বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

একের পর এক প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে কেন?

ঠিক ১০ বছর তিন মাস আগে নরেন্দ্র মোদি যখন প্রথমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন, তখন প্রতিবেশী সবগুলো দেশের সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানদের দিল্লিতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে বিরাট একটা চমক দিয়েছিলেন তিনি। এমন কী ‘দাওয়াত’ পেয়েছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফও। মোদি সরকার সেই প্রথম দিন থেকেই বরাবর বলে এসেছে তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে […]

একের পর এক প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে কেন?

একের পর এক প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে কেন?

নিউজ ডেস্ক

১৪ আগস্ট ২০২৪, ২০:৩০

ঠিক ১০ বছর তিন মাস আগে নরেন্দ্র মোদি যখন প্রথমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন, তখন প্রতিবেশী সবগুলো দেশের সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানদের দিল্লিতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে বিরাট একটা চমক দিয়েছিলেন তিনি।

এমন কী ‘দাওয়াত’ পেয়েছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফও। মোদি সরকার সেই প্রথম দিন থেকেই বরাবর বলে এসেছে তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে প্রতিবেশীরা।

এই নীতিটারই পোশাকি নামকরণ করা হয়েছে ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ বা ‘প্রতিবেশীরা সবার আগে’ – এবং দিল্লিতে সরকারের মন্ত্রী বা নীতি-নির্ধারকরা গত এক দশকে বারবার বলে এসেছেন, নরেন্দ্র মোদির পররাষ্ট্রনীতির মূল স্তম্ভ এটাই!

অন্যভাবে বললে, ভৌগোলিকভাবে যারা ভারতের চেয়ে দূরে (সে আমেরিকাই হোক বা নাইজেরিয়া) তাদের চেয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় ঘরের কাছের পড়শিদের (শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, নেপাল প্রভৃতি) সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত বেশি গুরুত্ব দেবে এবং তাদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে – এটাই হল ‘নেইবারহুড ফার্স্টে’র সার কথা।

তবে মুখের কথা একটা জিনিস, বাস্তবেও যে সব সময় মোদি সরকারের কাজে তার প্রতিফলন দেখা গেছে তা কিন্তু নয়। পশ্চিমের বন্ধুরা যেমন অনেক সময়ই দিল্লির কাছে দৃশ্যত বেশি গুরুত্ব পেয়েছে, দিল্লিকে অনেক বেশি মাথা ঘামাতে হয়েছে চীনকে নিয়েও।

আবার নরেন্দ্র মোদি নিজে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম সফরে নেপাল (আগস্ট ২০১৪), শ্রীলঙ্কা (মার্চ ২০১৫) বা এমন কী বাংলাদেশেও (জুন ২০১৫) যে বিপুল অভ্যর্থনা ও মানুষের বিরাট সাড়া পেয়েছিলেন, পরে সে সব দেশে ছবিটা কিন্তু আর তত বন্ধুত্বপূর্ণ থাকেনি। উন্নতির কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও।

আর এখন ‘নেইবারহুড ফার্স্টে’র এক দশক পরে এসে দেখা যাচ্ছে, যে শ্রীলঙ্কাকে চরম আর্থিক সঙ্কটের সময় ভারত অনেক সাহায্য করেছে সে দেশের সরকারও দিল্লির ভ্রূকুটি উপেক্ষা করে চীনা গোয়েন্দা জাহাজকে তাদের বন্দরে ভিড়তে দিচ্ছে।

নেপালে নতুন সংবিধান প্রণয়নের সময় ভারতের প্রচ্ছন্ন সমর্থনে যে ‘অর্থনৈতিক অবরোধ’ কর্মসূচি পালিত হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে সে দেশের সাধারণ মানুষ ভারত-বিরোধী প্রতিবাদে ফেটে পড়েছেন। নেপালের ক্ষমতাতেও আছেন কে পি শর্মা ওলি, যিনি কট্টর ভারত-বিরোধী বলেই পরিচিত।

মালদ্বীপেও গত বছর ভারতপন্থী একটি সরকারকে হঠিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন মোহামেদ মুইজ্জু, যিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরই তার দেশ থেকে সব ভারতীয় সেনা সদস্যকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তার দলের ‘ইন্ডিয়া আউট’ ক্যাম্পেইন মালদ্বীপে ভালো সাড়া ফেলেছে, প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু চীনের দিকে ঝুঁকছেন কোনও রাখঢাক না-করেই।

এমন কী, যে ভুটান সামরিক, বৈদেশিক বা অর্থনৈতিক – প্রায় সব ক্ষেত্রে ভারতের ওপর নির্ভরশীল, তারাও চীনের সঙ্গে আলাদাভাবে সীমান্ত আলোচনা শুরু করেছে, কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে চীনের প্রস্তাবকেও সরাসরি নাকচ করে দেয়নি।

আফগানিস্তান ও মিয়ানমারে যে দুটো সরকার এখন ক্ষমতায়, তাদের সঙ্গেও ভারতের সম্পর্ক ভালো এ কথা বলা চলে না কোনও মতেই।

তালেবানের সঙ্গে যেমন ভারতের এখনও পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কই স্থাপিত হয়নি, আর এই দুটো দেশেই বিভিন্ন খাতে ভারতের শত শত কোটি টাকার বিনিয়োগ এখন প্রবল অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

এই তালিকায় সবশেষ সংযোজন বাংলাদেশ – যেখানে বিগত দেড় দশক ধরে ভারতের একটি ঘনিষ্ঠ বন্ধু সরকার ক্ষমতায় থাকার পর প্রায় রাতারাতি সেই সরকার বিদায় নিয়েছে। তারপর এমন কিছু শক্তি ক্ষমতার বৃত্তে চলে এসেছে যারা ঠিক ভারতের মিত্র হিসেবে পরিচিত নন।

তা ছাড়া সাড়ে তিন বছর আগে নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময়ই তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও সহিংসতা তুঙ্গে উঠেছিল। সে দেশে সাম্প্রতিক কোটা সংস্কার আন্দোলনেও যে একটা প্রবল ভারত-বিরোধী চেহারা ছিল তা পর্যবেক্ষকরা প্রায় সকলেই মানেন।

তাহলে ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতেই কি এমন কিছু গুরুতর ত্রুটিবিচ্যুতি আছে, যাতে একের পর এক প্রতিবেশী দেশে ভারত-বিদ্বেষী মনোভাব মাথা চাড়া দিচ্ছে? না কি বৃহত্তর দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক কাঠামোটাই এমন যে ভারতের জন্য এই পরিণতি এক রকম অবধারিত ছিল?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই বিবিসি ভারতে ও ভারতের বাইরে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক, অধ্যাপক, সাবেক রাষ্ট্রদূত বা কূটনৈতিক ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বিশদে কথা বলেছে।

আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসিতে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটিতে যে ‘স্কুল অব ফরেন সার্ভিস’ আছে সেখানে ‘ভারতীয় রাজনীতি’র অধ্যাপক ড: ইরফান নূরউদ্দিন। গবেষণা করেন অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিশ্বায়ন, গণতন্ত্র ও গণতন্ত্রায়ন এবং সিভিল কনফ্লিক্ট নিয়ে।

তিনি বলেন, প্রথমেই বলব, দক্ষিণ এশিয়া হল সারা পৃথিবীতে সবচেয়ে কম সমন্বিত ও সংযুক্ত (‘লিস্ট ইনটিগ্রেটেড’) অঞ্চল। এখানে একটা দেশ থেকে আর একটা দেশের মধ্যে চলাচল বা আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ যতটা কঠিন আর জটিল, তেমনটা সারা পৃথিবীর আর কোনও অঞ্চলে নয়।

ভারতের পররাষ্ট্রনীতির কাটাছেঁড়া করলে দেখব মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা বা নেপাল – কোনও প্রতিবেশীর ক্ষেত্রেই তারা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে বহুমাত্রিক (মাল্টি ডাইমেনশনাল) কোনও নীতি নিয়ে কখনও এগোয়নি। বরাবর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে স্বল্পকালীন স্বার্থ বা শর্ট-টার্ম ইন্টারেস্টকে, আর তার জন্য সঙ্কীর্ণ, সন্দেহদুষ্ট একটা একমাত্রিক নীতি নিয়েই এগোনো হয়েছে।

ভারতের বর্তমান সরকার যেমন তাদের ‘হিন্দু আইডেন্টিটি’কে পররাষ্ট্রনীতির একটা প্রধান স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে – আর সেটা যথারীতি ব্যাকফায়ার করেছে বাংলাদেশের মতো একাধিক মুসলিম-প্রধান দেশে।

ভারত নিজেকে একটি আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় সেটা বোঝা গেল, কিন্তু তা করতে হলে এই দেশগুলোর প্রতি তাদের কিছু দায়িত্বও পালন করতে হবে এবং একটা ‘বহুমাত্রিক’ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে – যেটা এখন প্রায় অনুপস্থিত।

দিল্লির জেএনইউ ও সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ বিশ্বের বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ছিলেন ড. মুনি। লাওসে ভারতের রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত ছিলেন, কাজ করেছেন দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় ভারতের বিশেষ দূত হিসেবেও। দিল্লির থিঙ্কট্যাঙ্ক আইডিএসএ-তে ডিস্টিংগুইশড ফেলো হিসেবেও যুক্ত।

তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদি সরকার ক্ষমতায় এসেই যে ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ ঘোষণা করেছিল, গোড়ায় গলদ ছিল সেখানেই। আমি বলব এই ঘোষণার পেছনে কোনও গভীর চিন্তাভাবনার চাপ ছিল না, বরং ওটা ছিল একটা ‘নি-জার্ক রিঅ্যাকশন’ বা দুম করে নেওয়া সিদ্ধান্ত।

নরেন্দ্র মোদির জামানায় পররাষ্ট্রনীতির রূপায়নে ভারত আরও দুটো মারাত্মক ভুল করেছে বলে আমি মনে করি।

প্রথমত, ইনটেলিজেন্স বা গোয়েন্দা অ্যাপারেটাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা। গোয়েন্দা তথ্য দরকার সেটা ঠিক আছে, কিন্তু গোয়েন্দাদের চোখ দিয়ে যদি আমরা একটি প্রতিবেশী দেশকে বিচার করার চেষ্টা করি এবং তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিই সেখানে আমাদের নীতি বা কৌশল কী হওয়া উচিত তাহলে যা হবার তাই হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, এই মোদি জমানার আগে আমরা কখনও দেখিনি ভারতের শাসক দলকে বিদেশনীতি বাস্তবায়নের কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হয়েছে।

মোদি ১.০ বা মোদি ২.০-তেও দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নন, বরং আরএসএস নেতা রাম মাধব স্থির করতেন নেপাল, বাংলাদেশ, মিয়ানমার বা কিছুটা পাকিস্তানেও ভারত কী নীতি নিয়ে এগোবে।

বিজেপি ও আরএসএসের ওই প্রভাবশালী নেতার হাতেই নেইবারহুডের এতগুলো দেশে ভারতের কৌশল নিরূপণের ভার ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। ভারতের জন্য তার ফল যে সুখকর হয়নি, সেটা তো এখন দেখাই যাচ্ছে।

বর্তমান বাংলাদেশের প্রসঙ্গে যদি আসে, সেখানেও ভারতের পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতার পেছনে অনেকগুলো কারণকে দায়ী করা যায়।

যেমন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সে দেশে সঠিক রাস্তায় এগোচ্ছেন না এবং তার বিরুদ্ধে জনরোষ পুঞ্জীভূত হচ্ছে সেটা তাকে কখনও ভারত স্পষ্ট ভাষায় খেয়ালই করিয়ে দেয়নি।

তিনি যদি ভারতের ভালো বন্ধু হন, তাহলে তো তাকে সিরিয়াসলি ‘নাজ’ করারও দরকার ছিল, যেটা কখনও করা হয়নি! তার ওপর চরম গোয়েন্দা ব্যর্থতা তো ছিলই।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের আগেও ইন্দিরা গান্ধীর রাজনৈতিক সচিব পি এন হাকসার কিন্তু নিরাপত্তার স্বার্থে হেলিকপ্টারে করে তাকে সরিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাতে রাজি হননি সেটা অন্য কথা, কিন্তু তার জীবনের ওপর যে হুমকি আছে সেটা ভারতের জানা ছিল।

এক্ষেত্রে যে শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দেওয়ার কোনও সম্ভাবনা থাকতে পারে, ভারত সেটা ঘুণাক্ষরেও আঁচ করতে পারেনি।

আমি তো বলব, শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে সমর্থন করে ভারত কার্যত একটা ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’ লিখে দিয়েছিল – সেটাই এখন বুমেরাং হয়ে ভারতের কাছে ফিরে এসেছে!

 

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৩৮৩৪

আন্তর্জাতিক

পৃথিবীর প্রথম দেশ হিসেবে ইলন মাস্কের স্টারলিংক অচল করে দিলো ইরান

ইরানে সরকারিভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার পর সেখানে স্টারলিংক ইন্টারনেট পাঠান মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তবে সামরিক জ্যামার ব্যবহার করে সেই স্টারলিংক সংযোগ কার্যত অচল করে দিয়েছে ইরান। স্যাটেলাইটভিত্তিক এই ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নেওয়া পদক্ষেপে দেশজুড়ে ব্ল্যাকআউট আরও গভীর হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

নিউজ ডেস্ক

১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬:৪৩

ইরানে সরকারিভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার পর সেখানে স্টারলিংক ইন্টারনেট পাঠান মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তবে সামরিক জ্যামার ব্যবহার করে সেই স্টারলিংক সংযোগ কার্যত অচল করে দিয়েছে ইরান। স্যাটেলাইটভিত্তিক এই ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নেওয়া পদক্ষেপে দেশজুড়ে ব্ল্যাকআউট আরও গভীর হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ইরান ওয়্যারের তথ্যের বরাতে মার্কিন বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস জানায়, ইরানের ভেতরে হাজার হাজার স্টারলিংক ইউনিট চালু রয়েছে এমন দাবি শোনা গেলেও বাস্তবে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট স্যাটেলাইট সংযোগকেও গ্রাস করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুরুতে স্টারলিংকের আপলিংক ও ডাউনলিংক ট্র্যাফিকের প্রায় ত্রিশ শতাংশ ব্যাহত হয়েছিল। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেখা যায়, স্টারলিংক ইন্টারনেটের আশিরও বেশি শতাংশ ট্র্যাফিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, আগের ব্ল্যাকআউটগুলোর তুলনায় বর্তমানে ইরানে স্টারলিংক রিসিভারের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। তবে একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরান সরকার কখনোই স্টারলিংক ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি। ফলে এই সেবাটি চালু রাখা ও ব্যবহার করা দেশটির আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্টারলিংক রিসিভার স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে জিপিএস ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে বারো দিনের যুদ্ধের পর থেকেই ইরান জিপিএস সিগন্যাল ব্যাহত করে আসছে। এর ফলে শাটডাউনগুলো অঞ্চলভেদে ভিন্নভাবে কার্যকর হচ্ছে এবং স্টারলিংক সংযোগে খণ্ডিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট দেখা যাচ্ছে।

মিয়ান গ্রুপের আমির রাশিদি টেকরাডারকে বলেন, ‘আমি গত বিশ বছর ধরে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা করছি, কিন্তু জীবনে এমন কিছু কখনো দেখিনি।’ স্টারলিংক ডেটা প্যাকেট পর্যবেক্ষণকারী প্রযুক্তিবিদরাও জানান, স্যাটেলাইট সংযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইরানে স্টারলিংকের ইন্টারনেট পরিষেবা কার্যত ব্যাহত হচ্ছে।

সাম্প্রতিক ইন্টারনেট শাটডাউন নিয়ে বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা সাইমন মিগলিয়ানো ফোর্বসের প্রতিবেদককে বলেন, ‘এই কিল সুইচ পদ্ধতির খরচ অত্যন্ত ভয়াবহ। ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে প্রতি ঘণ্টায় ইরানের অর্থনীতি থেকে পনেরো লাখ ষাট হাজার ডলার খসে যাচ্ছে।’ এই তথ্য ইরানে চলমান যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণের অর্থনৈতিক প্রভাবকেও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৩৮৩৪

আন্তর্জাতিক

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে আরেক মুসলিম দেশ

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে তারা। মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) চ্যানেল ১২-এর বরাতে ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৫

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে তারা।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) চ্যানেল ১২-এর বরাতে ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে সরাসরি জড়িত না থাকা সত্ত্বেও ইউএই ইতোমধ্যে প্রায় ৮০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ‍সূত্র জানিয়েছে, যদিও ইউএই কোনোভাবেই এই যুদ্ধে অংশ নেয়নি, তবুও দেশটি ৮০০টি হামলা মোকাবিলা করেছে।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই, যারা নিজেদের নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করবে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

এর আগে শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ কামাল আল-হাইদারি মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিহাদের আহ্বান জানিয়েছেন। তার কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আক্রমণগুলো ইরানের সভ্যতা ও ধর্মীয় কর্তৃত্বকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। খবর শাফাক নিউজের।

আল-হাইদারি মুসলমানদের সতর্ক করেছেন, নিজেদের ভূমি, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে এবং ইহুদি ও আমেরিকানদের অহংকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে হবে।

শিয়া ধর্মমতে, এই ধরনের জিহাদ সাধারণত প্রতিরক্ষা ভিত্তিক এবং আক্রমণাত্মক নয়। দ্বাদশ শিয়াদের মধ্যে এই ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা একজন মারজা’ আল-তাকলিদ বা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার কাছে সীমাবদ্ধ।

এর আগে ২০১৪ সালে ইরাকের শীর্ষ শিয়া নেতা আয়াতুল্লাহ আলি আল-সিস্তানি আইএসআইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান করেছিলেন, যা পরে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসে (পিএমই) পরিণত হয়।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৩৮৩৪

আন্তর্জাতিক

ভারতকে হরমুজ ছাড়ে তিনটি ট্যাংকার ফেরত চাইলো ইরান

ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাঝে আটকা পড়া ভারতীয় পতাকাবাহী বা ভারতমুখী জাহাজগুলোকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করে দেয়ার বিনিময়ে গত ফেব্রুয়ারিতে আটক তিনটি তেলের ট্যাংকার ছেড়ে দিতে নয়াদিল্লির কাছে দাবি জানিয়েছে তেহরান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তিন সূত্রের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। ভারতীয় জলসীমার কাছ থেকে ইরান-সংশ্লিষ্ট ওই তিনটি ট্যাংকার আটক করেছিল ভারতের কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ […]

নিউজ ডেস্ক

১৬ মার্চ ২০২৬, ২৩:২৮

ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাঝে আটকা পড়া ভারতীয় পতাকাবাহী বা ভারতমুখী জাহাজগুলোকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করে দেয়ার বিনিময়ে গত ফেব্রুয়ারিতে আটক তিনটি তেলের ট্যাংকার ছেড়ে দিতে নয়াদিল্লির কাছে দাবি জানিয়েছে তেহরান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তিন সূত্রের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় জলসীমার কাছ থেকে ইরান-সংশ্লিষ্ট ওই তিনটি ট্যাংকার আটক করেছিল ভারতের কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ ছিলো, জাহাজগুলো তাদের পরিচয় গোপন বা পরিবর্তন করেছে এবং মাঝসমুদ্রে অবৈধভাবে পণ্য স্থানান্তরের (শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার) সঙ্গে জড়িত ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, তেহরান বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামও চেয়েছে। সূত্রটি জানায়, সোমবার নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় সূত্রগুলো নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নয়াদিল্লিস্থ ইরান দূতাবাস এবং তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, ইরান সম্প্রতি ভারতের দুটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে একটি সোমবার ভারতের পশ্চিম উপকূলে ফিরে এসেছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ওই প্রণালীর দুই পাশেই জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

ভারতীয় জাহাজগুলোর নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে কোনো আলোচনার কথা জিজ্ঞাসা করা হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সোমবার বলেন, সাম্প্রতিক এই জাহাজ চলাচল দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা ও পারস্পরিক লেনদেনের প্রতিফলন। তবে কোনো কিছুর বিনিময়ে এই সুবিধা নেওয়া হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো বিনিময় হচ্ছে না।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে তেহরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলায় এখন পর্যন্ত তিন জন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

সোমবার ভারত সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন। একটি ভারতীয় সূত্রের মতে, এর মধ্যে ছয়টি জাহাজে এলপিজি রয়েছে।

রান্নার গ্যাসের সংকট মেটাতে ভারত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই জাহাজগুলো আগে ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। উল্লেখ্য, ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে এই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।

মুম্বাই উপকূলে নোঙর করা ইরান-সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলো

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’, ‘আল জাফজিয়া’ এবং ‘স্টেলার রুবি’ নামক তিনটি ট্যাংকার আটক করেছে। অভিযোগ রয়েছে, জাহাজগুলো পরিচয় ও চলাচলের তথ্য গোপন করেছে এবং অবৈধ পণ্য স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ছিল।

আটক জাহাজগুলোর মধ্যে ‘স্টেলার রুবি’ ইরানের পতাকাবাহী, বাকি দুটি নিকারাগুয়া ও মালির পতাকাবাহী। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় কোস্টগার্ডের করা একটি এফআইআর (যা রয়টার্সের হাতে এসেছে) অনুযায়ী, ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’ ভারী জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল যা ‘আল জাফজিয়া’তে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনটি জাহাজই মুম্বাই উপকূলে নোঙর করে রাখা হয়েছে।

ট্যাংকারগুলো আটকের সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল ইরানি অয়েল কোম্পানির বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, আটক জাহাজগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

অন্যদিকে, যুগবিন্দর সিং ব্রার (যাকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল পরিবহনে সহায়তাকারী জাহাজ বহরের পরিচালক হিসেবে অভিযুক্ত করে) জানিয়েছেন, তিনি এই তিনটি জাহাজেরই কনসালট্যান্ট। তিনি দাবি করেন জাহাজগুলো কোনো ভুল করেনি।

ফোনে রয়টার্সকে তিনি বলেন, আমরা বিটুমিন পরিবহন করছিলাম এবং এতে অবৈধ কিছু নেই। আমার জাহাজগুলো ৪০ দিন ধরে সেখানে পড়ে আছে এবং আমি লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছি। তবে, ট্যাংকারগুলো নিয়ে কোনো আলোচনার খবর তার জানা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

সোমবার ভারত সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন। একটি ভারতীয় সূত্রের মতে, এর মধ্যে ছয়টি জাহাজে এলপিজি রয়েছে।

রান্নার গ্যাসের সংকট মেটাতে ভারত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই জাহাজগুলো আগে ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। উল্লেখ্য, ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে এই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।

মুম্বাই উপকূলে নোঙর করা ইরান-সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলো

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’, ‘আল জাফজিয়া’ এবং ‘স্টেলার রুবি’ নামক তিনটি ট্যাংকার আটক করেছে। অভিযোগ রয়েছে, জাহাজগুলো পরিচয় ও চলাচলের তথ্য গোপন করেছে এবং অবৈধ পণ্য স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ছিল।

আটক জাহাজগুলোর মধ্যে ‘স্টেলার রুবি’ ইরানের পতাকাবাহী, বাকি দুটি নিকারাগুয়া ও মালির পতাকাবাহী। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় কোস্টগার্ডের করা একটি এফআইআর (যা রয়টার্সের হাতে এসেছে) অনুযায়ী, ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’ ভারী জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল যা ‘আল জাফজিয়া’তে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনটি জাহাজই মুম্বাই উপকূলে নোঙর করে রাখা হয়েছে।

ট্যাংকারগুলো আটকের সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল ইরানি অয়েল কোম্পানির বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, আটক জাহাজগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

অন্যদিকে, যুগবিন্দর সিং ব্রার (যাকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল পরিবহনে সহায়তাকারী জাহাজ বহরের পরিচালক হিসেবে অভিযুক্ত করে) জানিয়েছেন, তিনি এই তিনটি জাহাজেরই কনসালট্যান্ট। তিনি দাবি করেন জাহাজগুলো কোনো ভুল করেনি।

ফোনে রয়টার্সকে তিনি বলেন, আমরা বিটুমিন পরিবহন করছিলাম এবং এতে অবৈধ কিছু নেই। আমার জাহাজগুলো ৪০ দিন ধরে সেখানে পড়ে আছে এবং আমি লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছি। তবে, ট্যাংকারগুলো নিয়ে কোনো আলোচনার খবর তার জানা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৩৮৩৪