ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্য আরও একবার আদালতের রায়ে অমীমাংসিত রইল। দিল্লি হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাধ্য নয় মোদির ডিগ্রি প্রকাশ করতে। একইভাবে সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানির দশম-দ্বাদশ শ্রেণির ফলাফল প্রকাশেরও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আদালতের যুক্তি—শিক্ষাগত যোগ্যতা ব্যক্তিগত তথ্যের অন্তর্ভুক্ত, তা তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতায় পড়ে না।
বছরের পর বছর ধরে মোদির ডিগ্রি নিয়ে বিতর্ক জিইয়ে আছে। কখনো নির্বাচনী হলফনামায় ‘এন্টায়ার পলিটিক্যাল সায়েন্স’–এ স্নাতক দাবি করেছেন, আবার এমএ–তে প্রথম শ্রেণির কথাও বলেছেন। অথচ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কোনো বিষয় ছিল না। এমনকি তার স্নাতক ডিগ্রির সার্টিফিকেট নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে—যে হরফে ছাপা হয়েছিল তা নাকি তৈরি হয়েছিল ১৯৯২ সালে, অথচ তিনি ডিগ্রি নিয়েছিলেন ১৯৭৮ সালে বলে দাবি করেন।
প্রশ্ন উঠেছিল স্মৃতি ইরানির নিয়েও। তাঁর স্কুলের পরীক্ষার ফল ঘিরে তথ্য জানার অধিকার আইনে আবেদন করা হলেও সিবিএসই প্রকাশ করতে অস্বীকার করে। শেষ পর্যন্ত আদালতও জানাল, এগুলো জনস্বার্থ নয়, একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়।
অরবিন্দ কেজরিওয়ালও একসময় মোদির ডিগ্রি প্রকাশে জোর দিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়কে তা প্রকাশের নির্দেশ দিলেও বিশ্ববিদ্যালয় মানতে অস্বীকার করে। পরে গুজরাট হাইকোর্ট শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে রায় দেয়নি, বরং কেজরিওয়ালকে ‘মূল্যবান সময় নষ্টের’ অভিযোগে জরিমানাও করে।
তাই এখনও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর অন্ধকারেই থেকে গেল। আদালতের সর্বশেষ রায় আরও একবার এই রহস্যকে জীবিত রাখল, যা নিঃসন্দেহে রাজনৈতিকভাবে আগামী দিনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?