ভারতের অরুণাচল প্রদেশের ২৭টি স্থানের নতুন নাম ঘোষণা করেছে চীন, যা নিয়ে দিল্লি-বেইজিং কূটনৈতিক সম্পর্কে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে। গত ১১ মে চীনের বেসামরিক-বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক ঘোষণায় এই নাম পরিবর্তনের বিষয়টি জানায়। নাম পরিবর্তনের তালিকায় রয়েছে ১৫টি পাহাড়, পাঁচটি বসতি, চারটি রাস্তা, দুটি নদী এবং একটি হ্রদ।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চীনের এই পদক্ষেপকে ‘অকার্যকর ও হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “চীন বারবার ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন নাম দিয়ে নিজের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।
আমরা এই প্রচেষ্টা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।” তিনি আরও বলেন, “অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অখণ্ড অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। নাম বদল বাস্তবতা বদলাতে পারে না।”
চীন দীর্ঘদিন ধরে অরুণাচল প্রদেশকে ‘জাংনান’ বা ‘দক্ষিণ তিব্বত’ বলে দাবি করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৭, ২০২১, ২০২৩, ২০২৪ এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের মে মাসে এ নিয়ে মোট পাঁচবার বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তন করে দেশটি। এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো ভূখণ্ডীয় দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চীন সেনাদের সংঘর্ষে দুই পক্ষের সেনা হতাহত হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় শুরু এবং কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবুও নামকরণ ইস্যুতে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
এদিকে, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ভূমিকা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ আরও বেড়েছে, কারণ সম্প্রতি পাকিস্তান-ভারত উত্তেজনায় চীন পাকিস্তানের পাশে অবস্থান নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সবমিলিয়ে, চীনের নামকরণ প্রচেষ্টা শুধু কূটনৈতিক উত্তেজনাই নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেও নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?