বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য ও তিপ্রা মোথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মা। তিনি বলেন, “এই বক্তব্য কোনো সাধারণ মতামত নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ভূরাজনৈতিক প্ররোচনা, যা ভারতের নিরাপত্তা ও একতার মূলে আঘাত হানতে পারে।” […]
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য ও তিপ্রা মোথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মা। তিনি বলেন, “এই বক্তব্য কোনো সাধারণ মতামত নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ভূরাজনৈতিক প্ররোচনা, যা ভারতের নিরাপত্তা ও একতার মূলে আঘাত হানতে পারে।”
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সম্প্রতি চীনের একটি আলোচনায় বলেন, “ভারতের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের সাতটি রাজ্য সম্পূর্ণরূপে ল্যান্ডলকড। তাদের কোনো সামুদ্রিক যোগাযোগ নেই। আমরা—বাংলাদেশ—এই অঞ্চলের একমাত্র সী-পোর্ট গার্ডিয়ান।” এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে দেববর্মা বলেন, “এই ধরনের মন্তব্য কেবল একটি মন্তব্য নয়, এটি ভারতের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ, অপমান এবং হুমকি।” তিনি সরাসরি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটা কোনোভাবেই সহনীয় নয়—ভারতকে এখনই কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে কড়া জবাব দিতে হবে।”
প্রদ্যোত দেববর্মা স্পষ্ট বলেন, ভারত যদি এখন নিষ্ক্রিয় থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও এর বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রশাসন আরও দুঃসাহস দেখাবে। আমাদের উচিত ট্রাম্প বা পুতিনের মতো শক্তিশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করা। দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যারা আমাদের হুমকি দেয়, তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়া।
তিপ্রাসা (ত্রিপুরার আদিবাসী) জনগণের পক্ষে দেববর্মা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা প্রস্তুত। বাংলাদেশে আমাদের বহু বন্ধু আছে। আদিবাসী ভাইবোনেরা আমাদের পাশেই আছে। ভারত সরকার শুধু নির্দেশ দিক, আমরাও রুখে দাঁড়াব।”
ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ‘চিকেনস নেক’ করিডোর নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দেববর্মা বলেন, ড. ইউনূসের বক্তব্যকে নিছক অর্থনৈতিক প্রসঙ্গ ভেবে বসে থাকলে তা হবে মারাত্মক ভুল। এটি একটি ভূরাজনৈতিক খেলায় ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। বিশেষ করে যদি চীন বাংলাদেশে তার প্রভাব জোরদার করে, তবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা সরাসরি বিঘ্নিত হতে পারে। দেববর্মা বলেন, “ভারত সরকারকে এখনই কঠোর এবং দূরদর্শী কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল নিতে হবে। প্রতিক্রিয়া নয়, হতে হবে প্রস্তুত—সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির জন্য।”
শুধু তাই নয়, দেববর্মা সরাসরি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক নীতিকেও সমালোচনা করে বলেন, “গত কয়েক দশকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একই ছকে চলছে। শুধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকলেই চলবে না। নীতির প্রশ্নে আজ বাংলাদেশের ভেতরে ভারতবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে—যার প্রতীক হয়ে উঠছেন ড. ইউনূস।”
তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী চাকমা, মণিপুরি, গারো ও খাসি সম্প্রদায়ের মানুষরা আজো অবহেলিত। ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং পরবর্তী বৈষম্য আদিবাসীরা আজও ভুলে যায়নি। অথচ এমন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে ড. ইউনূস ভারতের বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন—এটা কল্পনাতীত। ভারত চুপ করে থাকলে এমন মন্তব্যের মাত্রা আরও বাড়বে।”
প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা দাবি করেন, এ হুমকি এখনই ঠেকাতে না পারলে তা শুধু সেভেন সিস্টার্স নয়, গোটা ভারতের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এখনই বাংলাদেশ সরকারের সামনে কড়া বার্তা পৌঁছে দিতে হবে—ভারতের ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা নিয়ে কেউ কথা বললে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
ড. ইউনূসের বক্তব্য ‘ভারতের জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি’, ভারতকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে : দেববর্মা
Published on: 02 April, 2025
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য ও তিপ্রা মোথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মা। তিনি বলেন, “এই বক্তব্য কোনো সাধারণ মতামত নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ভূরাজনৈতিক প্ররোচনা, যা ভারতের নিরাপত্তা ও একতার মূলে আঘাত হানতে পারে।”
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সম্প্রতি চীনের একটি আলোচনায় বলেন, “ভারতের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের সাতটি রাজ্য সম্পূর্ণরূপে ল্যান্ডলকড। তাদের কোনো সামুদ্রিক যোগাযোগ নেই। আমরা—বাংলাদেশ—এই অঞ্চলের একমাত্র সী-পোর্ট গার্ডিয়ান।” এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে দেববর্মা বলেন, “এই ধরনের মন্তব্য কেবল একটি মন্তব্য নয়, এটি ভারতের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ, অপমান এবং হুমকি।” তিনি সরাসরি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটা কোনোভাবেই সহনীয় নয়—ভারতকে এখনই কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে কড়া জবাব দিতে হবে।”
প্রদ্যোত দেববর্মা স্পষ্ট বলেন, ভারত যদি এখন নিষ্ক্রিয় থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও এর বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রশাসন আরও দুঃসাহস দেখাবে। আমাদের উচিত ট্রাম্প বা পুতিনের মতো শক্তিশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করা। দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যারা আমাদের হুমকি দেয়, তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়া।
তিপ্রাসা (ত্রিপুরার আদিবাসী) জনগণের পক্ষে দেববর্মা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা প্রস্তুত। বাংলাদেশে আমাদের বহু বন্ধু আছে। আদিবাসী ভাইবোনেরা আমাদের পাশেই আছে। ভারত সরকার শুধু নির্দেশ দিক, আমরাও রুখে দাঁড়াব।”
ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ‘চিকেনস নেক’ করিডোর নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দেববর্মা বলেন, ড. ইউনূসের বক্তব্যকে নিছক অর্থনৈতিক প্রসঙ্গ ভেবে বসে থাকলে তা হবে মারাত্মক ভুল। এটি একটি ভূরাজনৈতিক খেলায় ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। বিশেষ করে যদি চীন বাংলাদেশে তার প্রভাব জোরদার করে, তবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা সরাসরি বিঘ্নিত হতে পারে। দেববর্মা বলেন, “ভারত সরকারকে এখনই কঠোর এবং দূরদর্শী কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল নিতে হবে। প্রতিক্রিয়া নয়, হতে হবে প্রস্তুত—সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির জন্য।”
শুধু তাই নয়, দেববর্মা সরাসরি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক নীতিকেও সমালোচনা করে বলেন, “গত কয়েক দশকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একই ছকে চলছে। শুধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকলেই চলবে না। নীতির প্রশ্নে আজ বাংলাদেশের ভেতরে ভারতবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে—যার প্রতীক হয়ে উঠছেন ড. ইউনূস।”
তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী চাকমা, মণিপুরি, গারো ও খাসি সম্প্রদায়ের মানুষরা আজো অবহেলিত। ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং পরবর্তী বৈষম্য আদিবাসীরা আজও ভুলে যায়নি। অথচ এমন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে ড. ইউনূস ভারতের বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন—এটা কল্পনাতীত। ভারত চুপ করে থাকলে এমন মন্তব্যের মাত্রা আরও বাড়বে।”
প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা দাবি করেন, এ হুমকি এখনই ঠেকাতে না পারলে তা শুধু সেভেন সিস্টার্স নয়, গোটা ভারতের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এখনই বাংলাদেশ সরকারের সামনে কড়া বার্তা পৌঁছে দিতে হবে—ভারতের ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা নিয়ে কেউ কথা বললে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
সাতসকালে বন্দুকযুদ্ধে ভারতীয় দুই সেনাসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলায় নিরাপত্তা কর্মীরা অভিযানে যান। এসময় তাদের সঙ্গে মাওবাদীদের ভয়ঙ্কর বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। এতে অন্তত ১২ জন মাওবাদী এবং দুই সেন সদস্য নিহত হন। এনকাউন্টার চলাকালীন দুই জওয়ান প্রাণ হারানোর পাশাপাশি অপর দু’জন […]
সাতসকালে বন্দুকযুদ্ধে ভারতীয় দুই সেনাসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলায় নিরাপত্তা কর্মীরা অভিযানে যান। এসময় তাদের সঙ্গে মাওবাদীদের ভয়ঙ্কর বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়।
এতে অন্তত ১২ জন মাওবাদী এবং দুই সেন সদস্য নিহত হন।
এনকাউন্টার চলাকালীন দুই জওয়ান প্রাণ হারানোর পাশাপাশি অপর দু’জন সেনা সদস্যও আহত হয়েছে। তাদরেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা কর্মীদের একটি দল যখন মাওবাদী বিরোধী অভিযান চালাচ্ছিলেন, তখন সকালের সময় ইন্দ্রাবতী জাতীয় উদ্যান এলাকার একটি ঘন জঙ্গলে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। “প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বন্দুকযুদ্ধে ১২ জন মাওবাদী নিহত হয়েছে।”
তিনি যোগ করেন, যে এলাকায় একটি বিরতিহীন গুলি বিনিময় এখনও চলছে, আরও বিশদ বিবরণের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ, এবং কর্তৃপক্ষ উচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, বস্তার রেঞ্জের পুলিশ মহাপরিদর্শক সুন্দররাজ পি, নিশ্চিত করেছেন যে এনকাউন্টারে নিহত একজন জওয়ান ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড (ডিআরজি) এবং অপরজন মাওবাদী বিরোধী অভিযানে বিশেষজ্ঞ স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) রাজ্য-স্তরের সদস্য ছিলেন।
ড. ইউনূসের বক্তব্য ‘ভারতের জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি’, ভারতকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে : দেববর্মা
Published on: 02 April, 2025
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য ও তিপ্রা মোথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মা। তিনি বলেন, “এই বক্তব্য কোনো সাধারণ মতামত নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ভূরাজনৈতিক প্ররোচনা, যা ভারতের নিরাপত্তা ও একতার মূলে আঘাত হানতে পারে।”
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সম্প্রতি চীনের একটি আলোচনায় বলেন, “ভারতের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের সাতটি রাজ্য সম্পূর্ণরূপে ল্যান্ডলকড। তাদের কোনো সামুদ্রিক যোগাযোগ নেই। আমরা—বাংলাদেশ—এই অঞ্চলের একমাত্র সী-পোর্ট গার্ডিয়ান।” এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে দেববর্মা বলেন, “এই ধরনের মন্তব্য কেবল একটি মন্তব্য নয়, এটি ভারতের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ, অপমান এবং হুমকি।” তিনি সরাসরি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটা কোনোভাবেই সহনীয় নয়—ভারতকে এখনই কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে কড়া জবাব দিতে হবে।”
প্রদ্যোত দেববর্মা স্পষ্ট বলেন, ভারত যদি এখন নিষ্ক্রিয় থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও এর বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রশাসন আরও দুঃসাহস দেখাবে। আমাদের উচিত ট্রাম্প বা পুতিনের মতো শক্তিশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করা। দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যারা আমাদের হুমকি দেয়, তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়া।
তিপ্রাসা (ত্রিপুরার আদিবাসী) জনগণের পক্ষে দেববর্মা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা প্রস্তুত। বাংলাদেশে আমাদের বহু বন্ধু আছে। আদিবাসী ভাইবোনেরা আমাদের পাশেই আছে। ভারত সরকার শুধু নির্দেশ দিক, আমরাও রুখে দাঁড়াব।”
ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ‘চিকেনস নেক’ করিডোর নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দেববর্মা বলেন, ড. ইউনূসের বক্তব্যকে নিছক অর্থনৈতিক প্রসঙ্গ ভেবে বসে থাকলে তা হবে মারাত্মক ভুল। এটি একটি ভূরাজনৈতিক খেলায় ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। বিশেষ করে যদি চীন বাংলাদেশে তার প্রভাব জোরদার করে, তবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা সরাসরি বিঘ্নিত হতে পারে। দেববর্মা বলেন, “ভারত সরকারকে এখনই কঠোর এবং দূরদর্শী কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল নিতে হবে। প্রতিক্রিয়া নয়, হতে হবে প্রস্তুত—সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির জন্য।”
শুধু তাই নয়, দেববর্মা সরাসরি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক নীতিকেও সমালোচনা করে বলেন, “গত কয়েক দশকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একই ছকে চলছে। শুধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকলেই চলবে না। নীতির প্রশ্নে আজ বাংলাদেশের ভেতরে ভারতবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে—যার প্রতীক হয়ে উঠছেন ড. ইউনূস।”
তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী চাকমা, মণিপুরি, গারো ও খাসি সম্প্রদায়ের মানুষরা আজো অবহেলিত। ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং পরবর্তী বৈষম্য আদিবাসীরা আজও ভুলে যায়নি। অথচ এমন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে ড. ইউনূস ভারতের বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন—এটা কল্পনাতীত। ভারত চুপ করে থাকলে এমন মন্তব্যের মাত্রা আরও বাড়বে।”
প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা দাবি করেন, এ হুমকি এখনই ঠেকাতে না পারলে তা শুধু সেভেন সিস্টার্স নয়, গোটা ভারতের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এখনই বাংলাদেশ সরকারের সামনে কড়া বার্তা পৌঁছে দিতে হবে—ভারতের ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা নিয়ে কেউ কথা বললে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
ভারতের কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা ও পার্লামেন্ট সদস্য শশী থারুর বলেছেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্য ভারতের জন্য কিছুটা জটিলতা তৈরি করেছে। তিনি মনে করেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের উচিত নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা। সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে এক বইয়ের […]
ভারতের কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা ও পার্লামেন্ট সদস্য শশী থারুর বলেছেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্য ভারতের জন্য কিছুটা জটিলতা তৈরি করেছে। তিনি মনে করেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের উচিত নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা।
সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে এক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শশী থারুর বাংলাদেশ ইস্যুকে ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রতিবেশী দেশটিতে যদি শত্রুভাবাপন্ন সরকার ক্ষমতায় আসে, তবে ভারত বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। আমাদের উচিত, বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা সম্প্রদায়ের প্রতি উদ্বেগের চেয়ে বাংলাদেশের জনগণের সার্বিক কল্যাণের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা।
তিনি আরও বলেন, একটি নির্দিষ্ট দেশ কে শাসন করবে, তা ভারত নির্ধারণ করতে পারে না। বরং আমাদের উচিত যেকোনো সরকারের সঙ্গে কাজ করার কৌশল রপ্ত করা।
বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে শশী থারুর বলেন, আমি মনে করি না যে তাদের শত্রুভাবাপন্ন বলা যায়। তবে একই সঙ্গে আমাদের কিছু সতর্কতাও বজায় রাখতে হবে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের অবশ্যই নিবিড়ভাবে, সতর্কতার সঙ্গে বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করতে হবে, কারণ তাদের অবস্থান আমাদের ঠিক পাশেই।
শশী থারুর মনে করেন, ভারতের উচিত স্পষ্টভাবে জানানো যে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির চেয়ে পুরো দেশের মানুষের কল্যাণে বেশি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ভারতের উচিত এটা বোঝানো যে, তারা কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর চেয়ে সমগ্র বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করতে চায়।
ড. ইউনূসের বক্তব্য ‘ভারতের জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি’, ভারতকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে : দেববর্মা
Published on: 02 April, 2025
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য ও তিপ্রা মোথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মা। তিনি বলেন, “এই বক্তব্য কোনো সাধারণ মতামত নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ভূরাজনৈতিক প্ররোচনা, যা ভারতের নিরাপত্তা ও একতার মূলে আঘাত হানতে পারে।”
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সম্প্রতি চীনের একটি আলোচনায় বলেন, “ভারতের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের সাতটি রাজ্য সম্পূর্ণরূপে ল্যান্ডলকড। তাদের কোনো সামুদ্রিক যোগাযোগ নেই। আমরা—বাংলাদেশ—এই অঞ্চলের একমাত্র সী-পোর্ট গার্ডিয়ান।” এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে দেববর্মা বলেন, “এই ধরনের মন্তব্য কেবল একটি মন্তব্য নয়, এটি ভারতের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ, অপমান এবং হুমকি।” তিনি সরাসরি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটা কোনোভাবেই সহনীয় নয়—ভারতকে এখনই কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে কড়া জবাব দিতে হবে।”
প্রদ্যোত দেববর্মা স্পষ্ট বলেন, ভারত যদি এখন নিষ্ক্রিয় থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও এর বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রশাসন আরও দুঃসাহস দেখাবে। আমাদের উচিত ট্রাম্প বা পুতিনের মতো শক্তিশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করা। দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যারা আমাদের হুমকি দেয়, তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়া।
তিপ্রাসা (ত্রিপুরার আদিবাসী) জনগণের পক্ষে দেববর্মা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা প্রস্তুত। বাংলাদেশে আমাদের বহু বন্ধু আছে। আদিবাসী ভাইবোনেরা আমাদের পাশেই আছে। ভারত সরকার শুধু নির্দেশ দিক, আমরাও রুখে দাঁড়াব।”
ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ‘চিকেনস নেক’ করিডোর নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দেববর্মা বলেন, ড. ইউনূসের বক্তব্যকে নিছক অর্থনৈতিক প্রসঙ্গ ভেবে বসে থাকলে তা হবে মারাত্মক ভুল। এটি একটি ভূরাজনৈতিক খেলায় ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। বিশেষ করে যদি চীন বাংলাদেশে তার প্রভাব জোরদার করে, তবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা সরাসরি বিঘ্নিত হতে পারে। দেববর্মা বলেন, “ভারত সরকারকে এখনই কঠোর এবং দূরদর্শী কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল নিতে হবে। প্রতিক্রিয়া নয়, হতে হবে প্রস্তুত—সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির জন্য।”
শুধু তাই নয়, দেববর্মা সরাসরি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক নীতিকেও সমালোচনা করে বলেন, “গত কয়েক দশকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একই ছকে চলছে। শুধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকলেই চলবে না। নীতির প্রশ্নে আজ বাংলাদেশের ভেতরে ভারতবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে—যার প্রতীক হয়ে উঠছেন ড. ইউনূস।”
তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী চাকমা, মণিপুরি, গারো ও খাসি সম্প্রদায়ের মানুষরা আজো অবহেলিত। ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং পরবর্তী বৈষম্য আদিবাসীরা আজও ভুলে যায়নি। অথচ এমন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে ড. ইউনূস ভারতের বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন—এটা কল্পনাতীত। ভারত চুপ করে থাকলে এমন মন্তব্যের মাত্রা আরও বাড়বে।”
প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা দাবি করেন, এ হুমকি এখনই ঠেকাতে না পারলে তা শুধু সেভেন সিস্টার্স নয়, গোটা ভারতের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এখনই বাংলাদেশ সরকারের সামনে কড়া বার্তা পৌঁছে দিতে হবে—ভারতের ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা নিয়ে কেউ কথা বললে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
গেল বছর ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার প্রবল গণ-আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন সাবেক পতিত শেখ হাসিনা।সেসময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মুখ ফিরিয়ে নিলেও আশ্রয় দেয় ভারত। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর বলছে ভারত শেখ হাসিনার জন্য নিশ্চিত করেছে সাদা পোশাকের বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী। শেখ হাসিনা চলে যাওয়ার পর দুই দিনের মধ্যে তাকে সড়িয়ে নেওয়া হয় দিল্লিতে। […]
গেল বছর ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার প্রবল গণ-আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন সাবেক পতিত শেখ হাসিনা।সেসময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মুখ ফিরিয়ে নিলেও আশ্রয় দেয় ভারত।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর বলছে ভারত শেখ হাসিনার জন্য নিশ্চিত করেছে সাদা পোশাকের বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী।
শেখ হাসিনা চলে যাওয়ার পর দুই দিনের মধ্যে তাকে সড়িয়ে নেওয়া হয় দিল্লিতে। এরপর থেকে সেখানেই বসবাস করে আসছিলেন এই শেখ হাসিনা। তবে, এবার সেখান থেকেও তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঠিক কি কারণে আর কোথায় সরানো হলো হাসিনাকে?
এর আগেও দিল্লি থেকে হাসিনাকে সরিয়ে নেওয়ার গুঞ্জন উঠেছিলো। তবে তখন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্যা প্রিন্ট তাদের একটি নিউজে হাসিনার দিল্লির অবস্থান তুলে ধরে। তাদের সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী হাসিনা দিল্লির একটি বিশেষ এলাকার নিরাপত্তা বেষ্টিত একটি বাড়িতে অবস্থান করছেন।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয় হাসিনা যে এলাকায় বসবাস করছেন সেখানে ভারতীয় বর্তমান ও সাবেক অনেক এমপি মন্ত্রীদের বাড়ি রয়েছে।
তবে এবার আর গুঞ্জন নয়, বিশ্বস্ত সূত্রের খবর শেখ হাসিনাকে নিরাপত্তার ইস্যুতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে দিল্লি থেকে।
দিল্লির একটি জাতীয় দৈনিকের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দিল্লি থেকে সরিয়ে হাসিনাকে স্ট্যান্ড কমান্ডের একটি নিরাপদ জোনে রাখা হয়েছে। যদিও ভারতীয় প্রসাশনের কেউ এ বিষয়ে কোন স্পষ্ট বক্তব্য এখনো পর্যন্ত দেয়নি।
ড. ইউনূসের বক্তব্য ‘ভারতের জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি’, ভারতকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে : দেববর্মা
Published on: 02 April, 2025
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য ও তিপ্রা মোথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মা। তিনি বলেন, “এই বক্তব্য কোনো সাধারণ মতামত নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ভূরাজনৈতিক প্ররোচনা, যা ভারতের নিরাপত্তা ও একতার মূলে আঘাত হানতে পারে।”
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সম্প্রতি চীনের একটি আলোচনায় বলেন, “ভারতের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের সাতটি রাজ্য সম্পূর্ণরূপে ল্যান্ডলকড। তাদের কোনো সামুদ্রিক যোগাযোগ নেই। আমরা—বাংলাদেশ—এই অঞ্চলের একমাত্র সী-পোর্ট গার্ডিয়ান।” এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে দেববর্মা বলেন, “এই ধরনের মন্তব্য কেবল একটি মন্তব্য নয়, এটি ভারতের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ, অপমান এবং হুমকি।” তিনি সরাসরি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটা কোনোভাবেই সহনীয় নয়—ভারতকে এখনই কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে কড়া জবাব দিতে হবে।”
প্রদ্যোত দেববর্মা স্পষ্ট বলেন, ভারত যদি এখন নিষ্ক্রিয় থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও এর বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রশাসন আরও দুঃসাহস দেখাবে। আমাদের উচিত ট্রাম্প বা পুতিনের মতো শক্তিশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করা। দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যারা আমাদের হুমকি দেয়, তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়া।
তিপ্রাসা (ত্রিপুরার আদিবাসী) জনগণের পক্ষে দেববর্মা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা প্রস্তুত। বাংলাদেশে আমাদের বহু বন্ধু আছে। আদিবাসী ভাইবোনেরা আমাদের পাশেই আছে। ভারত সরকার শুধু নির্দেশ দিক, আমরাও রুখে দাঁড়াব।”
ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ‘চিকেনস নেক’ করিডোর নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দেববর্মা বলেন, ড. ইউনূসের বক্তব্যকে নিছক অর্থনৈতিক প্রসঙ্গ ভেবে বসে থাকলে তা হবে মারাত্মক ভুল। এটি একটি ভূরাজনৈতিক খেলায় ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। বিশেষ করে যদি চীন বাংলাদেশে তার প্রভাব জোরদার করে, তবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা সরাসরি বিঘ্নিত হতে পারে। দেববর্মা বলেন, “ভারত সরকারকে এখনই কঠোর এবং দূরদর্শী কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল নিতে হবে। প্রতিক্রিয়া নয়, হতে হবে প্রস্তুত—সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির জন্য।”
শুধু তাই নয়, দেববর্মা সরাসরি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক নীতিকেও সমালোচনা করে বলেন, “গত কয়েক দশকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একই ছকে চলছে। শুধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকলেই চলবে না। নীতির প্রশ্নে আজ বাংলাদেশের ভেতরে ভারতবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে—যার প্রতীক হয়ে উঠছেন ড. ইউনূস।”
তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী চাকমা, মণিপুরি, গারো ও খাসি সম্প্রদায়ের মানুষরা আজো অবহেলিত। ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং পরবর্তী বৈষম্য আদিবাসীরা আজও ভুলে যায়নি। অথচ এমন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে ড. ইউনূস ভারতের বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন—এটা কল্পনাতীত। ভারত চুপ করে থাকলে এমন মন্তব্যের মাত্রা আরও বাড়বে।”
প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা দাবি করেন, এ হুমকি এখনই ঠেকাতে না পারলে তা শুধু সেভেন সিস্টার্স নয়, গোটা ভারতের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এখনই বাংলাদেশ সরকারের সামনে কড়া বার্তা পৌঁছে দিতে হবে—ভারতের ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা নিয়ে কেউ কথা বললে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক চীন সফরের মন্তব্য নিয়ে যে অপপ্রচার ও রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অতিরঞ্জিত—সরাসরি এমনটাই জানিয়েছেন…
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক অবস্থান এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরে দেওয়া মন্তব্য ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা ও গণমাধ্যম…
ভারতীয়দের ভিসা জালিয়াতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রায় দুই হাজার ভিসার আবেদন করেছে ভারতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। শুক্রবার (২৮ মার্চ) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো…
চীনের পর এবার ভারতকেও প্রাণঘাতী মাদক ফেন্টানিল তৈরির কাঁচামাল সরবরাহকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি দাবি করেছে, ভারত ও চীন অপরাধী চক্রগুলোর কাছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ফেন্টানিল তৈরির রাসায়নিক উপাদান…