বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যা ও গুমসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে তাকে দেয়া সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি বাতিলের কথা ভাবছে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (এএনইউ) কর্তৃপক্ষ। ক্যানবেরা টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন মতে, ১৯৯৯ সালে শেখ হাসিনাকে আইন বিষয়ে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেয় অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (এএনইউ)। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদান কমিটি এখন তার ডিগ্রি বাতিলের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
যদিও এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। পুরো প্রক্রিয়াটি আরও বিশদভাবে পর্যালোচনা করছেন তারা।
সম্প্রতি বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। এরপরই তার ডক্টরেট ডিগ্রি বাতিলের বিষয়টি খতিয়ে দেখার খবর সামনে এলো।
গত বছর জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এর দুই মাস পর অক্টোবরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে গণহত্যা ও হত্যাসহ আরও বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। যা তিনি অস্বীকার করে আসছেন।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন দমনে চালানো অভিযানে এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অভিযোগ করেছে, শেখ হাসিনার অধীন সেনাবাহিনীকে কারফিউ দমনে বিক্ষোভকারীদের ‘দেখামাত্র গুলি’ করার আদেশ দেয়া হয়েছিল।
মানবাধিকার সংস্থাটি সে সময় শেখ হাসিনার অধীন সেনাবাহিনীকে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বন্ধ করতে এবং নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছিল।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি ছাত্র ও অন্যান্য বিক্ষোভকারীদের ওপর নিপীড়ন বন্ধে শেখ হাসিনাকে চাপ দিতে বিশ্বের প্রভাবশালী সরকারগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান।
অন্যদিকে বাংলাদেশের পুলিশ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির জন্য আবেদন করেছে। এই রেড নোটিশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে কাউকে খুঁজে বের করে প্রাথমিকভাবে গ্রেফতারের অনুরোধ জানানো হয়, যাতে পরবর্তীতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
ক্যানবেরা টাইমসের প্রতিবেদন মতে, শেখ হাসিনার ডিগ্রি বাতিল করা হলে সেটা এএনইউর জন্য হবে একটা ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (এএনইউ) একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘ডিগ্রি বাতিলের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ইতিহাসে ঘটেনি এবং এমন কোনো পদ্ধতিগত নজিরও এখন পর্যন্ত নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে এই ধরনের সিদ্ধান্তের জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে কাজ করছে।’
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?