জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের চতুর্থ দিনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বক্তব্য শুরু করতেই একের পর এক কূটনীতিক সভাকক্ষ ত্যাগ করেন। গাজায় চলমান যুদ্ধ ও গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য প্রতিবাদের এই ঘটনা আরব বিশ্ব থেকে শুরু করে ইসরায়েলের ভেতরের গণমাধ্যম পর্যন্ত তীব্র আলোড়ন তোলে।
আল-জাজিরা ও একাধিক আরব গণমাধ্যম যেমন এই পদক্ষেপকে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে প্রচার করেছে, তেমনি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ সংবাদমাধ্যমও ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছে। পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন বছর ধরে চলমান যুদ্ধ ও গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে এটি ছিল স্পষ্ট বার্তা। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ মন্তব্য করেছে, নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বহু কূটনীতিকের ওয়াকআউট বিশ্ববাসীর দৃষ্টিভঙ্গির নগ্ন প্রতিফলন। তারা স্পষ্ট করে বলেছে, “নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরুর সময় ডজনেরও বেশি কূটনীতিক কক্ষ ত্যাগ করল, এটি আসলে আমাদের মুখের ওপর থুতু দেওয়ার মতো।”
ইসরায়েলি মিডিয়ার তথ্যমতে, নেতানিয়াহুর বক্তৃতার সময় প্রায় ফাঁকা হয়ে যায় সভাকক্ষ। বিব্রত পরিস্থিতি সামাল দিতে ইসরায়েলি প্রতিনিধিদল দাঁড়িয়ে হাততালি দিতে শুরু করে। চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদক ঘটনাটিকে আরও তীব্রভাবে বর্ণনা করে বলেন,
“এটি শুধু নেতানিয়াহুর নয়, পুরো ইসরায়েলের মুখে থুতু ফেলার সমান।” ইসরায়েলের একাধিক সংবাদমাধ্যম নেতানিয়াহুর ভাষণকে দুর্বল, অগোছালো ও ফলশূন্য বলে আখ্যা দিয়েছে।
আল-জাজিরা “প্রায় খালি হলের সামনে নেতানিয়াহুর বক্তৃতা” শিরোনামে প্রচার করে জানায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযুক্ত এই নেতার ভাষণ ইসরায়েলি মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে। একই সময়ে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের বাইরে ইসরায়েলি বন্দিদের পরিবার বিক্ষোভ করছিল, আর ফিলিস্তিনপন্থি সমাবেশে প্রতিবাদকারীরা গাজার যুদ্ধের অবসান দাবি করে ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে স্লোগান তোলে।
আল-কুদস আল-আরাবি পত্রিকা লিখেছে, নেতানিয়াহুর ভাষণ ছিল “পুরোনো প্রতারণা”, যা ইসরায়েলের বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তাদের মতে, তিনি কোনো রাষ্ট্রনায়কের মতো নয়, বরং একজন দলের প্রধানের মতো বক্তব্য রেখেছেন। হিব্রু দৈনিক ইদিয়োত আহারনোতও স্বীকার করেছে, বিশ্বনেতাদের ওয়াকআউট প্রমাণ করেছে যে আজকের দিনে ইসরায়েল ক্রমেই বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।
শুক্রবার রাতে নেতানিয়াহুর বক্তব্য শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও নেতা বিদ্রূপ, শোরগোল এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে কক্ষ ত্যাগ করেন। ইসরায়েলি সাংবাদিক বারাক রাভিদ তার প্রতিবেদনে সেই দৃশ্য তুলে ধরে লেখেন, “জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের হল এখন প্রায় খালি।”
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?