ইসরাইল-ইরান সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একজন ইসরাইলি সামরিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইয়োসি মেলম্যান স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছেন, ইসরাইলি নেতৃত্ব যেন তেহরানের কাছে যুদ্ধবিরতির ভিক্ষা চাওয়ার আগেই নিজেদের উন্মাদনা থামায়। শুক্রবার ইরানের রাজধানী তেহরানসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ইসরাইলের হামলায় উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার, বিজ্ঞানী এবং বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
ইরানের তরফে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় শুরু হয়েছে ধারাবাহিক হামলা। এই প্রসঙ্গে মেলম্যান বলেন,
“যদি এই উন্মত্ততা বন্ধ না করা হয়, শেষ পর্যন্ত ইসরাইলকেই ইরানের কাছে যুদ্ধবিরতির ভিক্ষা চাইতে হবে।”
তিনি আরো বলেন,
“শিয়ারা ঐতিহাসিকভাবে অসীম কষ্ট সহ্য করতে পারে—তাদের ইরাকের সঙ্গে আট বছরের যুদ্ধের নজির তাই প্রমাণ করে। ইসরাইল যদি এখনই যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় কূটনৈতিক সমঝোতার পথে না যায়, তবে ভবিষ্যতে কোনো চুক্তির সুযোগও পাবে না।”
এদিকে কায়রো স্কুল অফ পলিটিক্যাল সায়েন্সের প্রাক্তন ডিন আলিয়া আল-মাহদি বলেন,
“ইরান শুধু একটি রাষ্ট্র নয়, এটি একাধারে বৈজ্ঞানিক, সামরিক এবং কৌশলগতভাবে শক্তিশালী একটি জাতি। ইসরাইলের ওপর তাদের প্রতিক্রিয়া শুধু প্রতিশোধ নয়, এটি একটি শক্তির প্রকাশ।”
তিনি ইসরাইলকে এক অবৈধ ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র বলে অভিহিত করেন, যার সৃষ্টি হয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে।
মিশরীয় বিশ্লেষক কামাল হাবিব বলেন,
“এটা ইরানের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। ইসরাইল সবসময় মনে করে, তারই একমাত্র ক্ষমতা রয়েছে এই অঞ্চলে শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার। যদি এবার তারা রক্ষা পেয়ে যায়, তবে আরব বিশ্বে কেউ নিরাপদ থাকবে না। আমাদের শান্তি ও মর্যাদার জন্য ইসরাইলের পতন অপরিহার্য।”
মিশরের আরেক বিশ্লেষক আবদেল নবী ফারাজও বলেন,
“আমরা এখন এক ঔপনিবেশিক দখলদার শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। এই মুহূর্তে ইরানের পাশে আরব বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে।”
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার এই পর্যায়ে বিশ্লেষকদের ভাষ্য স্পষ্ট করে যে, ইসরাইল যদি এই সংঘাতে অব্যাহত আগ্রাসন চালায়, তবে তার কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা ও সামরিক প্রতিক্রিয়া আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এটি হয়তো এক নতুন আঞ্চলিক বাস্তবতার সূচনা।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?