গাজা যুদ্ধের ব্যর্থতায় মুখ থুবড়ে পড়েছে ইহুদিবাদী ইসরায়েল। দীর্ঘ সময় ধরে চালানো বর্বর হামলা সত্ত্বেও হামাসকে পরাজিত করতে না পারায় এবার ইসরায়েলের ভেতরেই শুরু হয়েছে তীব্র আত্মস্বীকৃতি ও যুদ্ধবিরতির দাবি। সাবেক মন্ত্রীরা সরাসরি বলছেন—ইসরায়েল এই যুদ্ধে পরাজিত, হামাসের সামনে তারা দাঁড়াতেই পারছে না।
ইসরায়েলের সাবেক যুদ্ধমন্ত্রী আভিগডোর লিবারম্যান রোববার স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“যে ইসরায়েল এক বছর আট মাসে হামাসকে হারাতে পারেনি, সে আগামী ১৭ বছর চেষ্টা করেও পারবে না।” এ এক ভয়াবহ স্বীকারোক্তি, যেখানে পুরো বিশ্ব দেখছে—নৃশংস বোমাবর্ষণ, গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করেও ইসরায়েল গাজার প্রতিরোধ ভাঙতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এখন ইতিহাসের সবচেয়ে নাজুক ও সংকটময় পর্যায়ে রয়েছে। যুদ্ধ করে নিজেদেরও ন্যুব্জ করে ফেলেছে ইসরায়েল।
এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইহুদ ওলমার্ট গাজা যুদ্ধকে
“ভুল এবং বিপজ্জনক পদক্ষেপ” আখ্যা দিয়ে বলেন, “গাজা ফিলিস্তিনের অঞ্চল এবং তা স্বতন্ত্র ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের অংশ হওয়াই উচিত। যুদ্ধ থামাতে হবে, বন্দিদের ফিরিয়ে আনতে হবে এবং ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি দিতে হবে।”
অন্যদিকে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ওরেন সলোমন হতাশা স্বরে স্বীকার করেন—মাঠের বাস্তবতা হলো, হামাসই এগিয়ে রয়েছে। অত্যন্ত সাধারণ প্রযুক্তি ও নির্ভুল কৌশলে তারা ইসরায়েলি সামরিক যানবাহন ও সেনাদের গতিবিধি নজরে রাখছে, হামলার সময় ও স্থান নিখুঁতভাবে নির্ধারণ করছে।
তিনি আরও জানান, ইসরায়েল যেসব হামাস কমান্ডারদের হত্যা করেছে, তাদের জায়গায় নতুন নেতৃত্ব উঠে এসেছে। অর্থাৎ প্রতিরোধ থেমে নেই, বরং আরও সংঘটিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল সামরিক ব্যর্থতা নয়—এটি ইহুদিবাদী আগ্রাসনের নৈতিক পতনের চূড়ান্ত রূপ। যুদ্ধের নামে গণহত্যা চালিয়ে বিশ্ববাসীকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা আর টিকছে না। ইসরায়েল এখন চূড়ান্তভাবে কোণঠাসা।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?