আরও একবার গণহত্যার ঘোষণা দিয়ে বিশ্বের মানবিক বিবেককে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার (২১ মে) টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“যুদ্ধ শেষে গাজা থাকবে ইসরায়েলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।” অর্থাৎ, একুশ শতকে দাঁড়িয়ে একটি জনপদকে দখল করে রাখার ঘোষণা দিলেন তিনি, যা আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকারের প্রকাশ্য লঙ্ঘন।
নেতানিয়াহু গাজায় চলমান গণহত্যাকে বৈধতা দিতে ‘নিরাপত্তা’, ‘মানবিক সহায়তা’ আর ‘খাদ্য বিতরণ’-এর মোড়কে একটি পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তার কথায়, “গাজা উপত্যকায় মৌলিক সাহায্য পাঠানো হবে, মার্কিন কোম্পানির মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য বিতরণ পয়েন্ট খোলা হবে এবং সেনাবাহিনীর নজরদারিতে একটি বিশেষ বেসামরিক অঞ্চল তৈরি করা হবে।” অথচ বাস্তবতা হলো, এই কথিত সহায়তা কখনই গাজার মানুষকে রক্ষা করেনি—বরং বোমার আঘাতে হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
নেতানিয়াহুর এই ঘোষণা গাজায় চলমান বর্বরতা এবং শিশু-হত্যার বৈধতা দিতেই পরিকল্পিত এক প্রোপাগান্ডা। যেখানে ফিলিস্তিনি জনগণের জমি, স্বাধীনতা ও অস্তিত্বকে মুছে ফেলার নীলনকশা চলছে দিনের আলোয়। গাজার হাজার হাজার নারী-শিশু যেভাবে শহীদ হয়েছেন, তা বিশ্ব বিবেককে নাড়িয়ে দেওয়ার কথা। অথচ ইসরায়েল এই হত্যাকাণ্ডের দায় ঘুরিয়ে পাল্টা ‘নিরাপত্তা’ তত্ত্ব দাঁড় করাচ্ছে।
নেতানিয়াহু তার ভাষণে বন্দি ইসরায়েলিদের মুক্তির প্রসঙ্গ টেনে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত দেন, অথচ বাস্তবতা হলো—এটা কেবল সময় কিনে নেওয়ার আরেকটি প্রতারণামূলক কৌশল। তাদের ইতিহাস বলছে, প্রতিবার যুদ্ধবিরতির পেছনে ছিল নতুন ধ্বংসযজ্ঞের প্রস্তুতি।
আসলে এই আগ্রাসনের মূল লক্ষ্যই হলো গাজার ভূখণ্ড দখল করে তাকে চিরতরে ‘ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল’ বানিয়ে ফেলা। এর মাধ্যমে পশ্চিমতীর এবং গাজা—ফিলিস্তিনের দুই ভৌগলিক অংশকে বিভক্ত, দুর্বল এবং আত্মসমর্পণে বাধ্য করাই ইসরায়েলি যুদ্ধনীতি। এটি ফিলিস্তিন নামক রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভিত্তিকে চূড়ান্তভাবে ধ্বংস করে দিতে নেতানিয়াহুর সরকার মরিয়া হয়ে উঠেছে।
বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর নীরবতা, দ্বৈতনীতি এবং অস্ত্র ব্যবসার লোভ এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক। আজ যারা মানবাধিকার, গণতন্ত্র আর শান্তির কথা বলে সেমিনার গরম করে, তারাই এই গণহত্যার ওপর ছায়া ফেলে রেখেছে। জাতিসংঘ, আইসিসি কিংবা ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর দায়সারা বিবৃতি আর প্রতিক্রিয়া গাজার শিশুদের রক্ষা করেনি—রক্ষা করবে না।
এই মুহূর্তে গাজার পাশে দাঁড়ানো কেবল রাজনৈতিক অবস্থান নয়, এটি এখন মানবতার পরীক্ষা। বিশ্ব সম্প্রদায় যদি এখনো চোখে কালো কাপড় বেঁধে বসে থাকে, তবে ইতিহাসের দায় কেউ এড়াতে পারবে না।
গাজার এই লড়াই শুধু অস্তিত্বের নয়, এটি এক জনপদের মুক্তির সংগ্রাম। আর বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘নিরাপত্তা পরিকল্পনা’ মানেই গাজার ভবিষ্যৎকে শৃঙ্খলিত করার একটি নির্মম নীলনকশা—যার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এখন সময়ের দাবি।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?