দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনার আবহে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক পদে পদোন্নতি দিয়েছে ইসলামাবাদ। ফিল্ড মার্শাল পদে অভিষিক্ত হয়েছেন তিনি, যা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল এবং সম্মানজনক একটি পদ। মঙ্গলবার (২০ মে) প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে জানিয়েছে জিও নিউজ।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন,
“সাম্প্রতিক ‘অপারেশন বুনিয়ান-উম-মারসুস’-এর মাধ্যমে সেনাপ্রধান মুনির তার অসাধারণ নেতৃত্ব ও কৌশলগত দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন।”
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের সামরিক আগ্রাসনের জবাবে দ্রুত ও নিখুঁত সামরিক প্রতিক্রিয়া প্রদর্শনের জন্যই এই পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
ফিল্ড মার্শাল হলো এমন একটি পদ যা সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্রে অবিসংবাদিত সাহসিকতা ও কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের পর প্রদান করা হয়। পাকিস্তানের ইতিহাসে এটি একটি ঐতিহাসিক সম্মান, যা জেনারেল পদ থেকেও উচ্চতর।
জেনারেল আসিম মুনির ২০২২ সালের নভেম্বরে ১১তম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার স্থলাভিষিক্ত হয়ে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে তার মেয়াদ তিন বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হয়, যা পাকিস্তানের সেনাপ্রধানদের জন্যও বিরল দৃষ্টান্ত।
সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়ার আগে মুনির পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশের নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি সংক্রান্ত কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এই পদোন্নতি এমন এক সময় এলো, যখন ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে একটি বন্দুক হামলায় ২৬ জন ভারতীয় পর্যটক নিহত হন। এরপর ভারত অভিযুক্ত করে পাকিস্তানকে এবং চালায় ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পাল্টা সামরিক অভিযান।
পাল্টা জবাবে পাকিস্তানও সীমান্তে ‘অপারেশন বুনিয়ান-উম-মারসুস’ চালায় এবং দাবি করে যে, তারা ভারতের পাঁচটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, যার মধ্যে তিনটি ছিল ফ্রান্সের তৈরি রাফাল ফাইটার জেট। যদিও ভারতের পক্ষ থেকে এ দাবি স্বীকার করা হয়নি, তবে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের এমন মুখোমুখি অবস্থান “উদ্বেগজনক ও সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে” এমন আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আসিম মুনিরের ফিল্ড মার্শাল পদে অভিষেক শুধুমাত্র একটি সম্মান নয়—এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক রাজনৈতিক বার্তা। দেশের সামরিক নেতৃত্বকে রাজনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রস্থলে আনার মধ্য দিয়ে ইসলামাবাদ বোঝাতে চাইছে, তারা যেকোনো আক্রমণের জবাব দিতে প্রস্তুত এবং সামরিক সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখছে।
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে এই পদোন্নতি ভবিষ্যতে পাকিস্তান-ভারত সম্পর্ক, কাশ্মীর সংকট এবং দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত ভারসাম্যে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। পরমাণু অস্ত্রধারী দুটি দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ক্রমাগত বেড়ে চললে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যস্থতা ছাড়া এই সংকট সমাধান কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
এই অবস্থায় জাতিসংঘ, ওআইসি ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর তরফে অবিলম্বে সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান দিন দিন আরও জোরালো হচ্ছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?