ইরান-ইসরায়েল সরাসরি সংঘাতের পর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এখন অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। একাধিক সূত্রের মতে, তিনি ইসরায়েলের সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টা এড়াতে একাকী অবস্থায় কোথাও লুকিয়ে আছেন এবং সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা পর্যন্ত তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারছেন না।
যুদ্ধের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কাতারের আমিরের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি হলেও খামেনিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। যদিও ট্রাম্প ইসরায়েলকে সরাসরি অনুরোধ করেছিলেন যেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা না করা হয়, তবুও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি।
যুদ্ধ ইরানের সামরিক সক্ষমতায় ভয়াবহ ধাক্কা দিয়েছে। ইসরায়েল খুব দ্রুত ইরানের আকাশসীমার বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং একের পর এক সামরিক ঘাঁটি, আইআরজিসি কমান্ড সেন্টার ও গোপন স্থাপনায় হামলা চালায়। বিপুল সংখ্যক শীর্ষ রেভলিউশনারি গার্ড ও সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুতে সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে পড়েছে।
এখনো স্পষ্ট নয় ঠিক কতটা সামরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ধারাবাহিক বিমান হামলায় বহু সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস এবং পারমাণবিক স্থাপনার ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। ইরান বহু বছর ধরে পারমাণবিক কর্মসূচির পেছনে শত শত বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে, কিন্তু এসব স্থাপনা এক ধাক্কায় কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে।
এ পরিস্থিতিতে সরকারের ভিতরেই ফাটল দেখা দিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি গণমাধ্যম জানিয়েছে, কিছু সাবেক সিনিয়র কর্মকর্তা দেশজুড়ে ধর্মীয় নেতা ও ইসলামি বিশেষজ্ঞদের আহ্বান জানিয়েছেন নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে।
দেশজুড়ে জনগণের মধ্যে গভীর ক্ষোভও জমছে। যুদ্ধের সময় অনেক ইরানি শাসকগোষ্ঠীর প্রতি ক্ষুব্ধ হলেও দেশ ও একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছে। শহর থেকে পালানো মানুষকে গ্রাম-উপশহরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, জরুরি পণ্য কম দামে বিক্রি করা হয়েছে।
তবে অনেকে মনে করছেন, ইসরায়েল সরকার পরিবর্তনের জন্য চাপ দিচ্ছে – যেটি তাদের মতে বিদেশি হস্তক্ষেপ নয়, বরং দেশের ভেতর থেকে হওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের দমনপীড়ন আরও তীব্র হবে। যুদ্ধের পরপরই গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, ৭০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
যদিও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের বহু পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে, তবুও দেশটি দাবি করছে তারা বিপুল পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ফেলেছে। এ ইউরেনিয়াম থেকে কয়েকটি পারমাণবিক বোমা তৈরি সম্ভব। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে আশঙ্কা বেড়েছে যে ইরান এখন বোমা তৈরির পথেই এগোতে পারে।
আয়াতুল্লাহ খামেনি, যিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে ক্ষমতায়, এখন ৮৬ বছর বয়সে উত্তরাধিকারের বিষয়টিও বিবেচনা করছেন। অনুগত রেভলিউশনারি গার্ড কমান্ডাররাই হয়তো আড়ালে থেকে দেশের আসল ক্ষমতা ধরে রাখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?