ফিলিস্তিনিদের দুর্ভিক্ষের কিনারায় ঠেলে দেওয়ার পর এবার পানিকেও ‘যুদ্ধাস্ত্র’ বানিয়েছে ইসরাইল। আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার পানির প্রবাহ ইচ্ছাকৃতভাবে সীমিত করে প্রায় ১২ লাখ মানুষকে গাজা সিটি থেকে উৎখাতের নীলনকশা নিয়েছে তেল আবিব।
গাজার পানির নেটওয়ার্ক কার্যত ভেঙে পড়েছে। অধিকাংশ কূপ ধ্বংস হয়ে গেছে, একমাত্র লবণাক্ত পানি শোধনাগার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অচল হয়ে আছে। এখন সাধারণ পরিবারগুলো বেঁচে আছে শুধু ইসরাইলি নিয়ন্ত্রিত মেকোরোট পাইপলাইনের সামান্য সরবরাহের ওপর। ইসরাইলি সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, উত্তর গাজার পানির প্রবাহ কমানোর পরিকল্পনা করছে সরকার, আর দক্ষিণে পাইপলাইন পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে জনগণকে জোর করে দক্ষিণে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এদিকে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ ঘোষণা দিয়েছেন, “বন্দিদের মুক্তি ও অস্ত্র জমা না দিলে গাজার ওপর নরকের দরজা খুলে দেওয়া হবে।” এরই মধ্যে ‘গিডিওনস চারিয়টস ২’ নামে নতুন সামরিক অভিযানের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য গাজা সিটিতে হামলা চালিয়ে জনগণকে উচ্ছেদ করা।
গাজার পৌরসভার মুখপাত্র হোসনি মুহান্না জানান,
“৫৬টি কূপ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, অনেক কূপ জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বন্ধ। এখন মেকোরোট পাইপলাইন থেকে আসছে ৭০ শতাংশ পানি, বাকি ৩০ শতাংশ মাত্র কিছু কূপ থেকে মিলছে।”
তার মতে, মাথাপিছু পানির প্রাপ্যতা নেমে এসেছে দৈনিক ৫ লিটারে, যেখানে বৈশ্বিক ন্যূনতম মান ১০০ লিটার। এর ফলে ১২ লাখের বেশি মানুষ ভয়াবহ তৃষ্ণাজনিত মহামারির ঝুঁকিতে পড়েছে।
অন্যদিকে গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ পরিকল্পনা কার্যত ১২ লাখ মানুষের জন্য মৃত্যুদণ্ড ও গণউচ্ছেদের নির্দেশ, যা ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সমাজকে এখনই জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।
পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেকোরোট পাইপলাইনও বারবার ইসরাইলি হামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে সরবরাহ অস্থির হয়ে পড়ে। হোসনি মুহান্না সতর্ক করে বলেন,
“আরও কাটছাঁট হলে গাজার পানি সরবরাহ পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। লাখো পরিবার ন্যূনতম বেঁচে থাকার পানিও পাবে না।”
তিনি জাতিসংঘ ও রেডক্রসকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান, যাতে ইসরাইল পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করে।
প্রসঙ্গত, ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা ধাপে ধাপে গাজা পুনর্দখলের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। প্রথম ধাপে গাজা সিটির জনগণকে দক্ষিণে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রায় আট লাখ ফিলিস্তিনিকে তথাকথিত ‘মানবিক অঞ্চলে’ স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও ফিল্ড হাসপাতাল তৈরির কথা বলা হয়েছে।
৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৬২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। পুরো গাজা উপত্যকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইতোমধ্যে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরাইলকে গণহত্যার দায়ে বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?