ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এটি দেশের স্বার্থের পরিপন্থী এবং ইরানের আত্মনির্ভরশীলতার পরিপন্থী। ৪ জুন (বুধবার) টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ আমাদের পারমাণবিক কর্মসূচির মূল চাবিকাঠি। শত্রুরা এর ওপরই মনোনিবেশ করেছে।”
খামেনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করা উচিত কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আপনি কে?” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা প্রস্তাবকে শতভাগ অগ্রহণযোগ্য হিসেবে আখ্যা দেন।
বর্তমানে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনার উদ্যোগ চলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ও মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে এ সংক্রান্ত আলোচনা চললেও তেহরানের কঠোর অবস্থান আলোচনার অগ্রগতি থামিয়ে রেখেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়ে ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতির আওতায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। এর ফলে ইরানের অর্থনীতি চরম দুর্বল হয়ে পড়েছে। দেশটি বর্তমানে জ্বালানি ও পানির সংকট, মুদ্রার পতন এবং আঞ্চলিক সংঘর্ষসহ একাধিক সংকটে জর্জরিত।
ইরান বারবার দাবি করে এসেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিপ্রায় রাখে না। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার হুমকি আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণার ফলে পারমাণবিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যেতে পারে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?