যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের ফাঁদ পাতছে—এটাই এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির নগ্ন বাস্তবতা। রোববার শান্তির মোড়কে চাতুর্যের বার্তা দিয়ে মুখ খুললেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন,
“আমরা ইরানের সঙ্গে খুব ভালো আলোচনা করেছি। এক-দুদিনের মধ্যে ভালো কিছু বলতে পারব কি না নিশ্চিত না, তবে আমার মনে হয় ভালো কিছুই বলব।”
অথচ এই ‘শান্তির বার্তা’র আড়ালে চলছে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে আগুন ছড়ানোর ষড়যন্ত্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ইসরায়েল গোপনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন আলোচনাও একইসঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছে।
এই দ্বিচারিতা নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সরাসরি বলেন, নেতানিয়াহু মরিয়া হয়ে উঠেছেন যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে। তিনি কী করবে আর কী করবে না—তা নেতানিয়াহুই ঠিক করতে চান। এটি শুধু ইরান নয়, সমগ্র মুসলিম বিশ্বের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার এক নির্মম নজির।
ইসরায়েল বহুদিন ধরেই বলে আসছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে চায়। কিন্তু ইরান বলছে, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুধুই শান্তিপূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে, যা আন্তর্জাতিক চুক্তি NPT-এর পরিপন্থী নয়। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) নিজেই বহুবার ইরানের স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির স্বীকৃতি দিয়েছে। তবুও আমেরিকা ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানকে ‘আগ্রাসী রাষ্ট্র’ প্রমাণ করে যুদ্ধ বাধাতে চায়।
২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকাকালে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান পারমাণবিক চুক্তি (JCPOA) থেকে বের করে আনেন। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং তেহরান প্রতিক্রিয়ায় তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার করে। ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে—যা অস্ত্র তৈরির সীমার কাছাকাছি, যদিও এখনো আইনগতভাবে বৈধ।
সম্প্রতি ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনো অন্তর্বর্তী চুক্তির বিনিময়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করবে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ী বলেন,
“আমরা আলোচনায় সময় নষ্ট করছি না। আমরা ন্যায্য চুক্তির জন্য আন্তরিকভাবে আলোচনা করছি। মার্কিন চাপ বা প্রলোভনে নিজেদের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত বদল করব না।”
বিশ্লেষকদের মতে, এটি একধরনের কূটনৈতিক প্রতারণা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একদিকে আলোচনার নামে বিশ্বকে ধোঁকা দিচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সাম্প্রতিক উপসাগরীয় এলাকায় ইসরায়েলের বিমান ও গোয়েন্দা তৎপরতা, মার্কিন রণতরীর উপস্থিতি এবং ছায়া ঘাঁটি নির্মাণ—সবই স্পষ্টভাবে একটি পরিকল্পিত আক্রমণের পূর্বাভাস।
এই মুহূর্তে বিশ্ববাসীকে বুঝে নিতে হবে—‘শান্তি’ শব্দটা এখন কেবল মার্কিন সামরিক কৌশলের মুখোশ। বাস্তবে তারা চায় ইরানকে ধ্বংস করে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আধিপত্য পাকাপোক্ত করতে। এটা শুধুই ইরান নয়, গোটা মুসলিম বিশ্বকে কোণঠাসা করে রাখার আরেকটি পর্বের সূচনা।
এই যুদ্ধপিপাসু আচরণ আন্তর্জাতিক আইন, সার্বভৌমত্ব ও ন্যায়বিচারের ওপর সরাসরি হামলা। মুখে শান্তির কথা বলে যারা পেছনে বোমার ছক আঁকে, তাদের বিরুদ্ধে এখনই বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার। কারণ আজ ইরান, কাল যে কোনো মুসলিম রাষ্ট্র।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?