ইরানের শত্রুরা দেশটির তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোনের আদলে নকল ড্রোন তৈরি করে আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশে হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর।
রোববার (১৫ মার্চ) এক বিবৃতিতে সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি সতর্ক করে বলেন, ‘লুকাস’ নামক এই নকল ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হচ্ছে।
এই ষড়যন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানের ওপর দোষারোপ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের কূটনৈতিক দূরত্ব ও অবিশ্বাস তৈরি করা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, যুদ্ধক্ষেত্রে এবং রাজনৈতিক জোট গঠনে ব্যর্থ হয়ে শত্রুরা এখন এই ধরনের প্রতারণামূলক কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে।
ইব্রাহিম জোলফাকারি মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশ ও সরকারগুলোর প্রতি বিশেষ সতর্কতা জারি করে জানান যে, ইরান সবসময় আইনগত ও যৌক্তিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রক্ষণাত্মক নীতি অনুসরণ করে।
তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ইরান কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও কেন্দ্রগুলোতেই হামলা চালায় এবং প্রতিটি হামলার পর ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে তার দায় স্বীকার করে। তুরস্ক, কুয়েত ও ইরাকের মতো বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশগুলোর বিভিন্ন কেন্দ্রে যে সব ‘দুষ্টুমিপূর্ণ’ হামলা চালানো হয়েছে, সেগুলো ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কাজ নয় বরং আস্থার পরিবেশ নষ্ট করার একটি নীল নকশা মাত্র।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন সামরিক কমান্ডারকে হত্যার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর উসকানিহীন এবং ব্যাপক মাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কেবল অধিকৃত ভূখণ্ড এবং আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। জোলফাকারি জোর দিয়ে বলেন, ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বন্ধু দেশগুলোর ওপর হামলার কোনো কারণ বা উদ্দেশ্য তেহরানের নেই।
মুখপাত্র জোলফাকারি প্রতিবেশী দেশগুলোর কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শত্রুর এই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে হলে পারস্পরিক বিশ্বাস এবং ঐক্য বজায় রাখা অপরিহার্য। তিনি সতর্ক করেন, শয়তানি কৌশলে পা দিয়ে কেউ যদি ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তবে তা কেবল এই ধরনের ষড়যন্ত্রের পরিধিই বৃদ্ধি করবে।
বিদেশি আক্রমণকারী শত্রুদের ষড়যন্ত্র রুখতে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে গভীরতর সহযোগিতা এবং সংহতির কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। তেহরান মনে করে যে, এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিজ্ঞ ও সময়োপযোগী প্রতিক্রিয়া ষড়যন্ত্রের মূলে আঘাত করতে সক্ষম হবে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?