দুই সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ভারত ও পাকিস্তান অবশেষে একটি পূর্ণাঙ্গ ও তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে।
যদিও বেশিরভাগ দেশ নিরপেক্ষ থাকলেও তুরস্ক ও ইসরায়েল দুই বিপরীত পক্ষের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছে—তুরস্ক পাকিস্তানকে, আর ইসরায়েল ভারতকে সমর্থন করেছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান পাকিস্তানকে “ভ্রাতৃপ্রতিম” দেশ হিসেবে উল্লেখ করে যুদ্ধ চলাকালীন সময়েই কৌশলগত সহায়তা পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে ভারত। পাকিস্তানও পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে, ভারত ইসরায়েলি ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে।
সংঘর্ষের সময় পাকিস্তানের হাতে তুর্কি ড্রোন এবং ভারতের হাতে ইসরায়েলি ড্রোন ব্যবহারের খবর দুই দেশের সম্পর্কের জটিলতা প্রকাশ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যকার ধর্মীয়, সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এরদোয়ানের ইসলামি নেতৃত্বের ভাবমূর্তি, কাশ্মীর ইস্যুতে অবস্থান এবং পাকিস্তানের অস্ত্রবাজারে তুরস্কের উপস্থিতি এই মিত্রতাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে তুরস্কের কূটনৈতিক দূরত্ব স্পষ্ট। নরেন্দ্র মোদি কখনও তুরস্ক সফর করেননি।
তবে ভারতের জন্য এটি বড় কৌশলগত বিপদ নয় বলে মনে করেন কূটনীতিক তালমিজ আহমেদ। ভারতের সৌদি আরব, ইসরায়েল, ইউএই, কাতার ও ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের অবস্থানকে শক্তিশালী করে রেখেছে।
এই সংঘর্ষ ভবিষ্যতের জন্য একটি সতর্কবার্তা—স্বল্প সময়ের যুদ্ধও বহুগুণ ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। তাই শান্তি, সমঝোতা ও আঞ্চলিক সহযোগিতাই দক্ষিণ এশিয়ার টেকসই স্থিতিশীলতার একমাত্র উপায়।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?