সিরিয়ার সুইদার আশেপাশে সশস্ত্র সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায়, ইসলামী প্রতিষ্ঠানগুলো ইহুদিবাদী ইসরাইলের আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি জারি করে সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং দেশটিকে খণ্ড বিখণ্ড করার ষড়যন্ত্র মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরনার বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, আল জাজিরা টিভি চ্যানেল একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে দক্ষিণ সিরিয়ায় উত্তেজনা অব্যাহত থাকার একই সময়ে স্থানীয় সূত্রগুলো সুইদা শহরের আশেপাশের এলাকায় সশস্ত্র উপজাতি বাহিনী এবং দ্রুজ সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছে।
এছাড়াও, প্রতিবেদন অনুসারে, উপজাতি সশস্ত্র বাহিনী দামেস্ক-সুইদা রুটের বেশ কয়েকটি গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছে।
আরব মিডিয়াগুলো জানিয়েছে, সিরিয়ার উপজাতি বাহিনী সুইদার প্রধান প্রবেশপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
সংঘাত অব্যাহত থাকায়, ২১টিরও বেশি বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান এক যৌথ বিবৃতি জারি করে সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে সিরিয়ার সমস্ত রাজনৈতিক, সামাজিক এবং ধর্মীয় গোষ্ঠীকে বহিরাগত এবং অভ্যন্তরীণ হুমকি, বিশেষ করে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে সিরিয়াকে খণ্ডবিখণ্ড করার ষড়যন্ত্র এবং সিরিয়ার সামাজিক কাঠামো দুর্বল হওয়ার বিপদ সম্পর্কেও সতর্ক করে দিয়ে সে দেশকে বিভক্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টা মোকাবেলা করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সিরিয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে, ওই দেশটির দ্রুজ এবং গোলানির অনুগতদের মধ্যে থেকে থেকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। একদিকে, সিরিয়ার ধর্মীয় এবং জাতিগত সংখ্যালঘুরা গোলানির নেতৃত্বে চরমপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী তাহরির আল-শামের নেতৃত্বে নতুন সরকারের চরমপন্থী কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে, ইহুদিবাদী ইসরাইল পর্যায়ক্রমে সিরিয়ার সামরিক শক্তি ধ্বংস করে এবং জাতিগত বিরোধ বাধিয়ে দেশটিকে দুর্বল এবং ছোট অংশে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে।
এই প্রসঙ্গে, ইহুদিবাদী ইসরাইল গত কয়েকদিন ধরে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চল এবং দামেস্কসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।
ইহুদিবাদী সরকারের এই আক্রমণের একই সাথে, সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সামরিক বাহিনী, যারা সুইদা এবং দ্রুজের বেদুইন উপজাতিদের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ বন্ধ করতে সুইদাতে প্রবেশ করেছিল, তারা বুধবার ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ওই সংঘর্ষের ফলে এ পর্যন্ত শত শত মানুষ মারা গেছে এবং বহু লোক আহত হয়েছে।
সূত্রঃ পার্সটুডে
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?