মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

শত্রুরা বুঝতে পেরেছে যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানি জাতিকে নতজানু করা যাবে না: সর্বোচ্চ নেতা

সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা জোর দিয়ে বলেছেন: জনগণ, কর্মকর্তা এবং সশস্ত্র বাহিনীর ইস্পাত কঠিন ঐক্যকে বিনষ্ট করা যাবে না। আজ, শনিবার সকালে, বিশ্বের শিয়া মুসলমানদের অষ্টম ইমাম হযরত আলী ইবনে মুসা আল-রেজা (আ.)-এর শাহাদাত বার্ষিকীতে, বিভিন্ন স্তরের হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এক ভাষণে, ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা “আহলে বাইতের চিন্তাধারার অসাধারণ […]

শত্রুরা বুঝতে পেরেছে যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানি জাতিকে নতজানু করা যাবে না: সর্বোচ্চ নেতা

শত্রুরা বুঝতে পেরেছে যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানি জাতিকে নতজানু করা যাবে না: সর্বোচ্চ নেতা

এডিটর

২৬ আগস্ট ২০২৫, ১১:০৪

সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা জোর দিয়ে বলেছেন: জনগণ, কর্মকর্তা এবং সশস্ত্র বাহিনীর ইস্পাত কঠিন ঐক্যকে বিনষ্ট করা যাবে না।

আজ, শনিবার সকালে, বিশ্বের শিয়া মুসলমানদের অষ্টম ইমাম হযরত আলী ইবনে মুসা আল-রেজা (আ.)-এর শাহাদাত বার্ষিকীতে, বিভিন্ন স্তরের হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এক ভাষণে, ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা “আহলে বাইতের চিন্তাধারার অসাধারণ প্রসার” এবং “আশুরার শিক্ষার বিস্তার ও মুসলিম বিশ্বে ইমাম হোসাইনের অভ্যুত্থানের দর্শন”কে অষ্টম ইমামের খোরাসান সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেয়ামত বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি বর্তমানে চলমান কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ইরানের শত্রুরা আমাদের জনগণ, কর্মকর্তা ও সশস্ত্র বাহিনীর সুদৃঢ় ঐক্য এবং সামরিক শক্তি ও পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা দেখে বুঝতে পেরেছে যে যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানি জাতি এবং ইসলামী শাসন ব্যবস্থাকে নতজানু করা যাবে না। তাই, তারা এখন ইরানের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি করে সরকারকে নতজানু করার লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে। কিন্তু আমাদেরকে সমস্ত শক্তি দিয়ে “জাতির পবিত্রতা ও মহান ঐক্যকে ধরে রাখতে হবে এবং শক্তিশালী করতে হবে।

পার্সটুডে জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী তার ভাষণের প্রথম অংশে, অষ্টম ইমামকে সমগ্র মানবতার জন্য, বিশেষ করে ইরানিদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ইমাম রেজার খোরাসানে আগমণের অসামান্য প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বলেছেন: শহীদদের নেতা ইমাম হোসেন (আ.)-এর শাহাদাতের পর ইমাম রেজার এই অঞ্চলে আগমণের ফলে দীর্ঘকাল ধরে বিচ্ছিন্ন ও নির্যাতিত আহলে বাইতের অনুসারীরা বিচ্ছিন্নতা থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং শিয়ারা তথা আহলে বাইতের অনুসারীরা এমনভাবে প্রাণ ফিরে পেয়েছে যা ইতিহাসে শিয়া চিন্তাধারাকে সংরক্ষণ করতে এবং প্রতিদিন আহলে বাইত ও তাদের অনুসারীদের প্রভাব বিস্তারে ভূমিকা রেখেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা অষ্টম ইমামের খোরাসান সফরের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হিসেবে আশুরার চেতনা আরো শক্তিশালী হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন: আশুরা বিপ্লবের প্রতি জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হযরত আলী ইবনে মুসা আল-রেজা (আ.) অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার এবং মুসলিম সমাজে অসৎ ও দুর্নীতিগ্রস্তদের মেনে না নেয়ার আহ্বান জানান। এভাবে তিনি জনগণের মধ্যে ইসলামের অনেক সামাজিক শিক্ষার ব্যাখ্যা এবং প্রচারের পথ প্রশস্ত করেছিলেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তাঁর বক্তৃতায়, সম্প্রতি ইসরায়েলের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধে ইরানি জাতির পূর্ণ শক্তি ও দৃঢ়তাকে আমাদের দ্বিগুণ মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ হিসাবে উল্লেখ করে প্রশ্ন করেছেন: গত ৪৫ বছর ধরে ইরানের প্রতি আমেরিকার সব সরকারের শত্রুতার কারণ আসলে কী?

আপাতদৃষ্টিতে সহজ কিন্তু জটিল এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন: অতীতে, আমেরিকানরা সন্ত্রাসবাদ, মানবাধিকার, গণতন্ত্র, নারী প্রভৃতি বিষয়কে অজুহাত করে তারা শত্রুতার আসল কারণ লুকিয়ে রেখেছিল, অথবা তারা খুব বেশি হলে ভদ্রভাবে এটা বলতো যে তারা ইরানের আচরণ পরিবর্তন করতে চায়, কিন্তু আজ আমেরিকার ক্ষমতায় থাকা এই ব্যক্তি ইরানের প্রতি শত্রুতার আসল কারণ প্রকাশ্যে এনেছেন এবং বলেছেন, “আমরা চাই ইরান আমাদের কথা শুনুক। অর্থাৎ আমরা আসলে চাই ইরানি জাতি এবং ইসলামী সরকার আমাদের নির্দেশ মেনে চলুক।

মার্কিন সরকারের এই অশুভ লক্ষ্য গভীরভাবে বোঝার ওপর গুরুত্বারোপ করে ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা বলেন: তারা চায় ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ ইরানের মতো একটি মর্যাদাবান ও গর্বিত জাতি আমেরিকার আদেশ মেনে চলুক।

যারা বলে যে মার্কিন সরকারের ক্রোধ এবং শত্রুতার কারণ ইরানি জাতির (আমেরিকা বিরোধী) স্লোগান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তাদেরকে অতি সরলমনা বলে অভিহিত করে আরও বলেছেন: যারা বলে, “কেন তোমরা আমেরিকার সাথে সরাসরি আলোচনা করো না এবং সমস্যার সমাধান করো না?” তারা আসলে খুবই সরল মানুষ, কারণ সাদা চোখে আমরা যা দেখি তার বাইরে অন্য কারণ রয়েছে এবং যেসব বিষয় নিয়ে এতো শত্রুতা তা সমাধানযোগ্য নয়।

আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ইরানি জাতিকে নতজানু হয়ে আমেরিকার কথা মেনে চলার দাবিকে ইরানিদের জন্য অপমানজনক বলে অভিহিত করে বলেছেন: ইরানি জাতি এই ধরণের কুৎসিত ও অপমানজনক দাবিতে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ এবং এর বিরুদ্ধে তারা শক্ত অবস্থান নেবে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধের আসল কারণকে আমেরিকার ওই প্রত্যাশা বা দাবি আদায়ের চেষ্টা হিসাবে উল্লেখ করে বলেন: তারা ইরানকে ধ্বংস করতে ইসরায়েলকে উস্কে দিয়েছে এবং সর্বাত্মক সাহায্য করেছে। কিন্তু তারা কল্পনাও করেনি যে ইরানি জাতি তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে এবং এমন আঘাত হানবে যে তারা অনুতপ্ত হবে।

যুদ্ধ শুরুর একদিন পর, ইরানের ইসলামি সরকার উৎখাত হওয়ার পর নতুন সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনা করার জন্য ইউরোপে বেশ কয়েকজন আমেরিকান ভাড়াটে এজেন্টের সমবেত হওয়ার কথা উল্লেখ করে বিপ্লবের নেতা বলেন: তারা তাদের বোকামি ও হাস্যকর লক্ষ্য অর্জনে এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিল যে আক্রমণ শুরুর একদিন পরেই তারা ইরানে নতুন সরকার গঠনের জন্য সভা করে একজন রাজা নিযুক্ত করে।

ওই বোকাদের মধ্যে একজন ইরানীর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন: ‘লজ্জা হওয়া উচিত সেই ইরানীর যে তার দেশের বিরুদ্ধে এবং ইহুদিবাদ এবং আমেরিকার পক্ষে কাজ করে।’

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা জনগণ এবং সরকারের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করাকে আমাদের শত্রু এবং তাদের অনুচরদের আরেকটি ভ্রান্ত ধারণা হিসাবে উল্লেখ করে বলেছেন: সরকার এবং সশস্ত্র বাহিনীর পাশে থেকে জনগণ শত্রুর মুখে চপেটাঘাত করেছে।

সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি প্রদর্শন শত্রুদের সব হিসাব নিকাশ পাল্টে দিয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন: “আমরা এবং সমগ্র ইরানি জাতি সশস্ত্র বাহিনীর কাছে কৃতজ্ঞ এবং ইরান, সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি ও সক্ষমতা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে।”

আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে ইরানকে নতজানু করতে শত্রুরা ব্যর্থ হয়েছে জানিয়ে বলেন: “এই শত্রুতা সত্ত্বেও, গত ৪৫ বছরে ইসলামী ইরান দিন দিন শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এবং শত্রুরা ইরানকে সামরিক উপায়ে কাবু করতে পারবে না জেনে এখন ইরানের অভ্যন্তরে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে।”

তিনি বলেন, আজ আল্লাহর রহমতে জনগণ ঐক্যবদ্ধ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা ক্ষেত্রে মতভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও, তারা ইসলামি সরকার ব্যবস্থা ও দেশকে রক্ষা করার এবং শত্রুর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে ঐক্যবদ্ধ। তিনি জাতীয় ঐক্য রক্ষা করাকে একটি সার্বজনীন কর্তব্য বলে উল্লেখ করেন।

বিপ্লবের নেতা ইহুদিবাদী ইসরায়েলকে বিশ্বের সবচেয়ে ঘৃণ্য শাসনব্যবস্থা হিসাবে অভিহিত করে বলেছেন: আজ, এমনকি ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্সের মতো পশ্চিমা সরকারগুলো, যারা সবসময় ইসরায়েলকে সমর্থন করে আসছে, তারাও ইসরায়েলকে নিন্দা করছে; যদিও এই নিন্দাজ্ঞাপন লোক দেখানো এবং অর্থহীন।

তিনি বলেন, ইসরায়েলি নেতাদের বর্তমান অপরাধী কর্মকাণ্ড যেমন অনাহারে ও তৃষ্ণার্ত রেখে শিশুদের হত্যা করা এবং খাবারের জন্য লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করা যা মানব ইতিহাসে নজিরবিহীন। তিনি বলেন আমাদের অবশ্যই এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে; অবশ্য, মুখে নিন্দা জানিয়ে কোনও লাভ নেই বরং, ইয়েমেনের সাহসী জনগণের মতো আমাদের অবশ্যই ইসরায়েলে সব দিক থেকে সাহায্য আসার পথ বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

পরিশেষে, আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী এই বিষয়ে যেকোনো সম্ভাব্য পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ইরানের প্রস্তুতি ঘোষণা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে সর্বশক্তিমান আল্লাহর সহায়তায় ইরানী জাতি এবং বিশ্বের সমস্ত ন্যায়পরায় শক্তি , এই অঞ্চল থেকে ইসরায়েল নামক মারাত্মক ক্যান্সারকে উৎপাটন করবে এবং মুসলিম জাতিগুলো জাগ্রত ও ঐক্যবদ্ধ হবে।

সূত্রঃ পার্সটুডে

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৫৬৭

আন্তর্জাতিক

পৃথিবীর প্রথম দেশ হিসেবে ইলন মাস্কের স্টারলিংক অচল করে দিলো ইরান

ইরানে সরকারিভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার পর সেখানে স্টারলিংক ইন্টারনেট পাঠান মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তবে সামরিক জ্যামার ব্যবহার করে সেই স্টারলিংক সংযোগ কার্যত অচল করে দিয়েছে ইরান। স্যাটেলাইটভিত্তিক এই ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নেওয়া পদক্ষেপে দেশজুড়ে ব্ল্যাকআউট আরও গভীর হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

নিউজ ডেস্ক

১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬:৪৩

ইরানে সরকারিভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার পর সেখানে স্টারলিংক ইন্টারনেট পাঠান মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তবে সামরিক জ্যামার ব্যবহার করে সেই স্টারলিংক সংযোগ কার্যত অচল করে দিয়েছে ইরান। স্যাটেলাইটভিত্তিক এই ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নেওয়া পদক্ষেপে দেশজুড়ে ব্ল্যাকআউট আরও গভীর হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ইরান ওয়্যারের তথ্যের বরাতে মার্কিন বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস জানায়, ইরানের ভেতরে হাজার হাজার স্টারলিংক ইউনিট চালু রয়েছে এমন দাবি শোনা গেলেও বাস্তবে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট স্যাটেলাইট সংযোগকেও গ্রাস করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুরুতে স্টারলিংকের আপলিংক ও ডাউনলিংক ট্র্যাফিকের প্রায় ত্রিশ শতাংশ ব্যাহত হয়েছিল। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেখা যায়, স্টারলিংক ইন্টারনেটের আশিরও বেশি শতাংশ ট্র্যাফিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, আগের ব্ল্যাকআউটগুলোর তুলনায় বর্তমানে ইরানে স্টারলিংক রিসিভারের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। তবে একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরান সরকার কখনোই স্টারলিংক ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি। ফলে এই সেবাটি চালু রাখা ও ব্যবহার করা দেশটির আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্টারলিংক রিসিভার স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে জিপিএস ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে বারো দিনের যুদ্ধের পর থেকেই ইরান জিপিএস সিগন্যাল ব্যাহত করে আসছে। এর ফলে শাটডাউনগুলো অঞ্চলভেদে ভিন্নভাবে কার্যকর হচ্ছে এবং স্টারলিংক সংযোগে খণ্ডিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট দেখা যাচ্ছে।

মিয়ান গ্রুপের আমির রাশিদি টেকরাডারকে বলেন, ‘আমি গত বিশ বছর ধরে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা করছি, কিন্তু জীবনে এমন কিছু কখনো দেখিনি।’ স্টারলিংক ডেটা প্যাকেট পর্যবেক্ষণকারী প্রযুক্তিবিদরাও জানান, স্যাটেলাইট সংযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইরানে স্টারলিংকের ইন্টারনেট পরিষেবা কার্যত ব্যাহত হচ্ছে।

সাম্প্রতিক ইন্টারনেট শাটডাউন নিয়ে বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা সাইমন মিগলিয়ানো ফোর্বসের প্রতিবেদককে বলেন, ‘এই কিল সুইচ পদ্ধতির খরচ অত্যন্ত ভয়াবহ। ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে প্রতি ঘণ্টায় ইরানের অর্থনীতি থেকে পনেরো লাখ ষাট হাজার ডলার খসে যাচ্ছে।’ এই তথ্য ইরানে চলমান যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণের অর্থনৈতিক প্রভাবকেও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৫৬৭

আন্তর্জাতিক

‘আমরা কাতার নই, ওদের নরক দেখিয়ে ছাড়ব’: ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল পাকিস্তান

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’ শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত […]

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ২১:০০

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’

শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেহরানের আশেপাশের অনেক এলাকা। এতে কেঁপে ওঠে পাকিস্তানের দূতাবাসের পাশাপাশি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনও। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলকে এমন হুঁশিয়ারি দিল ইসলামাবাদ ।

জানা গেছে, দূতাবাস বা পাকিস্তানি কূটনীতিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ২৮ দিনে গড়িয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে।

এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ভূমিকা রাখতে চাচ্ছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষ চাইলে তারা আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার পরিকল্পনা আবারও স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, এই হামলার সম্ভাব্য সময়সীমা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৫৬৭

আন্তর্জাতিক

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে আরেক মুসলিম দেশ

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে তারা। মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) চ্যানেল ১২-এর বরাতে ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৫

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে তারা।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) চ্যানেল ১২-এর বরাতে ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে সরাসরি জড়িত না থাকা সত্ত্বেও ইউএই ইতোমধ্যে প্রায় ৮০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ‍সূত্র জানিয়েছে, যদিও ইউএই কোনোভাবেই এই যুদ্ধে অংশ নেয়নি, তবুও দেশটি ৮০০টি হামলা মোকাবিলা করেছে।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই, যারা নিজেদের নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করবে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

এর আগে শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ কামাল আল-হাইদারি মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিহাদের আহ্বান জানিয়েছেন। তার কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আক্রমণগুলো ইরানের সভ্যতা ও ধর্মীয় কর্তৃত্বকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। খবর শাফাক নিউজের।

আল-হাইদারি মুসলমানদের সতর্ক করেছেন, নিজেদের ভূমি, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে এবং ইহুদি ও আমেরিকানদের অহংকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে হবে।

শিয়া ধর্মমতে, এই ধরনের জিহাদ সাধারণত প্রতিরক্ষা ভিত্তিক এবং আক্রমণাত্মক নয়। দ্বাদশ শিয়াদের মধ্যে এই ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা একজন মারজা’ আল-তাকলিদ বা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার কাছে সীমাবদ্ধ।

এর আগে ২০১৪ সালে ইরাকের শীর্ষ শিয়া নেতা আয়াতুল্লাহ আলি আল-সিস্তানি আইএসআইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান করেছিলেন, যা পরে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসে (পিএমই) পরিণত হয়।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৫৬৭