বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি–এর মধ্যে একটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে, বিমসটেক সম্মেলনের সাইডলাইনে। এই প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হবেন দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা। বৈঠকটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়—বরং কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক দিক থেকে এক অতি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের (সিএও) একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে এই বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকের সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত।
রোহিঙ্গা সংকট ও সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক বিষয়াবলির ওপর নিযুক্ত প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান আজ এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এই বৈঠকের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে এই বৈঠক আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছি এবং বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।”
ঢাকার ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে ড. খলিলুর বলেন, “বিমসটেক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নেতারা সংস্থার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম, আঞ্চলিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সংহতি নিয়ে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে আলোচনা করবেন। সেই প্রসঙ্গেই এই বৈঠকের বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এই বৈঠক নিয়ে আশাবাদী, এবং এটি শুধু বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য নয়, বরং গোটা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এই ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন এবং এই সব বৈঠক আঞ্চলিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব বর্তমান চেয়ার থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হবে, এবং সেই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন অধ্যাপক ইউনূস নিজে।
২ থেকে ৪ এপ্রিলব্যাপী ব্যাংককে আয়োজিত এই সম্মেলন কেবল আঞ্চলিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যু নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নাট্যমঞ্চ হিসেবে রূপ নিচ্ছে—যেখানে ইউনূস-মোদি বৈঠক হতে যাচ্ছে এক কেন্দ্রীয় আকর্ষণ।
এই বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু, নিরাপত্তা সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ অবকাঠামো, এবং অর্থনৈতিক সংযোগ—এই সব বিষয় প্রাধান্য পেতে পারে বলে কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন এক মাত্রা উন্মোচিত হতে পারে, যা ভবিষ্যতে উভয় দেশের নীতিনির্ধারণে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জয় ও নিঝুম মজুমদারের এই আহ্বানকে দেশবিরোধী বলে মনে করেন ?