ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতেমি বলেছেন, ইরানের সামরিক বাহিনী ও আইআরজিসি’র যোদ্ধারা শত্রুর সামান্যতম আগ্রাসনের ক্ষেত্রেও দ্রুততম সময়ে বুদ্ধিদীপ্ত, শক্তিশালী ও সমন্বিত জবাব দেবে এবং যদি শত্রুরা আবারও ভুল করে বসে তাহলে এমন কঠোর জবাব দেওয়া হবে যাতে তারা অনুতাপ করতে বাধ্য হবে। পবিত্র প্রতিরক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে আইআরজিসি প্রধান মেজার জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর সেনাবাহিনীর প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে মেজর জেনারেল হাতেমির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং এই প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেন।
মেজর জেনারেল হাতেমি সংবাদ সম্মেলন ও বৈঠকে ইরানি জাতির স্বাধীনতাকামী মনোভাবের কথা তুলে ধরে বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও ইরানি জনগণ ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের পর থেকে ন্যায্য দাবি অর্থাৎ “স্বাধীনতা, মুক্তি ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র”কে তাদের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছে। তিনি বলেন, এই ন্যায্য দাবি শত্রুরা সহ্য করতে পারে না এবং বিপ্লবের সূচনালগ্ন থেকেই শত্রুরা চেষ্টা করেছে ইরানি জাতিকে তাদের ন্যায্য দাবিসমূহ থেকে সরে যেতে প্ররোচিত করতে।
হাতেমি দৃঢ়ভাষণে বলেন, ইরানের জনগণ নানা সংকট ও সমস্যা কাটিয়ে উঠেছে এবং অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে শত্রুর প্রতি রুখে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরো বলেন,
“আমাদের জনগণ ভবিষ্যতেও শত্রুকে রুখে দেবে।” তার এই মন্তব্যে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামরিক মহলে জোরালো প্রতিক্রিয়া স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। মেজর জেনারেল হাতেমি স্ট্র্যাটেজিক সতর্কতায় জোর দিয়ে সতর্ক করেছেন যে, ইরান তৎপরতা ও প্রতিরোধে নরম থাকবে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন কড়া ভাষা এবং জোরদার সামরিক প্রস্তুতির ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বাতাবরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইরানের সর্তকতা ও উত্তেজক বিবৃতি প্রতিবেশী দেশগুলোর পাশাপাশি পশ্চিমা শক্তি তথা মার্কিন নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর নজরও আকর্ষণ করবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য ও কুটনৈতিক সম্পর্কের জটিলতা বিবেচনায় এসব বক্তব্য নতুন উদ্বেগ তৈরির কারণ।
ইরানের সামরিক শীর্ষ নেতৃত্বের এই ঘনিষ্ঠ বৈঠক ও শক্তিমত্তার দৃশ্যপট আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। তারা মনে করাচ্ছেন, কড়া ভাষা এবং প্রতিরোধমূলক প্রতিশ্রুতি যদি কূটনৈতিক পথ ও সংলাপের বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তাহলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। একই সঙ্গে ইরানের বক্তব্যটি দেশটির ভীতরে নিরাপত্তা ও জাতীয় ঐক্যের প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
রিজার্ভেশনহীন প্রতিরোধ ও প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়ার হুমকি জারি করে মেজর জেনারেল হাতেমি ইরানের অবস্থান চাপিয়ে দিয়েছেন যে, দেশটির নিরাপত্তা নীতি প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগে পিছপা হবে না। এ ধরনের জোরালো প্রতিশ্রুতি অঞ্চলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন সংকটের সূচনা ঘটাতে পারে।
প্রকাশিত বিবৃতিতে মেজর জেনারেল হাতেমি শত্রুদের প্রতি একটি বার্তাও দেন যে, তারা তাদের অপরিপক্ব নীতিভঙ্গ থেকে ফিরে পেরে নিতে পারে এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো উচিত। তিনি বলেন, শত্রুরা ভুলের মধ্যে রয়েছে এবং তাদের উচিত ইরানের জনগণ, ইসলামী শাসন ব্যবস্থা এবং ইসলামী বিপ্লব সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, কড়া সামরিক বক্তব্য ও প্রস্তুতি যদি কূটনৈতিক সংলাপের বিকল্প হয়ে ওঠে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য তা বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে। সেই সঙ্গে প্রতিপক্ষের প্রতিক্রিয়া হিসেবে আরও তীব্র প্রতিরোধ ও জবাব দিতে পারে, যা সীমান্তবর্তী উত্তেজনা ও সামরিক ঘটনায় রূপ নিতে পারে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?