ্ঠান কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল আমদানি করে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আইন লঙ্ঘন করেছে।
এ ছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তালিকায় থাকা পাঁচ ভারতীয় নাগরিক হলেন, কেমোভিকের পরিচালক পীযূষ মাগনলাল জাভিয়া, ইন্ডিসল মার্কেটিং পরিচালক নীতি উন্মেশ ভট্ট, এবং হরেশ পেট্রোকেমের পরিচালক কমলা কাসাত, কুণাল কাসাত ও পুনম কাসাত।
ওএফএসি-র পৃথক তালিকায় আরও তিন ভারতীয় নাগরিকের নাম যুক্ত হয়েছে—বরুণ পুলা, আয়াপ্পান রাজা এবং সোনিয়া শ্রেষ্ঠা।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ইরানি এলপিজি পরিবহনকারী জাহাজ পরিচালনা ও চুক্তি সম্পাদনে জড়িত ছিলেন।
ওয়াশিংটন জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ “ইরানের তেল বাণিজ্যকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন কৌশলের অংশ”, যা ইরান সরকারের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎসকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নীতির নতুন এক ধাপ, যা তেহরান ও নয়াদিল্লির মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?