লাদাখে পুলিশের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষে ছাত্রসহ চারজন নিহত হওয়ার পর রাজধানী লেহ ও কারগিল জেলায় কারফিউ জারি করেছে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী। বৃহস্পতিবার বিবিসি এ তথ্য প্রকাশ করে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবারের সহিংসতায় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ক্ষমতাসীন বিজেপির একটি স্থানীয় অফিসও পুড়িয়ে ফেলে। কেন্দ্রীয় সরকার বিক্ষোভের নেতৃত্বদানকারী সোনম ওয়াংচুককে সহিংসতা উসকে দেওয়ার জন্য দায়ী করেছে। তবে ওয়াংচুক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
২০১৯ সালে বিজেপি সরকার জম্মু-কাশ্মীর ভেঙে লাদাখকে আলাদা করে সরাসরি কেন্দ্রের অধীনে নিয়ে যায়। এর ফলে লাদাখ তার আধা-স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা হারায়। প্রায় তিন লাখ মানুষের এই সীমান্তবর্তী অঞ্চলের একদিকে চীন, অন্যদিকে পাকিস্তান থাকায় নয়াদিল্লির কাছে এর কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি। লেহ মূলত বৌদ্ধ অধ্যুষিত, আর কারগিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। ঐতিহাসিকভাবে কারগিল কাশ্মীরের সঙ্গে একীভূত হওয়ার দাবি তুলেছিল, অন্যদিকে লেহ কয়েক দশক ধরে আলাদা রাজ্যের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু ২০১৯ সালের পর থেকে দুই সম্প্রদায়ই লাদাখের রাজ্যত্ব ফেরত আনার দাবি নিয়ে একজোট হয়েছে। পাশাপাশি তারা জমি ও চাকরির ওপর নিয়ন্ত্রণসহ বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন চাইছে।
বুধবার রাতেই ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে ওয়াংচুককে দায়ী করে জানায়, তিনি অনশন চালিয়ে গেছেন এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করতে আরব বসন্ত ও নেপালের জেন-জি আন্দোলনের উদাহরণ টেনেছেন। মন্ত্রণালয়ের দাবি, বিক্ষোভকারীরা বিজেপির স্থানীয় কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে এবং পুলিশের গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, এতে কমপক্ষে ৩০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পুলিশ গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে, এতে অনেক বিক্ষোভকারী আহত হন। গুরুতর আহত চারজন পরে মারা যান।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, আত্মরক্ষার জন্যই পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিল এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে প্রভাবশালী ধর্মীয় সংগঠন লাদাখ বৌদ্ধ সমিতির প্রধান ছেরিং দর্জে লাকরুক বলেন, তরুণরা সহিংসতা চায় না। কিন্তু সরকারের টালবাহানা ও বেকারত্ব বেড়ে যাওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা চরমে উঠেছে। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণ যখন অনশনে ছিল, তখন সরকার আলোচনার জন্য দূরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করে তাদের আরও ক্ষুব্ধ করেছে।
প্রসঙ্গত, লাদাখে ভারতের ব্যাপক সেনা মোতায়েন রয়েছে। ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন ভারতীয় ও চারজন চীনা সেনা নিহত হয়েছিল।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?