পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব। দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়ে এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কাতারভিত্তিক আল জাজিরা জানিয়েছে, বুধবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়—এই চুক্তি উভয় দেশের নিরাপত্তা জোরদার এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি-স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার অভিন্ন প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।
চুক্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনো একটি দেশের ওপর আগ্রাসন মানে উভয় দেশের ওপরই আগ্রাসন। অর্থাৎ, পাকিস্তান বা সৌদি আরব—যে কোনো এক দেশ আক্রান্ত হলে সেটিকে যৌথভাবে মোকাবিলা করা হবে। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এ চুক্তিকে দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব ও অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত বলে উল্লেখ করেছে। প্রায় আট দশক ধরে চলে আসা ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হলো।
তবে রিয়াদ-ইসলামাবাদ সম্পর্কের এই নতুন অধ্যায় নয়াদিল্লিকে গভীরভাবে চিন্তিত করছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে তা খতিয়ে দেখছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, দীর্ঘদিনের অনানুষ্ঠানিক সমঝোতাকে এখন আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। তবে ভারত সর্বদা জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এ বিষয়ে সর্বস্তরে সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী থাকবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের এই পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে ভারতের জন্য এটি নতুন এক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। ইসলামাবাদ-রিয়াদ ঘনিষ্ঠতা যদি সামরিক পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতায় পরিণত হয়, তবে তা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন ডেকে আনবে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?