বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

ভারতীয় আমেরিকানদের বাংলাদেশ-বিরোধী ষড়যন্ত্র সফল হবে না

ভারতীয় হিন্দু আমেরিকানরা পতিত স্বৈরাচার খুনি হাসিনাকে ক্ষমতায় ফেরাতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে তা কখনও সফল হবে না বলে বিশ্বাস করেন বিশ্লেষকরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভারতীয় হিন্দু আমেরিকানদের সকল অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের ডাক উঠেছে।   ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ও দেশটির কংগ্রেসের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা চালানো হবে বলে এক […]

নিউজ ডেস্ক

১৭ নভেম্বর ২০২৪, ২৩:৫৫

ভারতীয় হিন্দু আমেরিকানরা পতিত স্বৈরাচার খুনি হাসিনাকে ক্ষমতায় ফেরাতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে তা কখনও সফল হবে না বলে বিশ্বাস করেন বিশ্লেষকরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভারতীয় হিন্দু আমেরিকানদের সকল অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের ডাক উঠেছে।

 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ও দেশটির কংগ্রেসের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা চালানো হবে বলে এক ভারতীয় হিন্দু আমেরিকান কমিউনিটি নেতা হুমকি দেন। ডাক্তার ভারত বড়াই নামে এই নেতা বার্তাসংস্থা পিটিআইকে বলেন, ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পরই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তারা কাজ শুরু করবেন।

বাংলাদেশী আমেরিকানরা সোশাল মিডিয়ায় ফ্যাসিস্ট হাসিনাপন্থী হিন্দুদের এসব ষড়যন্ত্র প্রতিহতের ডাক দিয়েছেন। গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিশ্বব্যাপী যার যার অবস্থান থেকে হিন্দুত্ববাদী অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নেটিজেনরা।

হিন্দু ওই আমেরিকান নেতা জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে পোস্ট দিয়েছিলেন সেটি তাদের উদ্বুদ্ধ করেছে। আর এ বিষয়টি কাজে লাগিয়েই বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে তারা ট্রাম্পকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করবেন।

ভারত বড়াই বলেন, তাদের তৈরি পোশাক রপ্তানি যদি বন্ধ হয়ে যায়, যা তাদের ব্যবসার ৮০ শতাংশ, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ খাবে কী?

বিশেষজ্ঞরা তার এই অপচেষ্টাকে কেবলই শিশুসুলভ, হিৎসাত্মক ও বৃথা বলে মনে করেন। তারা ব্যাখ্যা করে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মত একটি বড় দেশের রয়েছে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও সুদৃঢ় নীতি। মার্কিন সরকার কোনো গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সরবরাহ করা মিথ্যা তথ্য যাচাই না করেই একটি দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে এমনটা আশা করা কেবলই মুর্খতা ও বোকামি। অতীতে এমন কোনো দৃষ্টান্ত দেখা যায়নি। আর বাংলাদেশের মত একটি বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগী দেশের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ তো প্রশ্নই আসে না।

ফেসুবকে এনিয়ে আহমেদ মুসা লিখেছেন, ফাউল আলাপ। ট্রাম্প মোদির বন্ধু মানে এই নয় যে ভারতের মতো চুনোপুঁটির কথায় সে আমেরিকা চালাবে। বাংলাদেশের সাথে আমেরিকার বানিজ্যচুক্তি শুধু বাংলাদেশের জন্যেই নয়, বরং উভয় দেশের স্বার্থে হয়। বাংলাদেশের টেক্সটাইলেই আমেরিকার সুবিধা বেশি। বিকল্প কোনো দেশ থাকলে অনেক আগেই তাদের থেকে আমদানি করতো আমেরিকা। আর সামান্য মোদির কথায় এত বড় বানিজ্য এমনি এমনি বন্ধ করে নিজের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিবে তা ট্রাম্পের নীতি নয়।

মোঃ নুর লিখেছেন, ভারত কিন্তু ইদানিং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করতেছে। ভারত কি জানেনা আমরা অস্ত্র ছাড়া বাঁশ দিয়ে একাত্তরে এদেশ স্বাধীন করেছি।..ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমরাও ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দেয়ার মতন সেই সাহস আমাদের রয়েছে।..বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমরা ছাড়াছাড়ি করিনা।

মীর কাশেম লিখেছেন, খুনী হাসিনা বিপুল পরিমাণের লুটপাটের টাকা দিয়ে হিন্দু আমেরিকানদের দিয়ে লবিং করাচ্ছেন। কিন্তু আমেরিকা এত শিশু দেশ না যে একটি গোষ্ঠীর দেওয়া তথ্য যাচাই না করেই তার ওপর ভীত্তি করে তারা একটি সহযোগী দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেবে। আর ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের কাছে অবশ্যই সঠিক তথ্য রয়েছে। এভাবে স্বৈরাচার হাসিনাকে ক্ষমতায় ফেরানো যাবে না।

নুরুন্নবী সরকার লিখেছেন, কোনো লাভ হবে না।বিশ্ব রাজনীতি এখন দুই ভাগে বিভক্ত, আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা দিলে রাশিয়া পাশে দাঁড়াবে, আর রাশিয়ার সাথে ঝামেলা হলে আমেরিকা পাশে। সুতরাং এই সব পুরাতন থিওরি বাদ দিয়ে নতুন কিছু নিয়ে আসেন আমাদের জন্য।

 

মুফতী নুরুল আমিন লিখেছেন, আমেরিকা ২ প্রকার, এক প্রকার খারাপ আমেরিকা যারা সেন্ট মার্টিন দখল করতে চায়, আরেক প্রকার ভালো আমেরিকা, যারা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনবে। বানীতে অসহায় লীগ।

 

মোহাম্মদ আক্তার ইবনে ওয়াহাব লিখেছেন, চিরশত্রু ভারত লাভ নাই এসব করে। যে দেশ যত বেশি নিষেধাজ্ঞায় পড়েছে সে দেশ নিজেরাই বিশ্বের বুকে বড় হয়েছে। ইরান, তুর্কি এর অন্যতম উদাহরণ।

 

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ লিখেছেন, ওদের সব নাচানাচি বন্ধ হয়ে যাবে শুধু ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মুহাম্মদ ইউনূসের একটা বৈঠক এর মাধ্যমে। আর আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা কি এতো সহজ যে মনে চাইলাম একটি নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দিলাম। আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা এই নয় যে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া। ভেনেজুয়েলা, কিউবা, উওর কোরিয়া,ইরান, আফগানিস্তান, মায়ানমার সহ অনেক দেশকে দিয়েছে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না বরং তাঁরা আরো উন্নত হয়েছে।

 

তামিম রেজা লিখেছেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে কাজ করবে ভারতীয় আমেরিকানরা! আর যারা বাংলাদেশী আমেরিকাতে আছি, আমরা কি বসে বসে আঙুল চুষবো?

 

জাহাঙ্গীর আলম লিখেছেন, ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ মদদেই এদেশে শেখ হাসিনা সরকার ও তাদের দোসররা ফ্যাসিস্ট সরকারে পরিনত হয়েছিল এবং এদেশের জনগণের লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা লুটপাট করে এদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল, এদেশকে দূর্নীতি ও ঘুষের দেশে পরিণত করেছিল, হাজার হাজার ছাত্র জনতাকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে গণহত্যা করেছিল, বিরোধী দল-মত দমনে সীমাহীন নির্যাতন-গুম-খুন-সীমাহীন কেস দেয়া হয়েছিল, জনগণের ভোটাধিকার হরণ সহ জনগণের সকল অধিকার হরণ করেছিল। সর্বশেষ, ভারত সরকার, এদেশের বিরুদ্ধে সারা বিশ্বে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। আর, সময়ের পরিক্রমায় ভারত সরকারের এসমস্ত মিথ্যা প্রোপাগান্ডা সারা বিশ্বে উন্মোচিত হবে এবং ভারতকেই এজন্য জবাব দিহিতার সম্মুক্ষীণ হতে পারে। কারণ মিথ্যা বেশি দিন টিকে না।

ট্রাম্পকে ভারতীয় আমেরিকান হিন্দুদের মিথ্যা ও বিভ্রান্তমূলক তথ্য সরবরাহ করা প্রসঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। এখন যেহেতু উনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন, তাই অবশ্যই উনি দেখতে পারবেন ঘটনা আসলে কী ঘটেছে। আমরা মনে করি, সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে প্রচুর অপতথ্য বা ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস রয়েছে, তারা দেখবে বাংলাদেশে কী ঘটছে বা সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা আদৌ ঘটেছে কি না। যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য বিজয়ী প্রেসিডেন্ট তখন নিশ্চয়ই প্রকৃত চিত্র জানতে পারবেন।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৩০৪১

আন্তর্জাতিক

জাকির নায়েক ঢাকায় পা রাখলেই যেন ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়: রনধীর জয়সওয়াল

আসছে নভেম্বরে ঢাকায় আসছেন আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত ইসলামী বক্তা ডা. জাকির নায়েক। তবে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় পা রাখলেই তাঁকে যেন ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়—বাংলাদেশের কাছে এমন প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে ভারত। বিষয়টি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) পক্ষ থেকে ভারতীয় গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিউজ ডেস্ক

৩১ অক্টোবর ২০২৫, ১৩:০৮

আসছে নভেম্বরে ঢাকায় আসছেন আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত ইসলামী বক্তা ডা. জাকির নায়েক। তবে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় পা রাখলেই তাঁকে যেন ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়—বাংলাদেশের কাছে এমন প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে ভারত। বিষয়টি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) পক্ষ থেকে ভারতীয় গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত ৩০ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল বলেন,

“জাকির নায়েক একজন পলাতক আসামি। তিনি ভারতে ওয়ান্টেড। আমরা আশা করি, তিনি যেখানেই যান না কেন, সংশ্লিষ্ট দেশ তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে এবং আমাদের নিরাপত্তা উদ্বেগগুলো বিবেচনায় রাখবে।”

ডা. জাকির নায়েক ২০১৬ সালের আগে পর্যন্ত ভারতে অবস্থান করতেন। বিভিন্ন ইসলামী আলোচনায় অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। তবে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের সময় তাঁর বিরুদ্ধে “ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রচার” এবং একাধিক অর্থপাচারের মামলা হয়। একইসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয় তাঁর নিয়ন্ত্রিত ইসলামিক চ্যানেল “পিস টিভি”-র সম্প্রচার।

এসব ঘটনার পর ৬০ বছর বয়সি এই ইসলামী বক্তা ২০১৬ সালে ভারত ছেড়ে মালয়েশিয়ায় চলে যান এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পান। ভারতে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি একাধিকবার বলেছেন,

“ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত আমি ভারতে ফিরব না।”

আগামী ২৮ ও ২৯ নভেম্বর ডা. জাকির নায়েক ঢাকায় একটি দাতব্য অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। স্পার্ক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানটি আগারগাঁও এলাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

২০১৬ সালে ঢাকার হলি আর্টিজান হামলার পর অন্তত দুই হামলাকারী “জাকির নায়েকের বক্তৃতা থেকে অনুপ্রাণিত” ছিল—এমন প্রতিবেদন প্রকাশের পর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তাঁর বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

তবে শেখ হাসিনার পতনের পর সেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে এবার ঢাকায় আসছেন ডা. জাকির নায়েক। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিনি ঢাকায় এলেই তাঁকে যেন ভারতের হাতে হস্তান্তর করা হয়—এমনটাই তাদের প্রত্যাশা।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৩০৪১

আন্তর্জাতিক

ইসরাইলি আটক থেকে মুক্তির পর জামায়াত থেকে পদত্যাগ করলেন মুশতাক

পাকিস্তানের সাবেক সিনেটর মুশতাক আহমদ ঘোষণা করেছেন, তিনি জামায়াত-ই-ইসলামি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে দলের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা মনোমালিন্য নেই। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে জিও নিউজ। ইসরাইলি হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়ে পাকিস্তানে ফেরার পর বৃহস্পতিবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে মুশতাক আহমদ বলেন, তিনি […]

ইসরাইলি আটক থেকে মুক্তির পর জামায়াত থেকে পদত্যাগ করলেন মুশতাক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১০ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৪৪

পাকিস্তানের সাবেক সিনেটর মুশতাক আহমদ ঘোষণা করেছেন, তিনি জামায়াত-ই-ইসলামি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে দলের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা মনোমালিন্য নেই।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে জিও নিউজ। ইসরাইলি হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়ে পাকিস্তানে ফেরার পর বৃহস্পতিবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে মুশতাক আহমদ বলেন, তিনি মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং সাংবিধানিক অধিকারের পক্ষে স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য ‘নিজস্ব রাজনৈতিক পরিসর’ তৈরি করতে চান।

মুশতাক জানান, ‘আমি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াত-ই-ইসলামি থেকে পদত্যাগ করেছি। ১৯ সেপ্টেম্বর গ্লোবাল সমুদ ফ্লোটিলায় যাত্রাপথে থাকাকালীন আমি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।’ তবে দলটি এখনো তার পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দলের ভেতরে নীতিনিষ্ঠ অবস্থান ও নাগরিক স্বাধীনতার পক্ষে সরব ভূমিকায় পরিচিত এই নেতা বলেন, পদত্যাগ তার জীবনের এক আবেগঘন মুহূর্ত ছিল। ‘সেদিন রাতে আমি কেঁদেছিলাম, যেমন কেঁদেছিলাম আমার মা মারা যাওয়ার রাতে,’ বলেন মুশতাক।

তিনি আরও বলেন, এখনই তিনি কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন না। তার মতে, ‘রাজনৈতিক সংগঠনের কাঠামোর ভেতরে অনেক সীমাবদ্ধতা থাকে, কখনও কখনও স্বাধীনভাবে কাজ করাই প্রয়োজন।’ ‘আমি মানবাধিকার, গণতন্ত্র, স্বাধীন গণমাধ্যম, ড. আফিয়া সিদ্দিকীর মুক্তি, ফিলিস্তিনের ন্যায়বিচার এবং পাকিস্তানের প্রদেশগুলোর সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে চাই,’ বলেন তিনি।

মুশতাক স্বীকার করেন, জামায়াতের ভেতরে গত কয়েক বছরে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য ছিল, তবে তা ব্যক্তিগত কোনো বিরোধে পরিণত হয়নি। ‘দলের ভেতরে কিছু বিষয়ে ভিন্নমত ছিল, কিন্তু আমার কারও সঙ্গে কোনো রাগ বা শত্রুতা নেই,’ বলেন তিনি।

জামায়াতের আমির হাফিজ নাঈমুর রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘হাফিজ নাঈমুর রহমান একজন নেতা; তাঁর সঙ্গে আমার কোনো মতবিরোধ নেই। আমি চাই, আমার আর জামায়াতের মধ্যে কোনো সমস্যা না থাকুক, আর আমার কারণে দলটিরও কোনো সমস্যার সৃষ্টি না হোক।’

পদত্যাগের পাশাপাশি মুশতাক আহমদ এক নতুন জনআন্দোলন গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান। তিনি বলেন, ‘আমি সারা পাকিস্তানে এক লাখ ফিলিস্তিন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছি, যাতে সাধারণ মানুষ ফিলিস্তিনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে।’

ইসরাইলি বাহিনীকে ‘কাগুজে বাঘ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, গ্লোবাল সমুদ ফ্লোটিলায় যাত্রা ও পরবর্তীতে ইসরাইলে আটক অবস্থায় তিনি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা ছিল এক কঠিন ধৈর্য ও বিশ্বাসের পরীক্ষা।

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিলম্বিত প্রতিক্রিয়ারও সমালোচনা করে বলেন, ‘গাজায় যুদ্ধবিরতি যদি দুই বছর আগে হতো, সেটাই হতো প্রকৃত সাফল্য। এখনকার এই ফলাফলের কৃতিত্ব হামাসেরই, কারণ তাদের সংগ্রাম অদম্য।’

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৩০৪১

আন্তর্জাতিক

নেতানিয়াহুর হুমকি, কাতারের পর এবার চীনে হামলা করবে ইসরাইল

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মাঝেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবার সরাসরি চীনকে জড়িয়েছেন। কাতারে হামলার পর এবার চীনের বিরুদ্ধেও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নেতাদের কাছে নেতানিয়াহু চীনের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলে একটি সতর্কবার্তা দেন। নেতানিয়াহুর অভিযোগ ও কৌশলগত হুমকি নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন যে, চীনের সামরিক ও কূটনৈতিক […]

নেতানিয়াহুর হুমকি, কাতারের পর এবার চীনে হামলা করবে ইসরাইল

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৩২

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মাঝেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবার সরাসরি চীনকে জড়িয়েছেন। কাতারে হামলার পর এবার চীনের বিরুদ্ধেও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নেতাদের কাছে নেতানিয়াহু চীনের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলে একটি সতর্কবার্তা দেন।

নেতানিয়াহুর অভিযোগ ও কৌশলগত হুমকি

নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন যে, চীনের সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে এবং এর বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তার মতে, চীন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি সুসংগঠিত কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক আক্রমণ চালাচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও অর্থনৈতিক মঞ্চে ইসরায়েলের সমর্থন কমানোর চেষ্টা করছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “ইরান যেমন আঞ্চলিক মিত্রদের ব্যবহার করে ইসরায়েলকে ঘিরে ফেলতে চেয়েছিল, ঠিক তেমনি চীন তথ্য ও রাজনৈতিক যুদ্ধের মাধ্যমে ইসরায়েলকে ঘিরে ফেলছে।” নেতানিয়াহু মনে করেন, এটি শুধু তথ্যযুদ্ধ নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত কৌশল, যার লক্ষ্য ইসরায়েলের মিত্রদের দূরে সরিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি করা।

সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা

বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতানিয়াহুর এই হুশিয়ারি কেবল কূটনীতি বা বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। চীনের সঙ্গে সামরিক সংঘাতও ইসরায়েলের সম্ভাব্য পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে। কাতারে হামলার পর চীনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা এখন ইসরায়েলের নিরাপত্তা কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নেতানিয়াহু আগে থেকেই চীনের কৌশলকে ইরানের আঞ্চলিক অবরোধ কৌশলের মতো উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করছেন, চীন তার সামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক প্রভাব ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ত্রাণ ও সমর্থন কমানোর চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতানিয়াহু চীনের সম্ভাব্য প্রভাবকে অবমূল্যায়ন করতে চান না, বরং তাৎক্ষণিক এবং শক্তিশালী প্রতিরোধ তৈরি করতে চাইছেন। চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার মোকাবিলায় ইসরায়েল কৌশলগত হুমকি হিসেবে সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে।

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি ও ঝুঁকি

যদি ইসরায়েল চীনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়, তবে এর প্রভাব শুধু চীনের ওপরই পড়বে না, বরং পুরো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অচল করে দিতে পারে। যুদ্ধ বিশ্লেষকদের ধারণা, চীনের সামরিক শক্তির কাছে ইসরায়েল কোনোভাবেই অবস্থান করতে পারবে না।

চীন-ইসরায়েল সংঘাত বিশ্বের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় সংকটের সূচনা করতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও জটিল এবং বহুগুণ বিস্তৃত করার সম্ভাবনা রাখে। আন্তর্জাতিক মহল এখন এই নতুন ও সম্ভাব্য আক্রমণাত্মক পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৩০৪১