ইউক্রেন জানিয়েছে, রাশিয়া তাদের গ্যাস উৎপাদন স্থাপনাগুলোর ওপর সবচেয়ে বড় রাতের হামলা চালিয়েছে। পার্সটুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার ইউক্রেনের জাতীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি এক বিবৃতিতে জানায়, রুশ সেনারা ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে সর্বাত্মক আক্রমণ চালিয়েছে।
কোম্পানির চেয়ারম্যান সের্গেই কোরিৎস্কি জানিয়েছেন, এই হামলায় তাদের একাধিক স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, রুশ বাহিনী প্রায় ৩৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬০টি ড্রোন উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ ও মধ্যাঞ্চলীয় পোলতাভা অঞ্চলে হামলা চালায়। ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছু ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও অধিকাংশ আটকানো সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, রুশ সেনারা দাবি করেছে, তারা ইউক্রেনের সামরিক শিল্প কমপ্লেক্স ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নেটওয়ার্কে নিশানা করে হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এই আক্রমণের উদ্দেশ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা।
ফরাসি সাংবাদিক নিহত
রাশিয়ার ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন ফরাসি সাংবাদিক ও আলোকচিত্রী অ্যান্টনি লেলিকান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৩৮ বছর বয়সী এই সাংবাদিক ২০১৮ সাল থেকে ইউক্রেনে কাজ করছিলেন এবং হামলার সময় তিনি ইউক্রেনীয় বাহিনীর সঙ্গে ফ্রন্টলাইনে অবস্থান করছিলেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ তাকে “রাশিয়ার ড্রোন হামলার শিকার” বলে উল্লেখ করেছেন এবং তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
পুতিনের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রকে
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউক্রেনকে দূরপাল্লার “টমাহক” ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে, তবে এটি রাশিয়া-আমেরিকা সম্পর্ককে “নতুন এক উত্তেজনাপূর্ণ ধাপে” নিয়ে যাবে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি পেন্টাগন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ইউক্রেনকে রুশ ভূখণ্ডে আক্রমণের সহায়তা দিতে অনুমতি দিয়েছেন।
আমেরিকার গোপন সহায়তা ইউক্রেনের ড্রোন প্রকল্পে
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে ইউক্রেনকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে গোপন সহায়তা দিয়ে আসছে। বাইডেন প্রশাসনের সময় ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা প্রকল্পে ১.৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে এমন যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা হয়, যা ইউক্রেন নিজ দেশে উৎপাদন করতে সক্ষম ছিল না। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সময়ও সেই সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
১৮৫ যুদ্ধবন্দীর বিনিময়
এদিকে, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধবন্দী বিনিময় হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় কিয়েভের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল থেকে ১৮৫ জন রুশ সেনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং বিনিময়ে ১৮৫ জন ইউক্রেনীয় সেনা মুক্তি পেয়েছেন। এছাড়া, আরও ২০ জন বেসামরিক নাগরিককেও ফেরত দেওয়া হয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের এ নতুন ধাপ আবারও প্রমাণ করছে—দুই দেশের সংঘাত এখন আরও জটিল ও বহুস্তরীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সামরিক অভিযান, কূটনৈতিক লড়াই এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি একসূত্রে গাঁথা হয়ে পড়েছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?