বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের পক্ষে জোরালো অবস্থান জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন,
“বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সময়ক্ষেপণ নয়, দ্রুত একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দরকার।”
এই বক্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া সাম্প্রতিক বিবৃতিতে বিদেশি ষড়যন্ত্র এবং পরাজিত শক্তির ইন্ধনের অভিযোগ তোলা হয়। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা হলে সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে। এই বক্তব্যকেই খোলাখুলি ‘বিষয়বস্তু থেকে দৃষ্টি সরানোর কৌশল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “যখন কোনো সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়, তখন পুরো দায় তাদের কাঁধেই বর্তায়। বাইরের শক্তিকে দায়ী করার প্রবণতা প্রকৃত সমস্যাকে আড়াল করার কৌশল, যা সমস্যার সমাধান করে না, বরং তা থেকে পালিয়ে যাওয়ার মতো আচরণ।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারত এই প্রথমবারের মতো সরাসরি ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন’-এর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে, যা দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।
এদিকে, গত সপ্তাহে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না জানান, ড. ইউনূস স্পষ্টভাবে বলেছেন,
“ভারতীয় আধিপত্যবাদই বাংলাদেশের চলমান সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। ভারত আমাদের পরিবর্তনকে মেনে নিতে চায় না। বরং সুযোগ পেলে একদিনেই ধ্বংস করে দিতে চায় এবং সেই লক্ষ্যে যা করার দরকার সব করছে।”
এই মন্তব্য সামনে আসার কয়েক দিনের মধ্যেই দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কড়া প্রতিক্রিয়া, যা কূটনৈতিকভাবে একটি অস্বস্তিকর টানাপড়েনের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভারত বরাবরই দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে প্রভাব বিস্তারকারী শক্তি হিসেবে কাজ করে আসছে। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দিল্লি কতটা সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে, এবং এই হস্তক্ষেপ আদৌ ‘বন্ধুত্বের কূটনীতি’ নাকি ‘প্রভাব বিস্তারের আগ্রাসন’—তা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে।
ভারতের এই বার্তায় স্পষ্ট, তারা অন্তর্বর্তী সরকারের ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’কে উড়িয়ে দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিচ্ছে। একইসঙ্গে যারা বিদেশি চক্রান্তের অজুহাতে রাজনৈতিক বৈধতা প্রতিষ্ঠা করতে চায়—তাদের উদ্দেশ্যে সতর্ক সংকেতও দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত যদি সত্যিই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষ নেয়, তবে তা শুধু আন্তর্জাতিক মহলের নয়, বাংলাদেশি জনগণেরও একটি দীর্ঘদিনের দাবি। এখন দেখার বিষয়—এই অবস্থান বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হয়, নাকি এটিও হয়ে ওঠে বৃহৎ কূটনৈতিক খেলায় আরেকটি মোড়ক মাত্র।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?