যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিশোধমূলক অভিযানে প্রথমবারের মতো টুইন-মিসাইল (জোড়া ক্ষেপণাস্ত্র) উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, এই নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগ যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
এবারের সুনির্দিষ্ট হামলায় অধিকৃত অঞ্চলের মধ্য ও দক্ষিণভাগের অন্তত ৩০টি লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করা হয়েছে। বিশেষ করে রিশন লেতজিওন, পেতাহ তিকভা, বিয়ার শেভা এবং তেল আবিবের মতো প্রধান শহরগুলোর কৌশলগত সামরিক ও শিল্প অবকাঠামো লক্ষ্য করে আধুনিক ‘খেইবার শেকান’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের উপ-প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়্যেদ মজিদ মুসাভি সামাজিক মাধ্যম ‘আপস্ক্রোল’-এ একটি ভিডিও প্রকাশ করে এই নতুন পর্যায়ের যুদ্ধ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, ফাতেহ ও খেইবার শেকান ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য তৈরি এই বিশেষ টুইন-লঞ্চার ব্যবহারের ফলে হামলার তীব্রতা ও সংখ্যা আগের চেয়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েলি শাসনের সমস্ত শিল্প ও সামরিক কেন্দ্র এখন ইরানের নিশানায় রয়েছে এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ওই এলাকাগুলো থেকে সাধারণ বাসিন্দাদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ৯৯তম ধাপের এই অভিযান সম্পর্কে তেহরান স্পষ্ট করেছে যে, তারা কখনোই আগে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও এই অঞ্চলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী যে অবৈধ ও উসকানিমূলক যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল, তার উপযুক্ত জবাব দিতেই এই বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি ও বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার শাহাদাত বরণ করার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে অবিরাম ড্রোন ও মিসাইল বর্ষণ করে আসছে ইরান।
সূত্র: প্রেস টিভি
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?