মধ্যপ্রাচ্যের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে দোহায় ইসরায়েলি হামলার মধ্য দিয়ে। গত ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানীতে চালানো এই হামলায় পাঁচজন হামাস নেতা এবং একজন কাতারি নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একে সরাসরি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে ধিক্কার জানানো হচ্ছে। আরব বিশ্বে এটি কেবল রাজনৈতিক আক্রমণ নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনার পর ইসলামি সামরিক জোট বা ইসলামিক আর্মি গঠনের প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল সুদানি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মুসলিম দেশগুলোর আত্মরক্ষার জন্য যৌথ সামরিক বাহিনী গঠন এখন সময়ের দাবি। তিনি সতর্ক করে দেন, দোহায় যা ঘটেছে তা এখানেই থেমে থাকবে না, বরং পুরো অঞ্চলে প্রভাব ফেলবে। তার মতে, আরব ও ইসলামি দেশগুলো চাইলে সামরিক শক্তির পাশাপাশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বেও ঐক্যবদ্ধ হতে পারে।
ইসলামি আর্মির পুরনো ধারণা
এ উদ্যোগ নতুন নয়। প্রায় এক দশক আগে মিসর যৌথ আরব বাহিনী গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে তা অকার্যকর হয়ে যায়। এখন দোহা হামলার পর আবারও প্রশ্ন উঠছে— মুসলিম বিশ্ব কি সত্যিই একটি যৌথ সামরিক শক্তি গড়তে পারবে? আসন্ন দোহা সম্মেলনে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপসাগরীয় রাজনীতির টানাপোড়েন
ইসরায়েলের এই হামলায় সবচেয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে উপসাগরীয় মিত্র রাষ্ট্রগুলো। সংযুক্ত আরব আমিরাত, যারা ২০২০ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে, এখন বড় পরীক্ষার মুখে। পাশাপাশি সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান, কাতার—সব দেশই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বাধ্য হচ্ছে। একদিকে পশ্চিমা জোটের সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা, অন্যদিকে মুসলিম ঐক্যের চাপে সাড়া দেওয়া—এই দ্বন্দ্ব এখন তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
ফিলিস্তিন ইস্যু
হামলার লক্ষ্য ছিল হামাসের নেতৃত্ব, কিন্তু এর মূল বার্তা ফিলিস্তিনের মুক্তি সংগ্রামের দিকেই নির্দেশ করছে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর মতে, গাজায় চলমান হত্যাযজ্ঞই মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ। আরব তরুণ প্রজন্ম এখন সামাজিক মাধ্যমে ইসলামি আর্মির দাবিতে সরব।
বড় চ্যালেঞ্জগুলো
ইসলামি আর্মি গঠনে তিনটি বড় বাধা সামনে রয়েছে—
১. আরব দেশগুলোর রাজনৈতিক বিভক্তি (সৌদি-ইরান প্রতিদ্বন্দ্বিতা, কাতার অবরোধ ইত্যাদি)।
২. ভিন্ন ভিন্ন সামরিক জোট ও তাদের অবস্থান (ন্যাটোর মিত্ররা কতটা সক্রিয় হবে তা প্রশ্নসাপেক্ষ)।
৩. অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত বৈষম্য।
পরিশেষে
দোহা হামলা প্রমাণ করেছে, ইসরায়েল এখন কেবল গাজা বা লেবাননেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সরাসরি অন্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকেও আক্রমণ করছে। ফলে ইসলামি সামরিক জোট আর শুধু রাজনৈতিক প্রতীক নয়, বাস্তব চাহিদা হিসেবেই সামনে এসেছে। মুসলিম বিশ্ব কি ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক শক্তিশালী যৌথ বাহিনী গঠন করবে, নাকি আবারও বিভাজন ও কূটনৈতিক দ্বিধায় থেমে যাবে—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন। তবে ইতিহাস বলছে, আগ্রাসন সীমা ছাড়িয়ে গেলে ঐক্যের আহ্বান আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?