মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অনাস্থা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের লক্ষ্যে ৪৫ দিনের একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তবে তারা জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের দেয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের জবাব তারা প্রস্তুত করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা চলতে থাকলে সরাসরি আলোচনায় অংশ নেবে না বলেও স্পষ্ট করেছে তেহরান। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় অন্তত ৩৪ জন নিহত […]

৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অনাস্থা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০২

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের লক্ষ্যে ৪৫ দিনের একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তবে তারা জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের দেয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের জবাব তারা প্রস্তুত করেছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা চলতে থাকলে সরাসরি আলোচনায় অংশ নেবে না বলেও স্পষ্ট করেছে তেহরান। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ছয়জন শিশু রয়েছে। বিভিন্ন শহরে অবকাঠামো ও বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তা না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি দেন তিনি। এর জবাবে ইরান পাল্টা আক্রমণের সতর্কবার্তা দিয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের হাইফা শহরের একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানলে অন্তত চারজন নিহত হন বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলেও ইরানি হামলা অব্যাহত রয়েছে। কুয়েতে বিদ্যুৎ ও পানিশোধন প্ল্যান্টে আঘাত হানার পাশাপাশি বাহরাইনের একটি তেল স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও বাস্তবে সংঘাত আরও বিস্তৃত হচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে তা পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের সংকটে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।সংবাদ বিশ্লেষণ

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই বলেছেন, যুদ্ধবিরতি অনেক সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘পুনরায় সংগঠিত হয়ে নতুন হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ’ তৈরি করে।

সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বাঘাই বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যুদ্ধবিরতি প্রকৃত সমাধান নয়, বরং তা সাময়িক বিরতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই ইরান তাদের প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে কোনো ধরনের দ্বিধা দেখাবে না।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের জন্য জাতীয় নিরাপত্তা ও জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো চাপ বা আল্টিমেটামের মধ্যে থেকে আলোচনা করা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাঘাই দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে জাতিসংঘ শক্তিধর দেশগুলোর প্রভাবের বাইরে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে ইরানকে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে হবে।


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার মাধ্যমে ওয়াশিংটন নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। তাই আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের শীর্ষ নেতা খামেনেয়ীর হত্যাকা-ের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর জবাবে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইরানের এ অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ক্ষীণ। বরং সামরিক উত্তেজনা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের লক্ষ্যে ৪৫ দিনের একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীর উপস্থিতিতে এ আলোচনা হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আংশিক কোনও চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও, পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঠেকাতে এ প্রচেষ্টাটিই এখন একমাত্র সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ চেষ্টা ব্যর্থ হলে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা এবং পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও পানি শোধনাগারগুলোতে ভয়াবহ হামলার আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার দেওয়া সময়সীমা আরও ২০ ঘণ্টা বাড়িয়ে মঙ্গলবার পূর্বঞ্চলীয় সময় (ইএসটি) রাত ৮টা পর্যন্ত নতুন ডেডলাইন নির্ধারণ করেছেন। অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গভীর আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। ভালো সুযোগ রয়েছে, তবে তারা যদি চুক্তিতে না আসে, তবে আমি ওখানের সবকিছু উড়িয়ে দেব।

জানা গেছে, পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের পাশাপাশি মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে সরাসরি বার্তার মাধ্যমে এ আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত দুই ধাপের চুক্তিতে প্রথমে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ শেষ করার কথা বলা হয়েছে।

মধ্যস্থতাকারীরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়া এবং ইরানের উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সমস্যার সমাধান কেবল একটি চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমেই সম্ভব। তবে ইরানিরা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা গাজা বা লেবাননের মতো পরিস্থিতি চায় না, যেখানে যুদ্ধবিরতি কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকে। এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ শাখা কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।

তাদের ভাষ্যমতে, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি যুদ্ধের আগের অবস্থায় ‘কখনোই ফিরবে না’। মধ্যস্থতাকারীরা ইরানি কর্মকর্তাদের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, কৌশল দেখানোর আর সময় নেই। আগামী ৪৮ ঘণ্টাই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এড়ানোর শেষ সুযোগ।

ইরানের হামলায় পিছু হটলো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ : ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি ) দাবি করেছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট জাহাজ পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। আইআরজিসি জানায়, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ৯৮তম ধাপে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক ও লজিস্টিক স্থাপনাগুলোতে সমন্বিত হামলা চালিয়েছে। এতে নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে অংশ নেয়।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর ইউএসএস ত্রিপোলি (এলএইচএ-৭)-কে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের দিকে সরে যেতে বাধ্য হয়।

আইআরজিসি আরো দাবি করেছে, তেল আবিব, হাইফা ও বিয়ার শেভাসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তাদের মতে, এসব হামলা ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করতে পারেনি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি যৌথ ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে থাকা কিছু উড়োজাহাজকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ইরানের সিরিজ হামলায় ইসরাইলি শহরগুলো : ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে হামলার পাল্টা জবাবে ইসরাইলজুড়ে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। আট দফায় চালানো এ হামলায় মধ্য ইসরাইল, হাইফা ও তেল আবিবসহ বেশ কিছু শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হাইফায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত দুইজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো। ইসরাইলের ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস জানিয়েছে, হাইফা শহরে ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি ভবন বিধ্বস্ত হয়। রেহাম ফ্রন্ট কমান্ডের সাথে যৌথভাবে কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে দুইজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, ওই ভবনে আরো দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন।

তাদের উদ্ধারে এখনো অভিযান অব্যাহত আছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ক্লাস্টার বোমার আঘাতে একটি চলন্ত গাড়িতে মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়। অন্য একটি বোমার প্রচ- বিস্ফোরণে রাস্তার পাশে থাকা একটি গাড়ি উল্টে গিয়ে দুমড়েমুচড়ে যায়।

রেতহরানের এ আকস্মিক হামলায় তেল আবিব অঞ্চলেও বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ওইসব এলাকার ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, তাদের পরমাণু কেন্দ্রে ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদেই এই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে চরম আকার ধারণ করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, তার দেশের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্মিলিত সামরিক আগ্রাসন কেবল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রাহ্মণ্যম জয়শঙ্করের সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উদ্বেগজনক পরিস্থিতি এবং ইরানের ওপর পরিচালিত হামলার ভয়াবহ পরিণাম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আরো বিধ্বংসী প্রতিশোধ নেয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের : ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যদি বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রাখে তাহলে অনেক বেশি বিধ্বংসী প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) এনিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের একজন মুখপাত্রের দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পুনরাবৃত্তি হলে আমাদের আক্রমণাত্মক ও প্রতিশোধমূলক অভিযানের পরবর্তী পর্যায়গুলো আরও অনেক বেশি বিধ্বংসী ও ব্যাপক হবে।সংবাদ বিশ্লেষণ

আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধানকে হত্যা : ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান মেজর জেনারেল সৈয়দ মাজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন। সোমবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এনিয়ে আইআরজিসির একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে ফার্স নিউজ এজেন্সি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গতকাল ভোর রাতে মার্কিন-জায়নবাদী শত্রুদের এক সন্ত্রাসী হামলায় খাদেমি নিহত হয়েছেন। তবে এনিয়ে বিস্তারিত আর কিছু আইআরজিসি’র বিবৃতিতে বলা হয়নি বলে জানিয়েছে।

সূত্র : আল-জাজিরা, তাসনিম নিউজ এজেন্সী, প্রেস টিভি, টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৫৬৭

আন্তর্জাতিক

পৃথিবীর প্রথম দেশ হিসেবে ইলন মাস্কের স্টারলিংক অচল করে দিলো ইরান

ইরানে সরকারিভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার পর সেখানে স্টারলিংক ইন্টারনেট পাঠান মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তবে সামরিক জ্যামার ব্যবহার করে সেই স্টারলিংক সংযোগ কার্যত অচল করে দিয়েছে ইরান। স্যাটেলাইটভিত্তিক এই ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নেওয়া পদক্ষেপে দেশজুড়ে ব্ল্যাকআউট আরও গভীর হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

নিউজ ডেস্ক

১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬:৪৩

ইরানে সরকারিভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার পর সেখানে স্টারলিংক ইন্টারনেট পাঠান মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তবে সামরিক জ্যামার ব্যবহার করে সেই স্টারলিংক সংযোগ কার্যত অচল করে দিয়েছে ইরান। স্যাটেলাইটভিত্তিক এই ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নেওয়া পদক্ষেপে দেশজুড়ে ব্ল্যাকআউট আরও গভীর হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ইরান ওয়্যারের তথ্যের বরাতে মার্কিন বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস জানায়, ইরানের ভেতরে হাজার হাজার স্টারলিংক ইউনিট চালু রয়েছে এমন দাবি শোনা গেলেও বাস্তবে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট স্যাটেলাইট সংযোগকেও গ্রাস করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুরুতে স্টারলিংকের আপলিংক ও ডাউনলিংক ট্র্যাফিকের প্রায় ত্রিশ শতাংশ ব্যাহত হয়েছিল। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেখা যায়, স্টারলিংক ইন্টারনেটের আশিরও বেশি শতাংশ ট্র্যাফিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, আগের ব্ল্যাকআউটগুলোর তুলনায় বর্তমানে ইরানে স্টারলিংক রিসিভারের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। তবে একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরান সরকার কখনোই স্টারলিংক ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি। ফলে এই সেবাটি চালু রাখা ও ব্যবহার করা দেশটির আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্টারলিংক রিসিভার স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে জিপিএস ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে বারো দিনের যুদ্ধের পর থেকেই ইরান জিপিএস সিগন্যাল ব্যাহত করে আসছে। এর ফলে শাটডাউনগুলো অঞ্চলভেদে ভিন্নভাবে কার্যকর হচ্ছে এবং স্টারলিংক সংযোগে খণ্ডিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট দেখা যাচ্ছে।

মিয়ান গ্রুপের আমির রাশিদি টেকরাডারকে বলেন, ‘আমি গত বিশ বছর ধরে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা করছি, কিন্তু জীবনে এমন কিছু কখনো দেখিনি।’ স্টারলিংক ডেটা প্যাকেট পর্যবেক্ষণকারী প্রযুক্তিবিদরাও জানান, স্যাটেলাইট সংযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইরানে স্টারলিংকের ইন্টারনেট পরিষেবা কার্যত ব্যাহত হচ্ছে।

সাম্প্রতিক ইন্টারনেট শাটডাউন নিয়ে বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা সাইমন মিগলিয়ানো ফোর্বসের প্রতিবেদককে বলেন, ‘এই কিল সুইচ পদ্ধতির খরচ অত্যন্ত ভয়াবহ। ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে প্রতি ঘণ্টায় ইরানের অর্থনীতি থেকে পনেরো লাখ ষাট হাজার ডলার খসে যাচ্ছে।’ এই তথ্য ইরানে চলমান যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণের অর্থনৈতিক প্রভাবকেও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৫৬৭

আন্তর্জাতিক

‘আমরা কাতার নই, ওদের নরক দেখিয়ে ছাড়ব’: ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল পাকিস্তান

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’ শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত […]

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ২১:০০

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’

শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেহরানের আশেপাশের অনেক এলাকা। এতে কেঁপে ওঠে পাকিস্তানের দূতাবাসের পাশাপাশি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনও। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলকে এমন হুঁশিয়ারি দিল ইসলামাবাদ ।

জানা গেছে, দূতাবাস বা পাকিস্তানি কূটনীতিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ২৮ দিনে গড়িয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে।

এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ভূমিকা রাখতে চাচ্ছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষ চাইলে তারা আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার পরিকল্পনা আবারও স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, এই হামলার সম্ভাব্য সময়সীমা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৫৬৭

আন্তর্জাতিক

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে আরেক মুসলিম দেশ

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে তারা। মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) চ্যানেল ১২-এর বরাতে ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৫

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে তারা।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) চ্যানেল ১২-এর বরাতে ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে সরাসরি জড়িত না থাকা সত্ত্বেও ইউএই ইতোমধ্যে প্রায় ৮০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ‍সূত্র জানিয়েছে, যদিও ইউএই কোনোভাবেই এই যুদ্ধে অংশ নেয়নি, তবুও দেশটি ৮০০টি হামলা মোকাবিলা করেছে।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই, যারা নিজেদের নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করবে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

এর আগে শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ কামাল আল-হাইদারি মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিহাদের আহ্বান জানিয়েছেন। তার কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আক্রমণগুলো ইরানের সভ্যতা ও ধর্মীয় কর্তৃত্বকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। খবর শাফাক নিউজের।

আল-হাইদারি মুসলমানদের সতর্ক করেছেন, নিজেদের ভূমি, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে এবং ইহুদি ও আমেরিকানদের অহংকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে হবে।

শিয়া ধর্মমতে, এই ধরনের জিহাদ সাধারণত প্রতিরক্ষা ভিত্তিক এবং আক্রমণাত্মক নয়। দ্বাদশ শিয়াদের মধ্যে এই ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা একজন মারজা’ আল-তাকলিদ বা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার কাছে সীমাবদ্ধ।

এর আগে ২০১৪ সালে ইরাকের শীর্ষ শিয়া নেতা আয়াতুল্লাহ আলি আল-সিস্তানি আইএসআইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান করেছিলেন, যা পরে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসে (পিএমই) পরিণত হয়।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৫৬৭