পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ভারতের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিন্ধু নদীর পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে। তিনি বলেছেন, যদি ভারত নদীর পানি স্থায়ীভাবে আটকে রাখার পরিকল্পনা করে, তবে পাকিস্তান তাদের ‘উচিত শিক্ষা’ দেবে।
এই মন্তব্য পাকিস্তানের পানি সংক্রান্ত বিরোধ এবং ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে এসেছে, যা দুই দেশের মধ্যে পানির নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সিন্ধু নদীর পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয় গত বছর, যখন ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল ভারতের জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামে এক ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৫ জন ভারতীয় ও এক নেপালি পর্যটক নিহত হন। হামলার দায় পাকিস্তানভিত্তিক এক জঙ্গিগোষ্ঠী স্বীকার করেছিল।
এই ঘটনার পর ভারত পাকিস্তানকে দায়ী করে সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত করে। এর ফলে সিন্ধু, চেনাব ও ঝিলাম নদীর পানি প্রবাহ ব্যাপকভাবে কমে পাকিস্তানের কৃষি ও জনজীবনে বড় ধাক্কা লাগে।
সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিতের পর পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সালিশ আদালতে মামলা করে। ৮ আগস্ট এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়, যেখানে আদালত ভারতকে চুক্তি সচল করতে এবং এর শর্ত অনুযায়ী পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়।
আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভারতের যদি নদীর ওপর বাঁধ বা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের প্রয়োজন হয়, তবে অবশ্যই তা চুক্তির নিয়ম মেনে করতে হবে। ভারত এখন পর্যন্ত এই রায়ের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেনি, কিন্তু পাকিস্তান এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে এবং ভারতকে চুক্তিতে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে জানিয়েছিলেন, ভারতের বাঁধ নির্মাণ শেষ হলে পাকিস্তান ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র মেরে সেটি ধ্বংস করবে। তিনি আরও বলেন, সিন্ধু নদ ভারতীয় সম্পত্তি নয় এবং পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্রের অভাব নেই।
এই সামরিক হুঁশিয়ারির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবার শেহবাজ শরিফও ভারতকে ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
সিন্ধুর পানি নিয়ে এই রাজনৈতিক উত্তেজনা শুধু দুই দেশের মধ্যে জলসীমা নিয়ে দ্বন্দ্ব নয়, এটি কৌশলগত ও নিরাপত্তা বিষয়েও বড় ইস্যু। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারত নদের ভারতীয় অংশে বাঁধ নির্মাণ করবে এবং এটি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী হবে। তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সরাসরি হুমকি ও চাপের মধ্য দিয়ে বিষয়টি আন্তর্জাতিক মঞ্চেও উত্তপ্ত হয়েছে।
শেহবাজের এই হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে ইসলামাবাদে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া হয়, যেখানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে পাকিস্তান তাদের পানির অধিকার রক্ষায় কোনো আপস করবে না।
তিনি বলেন, “আমরা আমাদের পানির এক ফোঁটাও কাউকে ছিনিয়ে নিতে দেবো না। যদি ভারত আমাদের পানি আটকে রাখে, আমরা এমন শিক্ষা দেবো যা সারাজীবন কানে ধরে থাকবে।”
এই পানি বিরোধের পটভূমিতে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামরিক হুঁশিয়ারি বেড়ে চলেছে। সিন্ধু নদীর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সংঘাত তৈরি হয়েছে, তা পরবর্তী সময়েও ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকবে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?