ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জন্য ৩০ দিনের একটি বিশেষ ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, বৈশ্বিক তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট বাড়তে থাকায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেসেন্ট বলেন, “ভারত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। আমরা আশা করি নয়াদিল্লি যুক্তরাষ্ট্র থেকেও তেল আমদানি বাড়াবে। ইরানের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছে, এই সাময়িক ব্যবস্থা তা কমাতে সহায়ক হবে।”
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত একটি বাণিজ্য চুক্তির সময় ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছিল। তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা এ দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছেন, জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে দেশের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই নেওয়া হয়।
২০২৫ সালের আগস্টে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অভিযোগ ছিল, ভারতের এই তেল ক্রয় রাশিয়ার সামরিক অভিযানে অর্থ জোগাতে সহায়তা করছে। পরে বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণার পর ওই শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে শুল্ক বাতিল হয়ে গেলে হোয়াইট হাউস প্রথমে শুল্কহার ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে। পরে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, বৈশ্বিকভাবে শুল্কহার বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হবে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী আরও জানান, নতুন সিদ্ধান্তে রাশিয়া সরাসরি লাভবান হবে না, কারণ এতে কেবল সমুদ্রে আটকে থাকা তেলের চালান লেনদেনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লেও জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ভারতের তেল মন্ত্রণালয়।
ভারত তার মোট তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় অর্ধেক বিদেশ থেকে আমদানি করে। দেশটির প্রায় অর্ধেক তেল সরবরাহ এবং ৫৫ শতাংশ এলএনজি চালান হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে আসে। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?