ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক প্রয়োজনের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন করা কিছু বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নিতে চায়। যদিও এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে সিউল, তবু বাস্তবতার কারণে এতে পুরোপুরি বাধা দেওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লি জে মিউংয়ের এই বক্তব্যই প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করল, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরক্ষা জোরদার করতে পূর্ব এশিয়া থেকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, পেন্টাগন দক্ষিণ কোরিয়া থেকে টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ব্যবস্থার কিছু অংশ মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন গত সপ্তাহে জানান, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের জন্য দেশটি থেকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটন ও সিউলের মধ্যে আলোচনা চলছে।
দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অংশীদার। দেশটির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী উত্তর কোরিয়ার হাতে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের ষষ্ঠ বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার দক্ষিণ কোরিয়া। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম ইসরায়েল, তুরস্ক বা উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্কের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের সঙ্গে ওয়াশিংটনের নেই। তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে প্রতিরক্ষা জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও অন্য দেশ থেকে সামরিক সক্ষমতা সরিয়ে নিয়েছে। গত মঙ্গলবার তুরস্ক জানিয়েছে, ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মালাতিয়া প্রদেশে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, নতুন এই প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা জার্মানির রামস্টাইন ন্যাটো ঘাঁটি থেকে আনা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরানোর সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপের বিষয়টিই তুলে ধরছে।
মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অতিরিক্ত সহায়তা চাইলেও সব চাহিদা পূরণ করতে ওয়াশিংটনের হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?