ফিলিস্তিনি লেখক ও পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক আবদুল্লাহ মারুফ সরাসরি সতর্ক করেছেন যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক মন্তব্য শুধুমাত্র ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি নয়, বরং “বৃহৎ ইসরায়েল” প্রতিষ্ঠার একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ঘোষণা, যা আরব বিশ্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
সম্প্রতি টেলিভিশন চ্যানেল i24–এর উপস্থাপক ও ইসরায়েল বেইতেনুর সাবেক পার্লামেন্ট সদস্য শ্যারন গাল নেতানিয়াহুকে একটি প্রতীকী মানচিত্র উপহার দেন—যেখানে নীল নদ থেকে ফোরাত নদী পর্যন্ত ভূখণ্ডকে “বাইবেলীয় ইসরায়েল” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গালের প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু দ্বিধাহীনভাবে দুইবার বলেন, “পুরোপুরি”, যা কার্যত এই সম্প্রসারণবাদী মতবাদকে প্রকাশ্যে সমর্থনের সমান।
আবদুল্লাহ মারুফের মতে, নেতানিয়াহুর এই প্রতিক্রিয়া পরিকল্পিতও হতে পারে, যার উদ্দেশ্য গাজায় হামলা ও দখল নীতির প্রেক্ষাপটে চরমপন্থী ধর্মীয় জায়নিস্টদের সমর্থন আরও দৃঢ় করা। আবার এটাও হতে পারে যে তিনি হঠাৎ প্রশ্নের মুখে ধর্মনিরপেক্ষ ইসরায়েলের ভাবমূর্তি রক্ষা করার বদলে সরাসরি ধর্মীয়-তোরা-ভিত্তিক সম্প্রসারণবাদী অবস্থানকে গ্রহণ করেছেন। এই অবস্থান ইসরায়েলের ঐতিহাসিক “বৃহৎ ইসরায়েল” পরিকল্পনার সঙ্গে মিলে যায়, যা জর্ডান, মিশর, সৌদি আরব, লেবানন, সিরিয়া ও ইরাকের ভূখণ্ডকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
ইতিহাস বলছে, নেতানিয়াহু সাধারণত প্রকাশ্যে এই ধরনের বিতর্কিত ইস্যু এড়িয়ে যান এবং তার মন্ত্রিসভার কট্টর ডানপন্থী সদস্যদের (যেমন বেজালেল স্মোটরিচ বা ইতামার বেন-গভির) উগ্র মন্তব্য থেকে নিজেকে দূরে রাখেন। কিন্তু এবার তিনি সরাসরি সেই অবস্থানকে নিজের বলে ঘোষণা করেছেন, যা কেবল রাজনৈতিক কৌশল নয়—বরং চরমপন্থী ধর্মীয় ইহুদিবাদীদের দীর্ঘদিনের এজেন্ডার সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আবদুল্লাহ মারুফ সতর্ক করে বলেন, এখন আর এই অবস্থানকে ব্যক্তিগত মন্তব্য ভেবে হালকা করে দেখা যাবে না। বরং আরব সরকারগুলোর উচিত এটিকে ইসরায়েলের নতুন নীতি হিসেবে বিবেচনা করা এবং বুঝতে হবে, এটি প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর প্রতি সরাসরি শত্রুতার ঘোষণা। শুধু রাজনৈতিক বিবৃতি বা নিন্দা নয়, বরং বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া এখন জরুরি। তার মতে, আরব-ইসলামী ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট গঠন করে ইসরায়েলের এই অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হবে, আর প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে গাজার অবরোধ ভাঙা। নতুবা এই সংকট দ্রুত গভীরতর আকার ধারণ করবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নতুনভাবে হুমকির মুখে পড়বে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?