গাজা উপত্যকায় আবারও ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগণের ওপর ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
রোববার (২০ জুলাই) জাতিসংঘের ত্রাণ বিতরণকারী একটি ট্রাকের কাছে খাদ্য সহায়তা নিতে জড়ো হওয়া বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ৬৭ জন নিহত হন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর গাজায় ওই হামলায় আরও ডজন খানেক মানুষ আহত হয়েছেন। তারা বলছে, যুদ্ধকবলিত অঞ্চল থেকে নতুন করে লোকজনকে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছে ইসরায়েল, আর সেই সুযোগেই হামলা চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই হামলা ছিল খাদ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া মানুষের ওপর চালানো সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি। নিহতদের মধ্যে শনিবারের হামলায় নিহত ৩৬ জনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দক্ষিণ গাজায় আলাদা এক হামলায় আরও ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা মানবিক সহায়তা প্রদানকারী ট্রাক লক্ষ্য করে ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি চালায়নি। তারা জানিয়েছে, উত্তর গাজায় ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ মনে করে ‘সতর্কতামূলক গুলি’ ছুড়েছে। তাদের মতে, নিহতের সংখ্যা বাড়িয়ে বলা হয়েছে।
তবে দক্ষিণ গাজায় ছয়জন ফিলিস্তিনি হত্যার ঘটনায় ইসরায়েল এখনো কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
এদিকে, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ত্রাণবাহী ২৫টি ট্রাক গাজায় পৌঁছানোর পর ক্ষুধার্ত মানুষের ভিড় জমে। ঠিক তখনই শুরু হয় গুলিবর্ষণ। সংস্থাটি বলেছে, “মানবিক সহায়তা গ্রহণ করতে আসা মানুষের ওপর হামলা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।”
হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ইসরায়েলি হামলা এবং ক্রমবর্ধমান খাদ্য সংকটে ফিলিস্তিনিরা ক্ষুব্ধ। এ পরিস্থিতি কাতারে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, শুধু রোববারই গাজা জুড়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলি ও বিমান হামলায় কমপক্ষে ৯০ জন নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল অবিলম্বে এসব হামলা বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত সহিংসতা বন্ধের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?