একটা সময়ে বুলডোজার মানেই ছিল নির্মাণকাজ, উন্নয়ন কিংবা নতুন কিছু গড়ার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু আজকের ফিলিস্তিনে এই শব্দটাই হয়ে উঠেছে মৃত্যু আর ধ্বংসের প্রতীক। সোশ্যাল মিডিয়ায় যখন চোখে পড়ে,
“বুলডোজার চালক দরকার, দৈনিক বেতন ৩,০০০ শেকেল (প্রায় ৮৮২ ডলার)”, তখন সেটা আর নিছক কোনো নির্মাণ প্রকল্পের বিজ্ঞাপন নয়, সেটা এক জাতির ওপর চালানো আধুনিক গণহত্যার ঘৃণ্য আহ্বান।
ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত পেজে এই চাকরির বিজ্ঞাপন স্পষ্ট করে বলে—“গাজায় বাড়িঘর ধ্বংস করাই তোমার কাজ।” ভয়ঙ্কর বিষয় হচ্ছে, এই ধ্বংসযজ্ঞ এখন পেশায় রূপ নিয়েছে। যত ঘর গুঁড়িয়ে দেবে, তত টাকা পাবে—ছোট ঘরের জন্য ২,৫০০ শেকেল, বড় ঘরের জন্য ৫,০০০ শেকেল। মৃত্যুর মজুরি নির্ধারিত হচ্ছে ঘরের আকার অনুযায়ী। গাজার মাটি যেন বুলডোজারের চাকায় পিষে ফেলা ইতিহাস, আর প্রতিটি চালকের হাত যেন অপরাধে রঙিন।
জার্মান নাৎসিদের গণহত্যা নিয়ে গবেষণা করা ইহুদি বংশোদ্ভূত মার্কিন গবেষক ওমর বারতোভ পর্যন্ত হতবাক। তাঁর চোখে গাজার পরিস্থিতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ট্র্যাজেডিকেও ছাড়িয়ে গেছে। তার ভাষায়,
“গাজায় যা চলছে তা কোনো যুদ্ধ নয়, বরং একটা গণহত্যা।”
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ নেভ গর্ডনের পর্যবেক্ষণ আরও নির্মম—
“বুলডোজার এখন গণহত্যার অস্ত্র। আর এই কাজ রাষ্ট্র নিজে করছে না, বেসরকারি ঠিকাদার দিয়ে করাচ্ছে, যেন যুদ্ধের দায় এড়ানো যায়।”
ইসরায়েলি বাহিনী প্রতিটি বাড়ি নিয়ে বলে—সেখানে নাকি যোদ্ধা আছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, প্রমাণ ছাড়া গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় হাসপাতাল, স্কুল, মসজিদসহ পুরো এলাকাজুড়ে বসতবাড়ি।
গণহত্যা চললেও যেন গোটা বিশ্ব নীরব। পশ্চিমা মিডিয়া মুখে কুলুপ এঁটেছে। যারা প্রতিবাদ করতে পারে, তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ, ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের একে একে হত্যা করে চলেছে দখলদার বাহিনী। এই সংঘবদ্ধ নীরবতা যেন আরেকটি অপরাধ।
তবু এই হত্যাযজ্ঞ আর আড়ালে থাকছে না। কারণ আজকের ফেসবুকেই দেখা যাচ্ছে—একটি রাষ্ট্র কিভাবে “ঘর ধ্বংস”কে পেশা বানিয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে—যারা বুলডোজার চালাচ্ছে, তারা কি জানে তারা আসলে একটি জাতির ইতিহাস, অস্তিত্ব, ভবিষ্যৎকে মুছে দিচ্ছে?
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?