যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চালানো যৌথ হামলার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে জাতিসংঘকে আহ্বান জানিয়েছে ইরান। এক চিঠি দিয়ে এই আহ্বান জানায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গতকাল জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি জেমস কারিওকির উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জাতিসংঘকে দ্রুত নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছে। যাতে করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা এবং অবৈধ শক্তি প্রয়োগ বন্ধ ও আগ্রাসীদের জবাবদিহির আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রকে এই আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানাতে আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সব রাষ্ট্রকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য নজিরবিহীন হুমকি হিসেবে বিবেচিত এই হামলাগুলোর মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক যৌথ পদক্ষেপ নিতে বলেছে।
চিঠিতে আরাঘচি উল্লেখ করেন যে, ইরানের বিভিন্ন শহরে একাধিক প্রতিরক্ষা স্থাপনা ও বেসামরিক স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলা জাতিসংঘ সনদের ২ নম্বর অনুচ্ছেদের ৪ নম্বর দফার স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় সশস্ত্র আগ্রাসন।
আরাঘচি জোর দিয়ে বলেন, এই আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাবে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অন্তর্নিহিত ও আইনগত অধিকার রাখে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এই অপরাধমূলক আগ্রাসন মোকাবিলা ও শত্রুতামূলক পদক্ষেপ প্রতিরোধে সব প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ফলে, মধ্যপ্রাচ্যে শত্রু বাহিনীর সব ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আগ্রাসন সম্পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরান দৃঢ়ভাবে তার এই অধিকার প্রয়োগ করবে।
ইরান মনে করে হামলার পূর্ণ ও প্রত্যক্ষ দায়ভার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বর্তায়। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর গুরুতর ও ব্যাপক প্রভাবের পরিপ্রেক্ষিতে ইরান আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিষয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণে জাতিসংঘ, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের প্রধানের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?