পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে নতুন সংযোজন হিসেবে ‘আর্মি রকেট ফোর্স’ নামে একটি বিশেষ ইউনিট গঠনের ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে দেওয়া এই ঘোষণায় তিনি জানান, এই বাহিনী ব্যালিস্টিক, হাইপারসনিক ও ক্রুজ মিসাইলের পাশাপাশি বিভিন্ন পাল্লার রকেটের তত্ত্বাবধান করবে এবং শত্রুপক্ষের যেকোনো আগ্রাসন ঠেকাতে ও পাল্টা আঘাত হানতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করবে।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেন,
“আমি পাকিস্তানের আর্মি রকেট ফোর্স গঠনের ঘোষণা করছি। আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে সজ্জিত সামরিক বাহিনীর এ ইউনিট পাকিস্তানের সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধিতে মাইলফলক সৃষ্টি করবে বলে আমার বিশ্বাস।”
গেল মে মাসে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনায় উভয়পক্ষই একে অপরের ওপর বিভিন্ন ধরণের রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালায়। পাকিস্তান দাবি করে, তারা ভারতের অভ্যন্তরে ‘ফাতাহ’ মিসাইল দিয়ে আঘাত হেনেছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ইসলামাবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আর্মি রকেট ফোর্স’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে চিরবৈরী ভারতের সঙ্গে সামরিক প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করা যায়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এই বাহিনী সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত হবে এবং সেনাবাহিনীর যুদ্ধ-ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। ধারণা করা হচ্ছে, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির রকেট ফোর্সের মডেল অনুসরণ করেই পাকিস্তানের এই নতুন ইউনিট গঠিত হচ্ছে। এর মূল দায়িত্ব হবে বিভিন্ন ধরনের রকেট ও মিসাইল সিস্টেমের তত্ত্বাবধান ও পরিচালনা, যা পাকিস্তানের সামরিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।
উল্লেখযোগ্য যে, ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই পারমাণবিক অস্ত্রধারী পাকিস্তান ও ভারত নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে। এই নতুন রকেট ফোর্স সেই প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলবে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?