মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে শাসন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, বিষয়টি মোটেই সহজ নয় এবং এর ফল হতে পারে ভয়াবহ।
তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কল্পনা করা ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ সরকার গঠন না-ও হতে পারে। বরং শাসন পতনের পর আরও কঠোরপন্থী নেতার উত্থান হতে পারে, যারা নিরাপত্তার স্বার্থে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিকে ত্বরান্বিত করবে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক কুইন্সি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী সহসভাপতি ত্রিটা পার্সি সিএনএনকে বলেন, শাসন পরিবর্তন মানে কেবল শাসকশ্রেণির পতন নয়, বরং পুরো রাষ্ট্র কাঠামোর বিপর্যয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, শাসন পরিবর্তনের পর ইরান বিশৃঙ্খল ও বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে, যার প্রভাব গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়বে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ইরানের শাসন কাঠামো ভেঙে পড়লে সামরিক বাহিনীর কিছু অংশ হয়তো ক্ষমতা দখল করবে, কিন্তু তারা যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দের সরকার হবে না।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতার দাবি জোরদার করতে পারে। ফলে দেশটি গৃহযুদ্ধ ও বিভক্তির পথে যেতে পারে।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ সর্বোচ্চ নেতাকে নির্বাচন করে। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গোপনে তিনজন সম্ভাব্য উত্তরসূরি মনোনীত করেছেন। তবে তাঁর আকস্মিক মৃত্যু হলে এই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আরও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সবশেষে বিশ্লেষকদের হুঁশিয়ারি, ইরানে শাসন পরিবর্তনের চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের জন্য অপ্রত্যাশিত ও ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?