যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানকে ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি দাবি করেছেন, এই যুদ্ধে অন্য পক্ষের পক্ষে কোনও বিজয় অর্জন বা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্বাস আরাঘচি বলেন, এই যুদ্ধ অপর পক্ষের জন্য কোনও ভালো ফলাফল বয়ে আনতে পারবে না। এই যুদ্ধে কোনও বিজয় নেই। তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি এবং আগামী দিনগুলোতেও পারবে না।
তিনি আরও বলেছেন, যত দিন এই হামলা চলবে, তত দিন তারা কিছুই অর্জন করতে পারবে না।
গত জুনের ১২ দিনের যুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আরাঘচি বলেন, সেবারও তারা আশা করেছিল দুই-তিন দিনের মধ্যে ইরান আত্মসমর্পণ করবে। কিন্তু ১২ দিন পর তারা বুঝতে পেরেছিল ইরান নতি স্বীকার করার নয় এবং তারা বিনাশর্তে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করতে বাধ্য হয়েছিল। এবারও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন আমি দেখছি না।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার বিষয়ে আরাঘচি বলেন, বিদেশের মাটিতে অন্য একটি দেশের নেতাকে হত্যা করা নজিরবিহীন এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। এই আগ্রাসনের ফলে যুদ্ধ আরও বিপজ্জনক ও জটিল হয়ে উঠবে এবং এর নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে।
খামেনির ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, খামেনি শুধু ইরানের রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না, বরং বিশ্বের লাখো মুসলিমের ধর্মীয় নেতা ছিলেন। ইরাক ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেলের রক্ষীদের গুলিতে বিক্ষোভকারী নিহতের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।
আঞ্চলিক দেশগুলোর মন্ত্রীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন জানিয়ে আরাঘচি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্ষোভ থাকা উচিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর, ইরানের ওপর নয়। কারণ এই যুদ্ধ আমাদের পছন্দ নয়, বরং আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর উচিত ইরানকে যুদ্ধ বন্ধের জন্য চাপ না দিয়ে অন্য পক্ষকে (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) থামানোর জন্য চাপ দেওয়া। ইরান যত দিন প্রয়োজন তত দিন প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলেও তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?