বাংলাদেশের কৃষি রপ্তানিতে যুক্ত হলো নতুন এক দিগন্ত। এবারই প্রথম আকাশপথের পাশাপাশি সমুদ্রপথে কাঁঠাল রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। গত মে মাসে রাজধানী ঢাকার রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্স স্টাইল সমুদ্রপথে ৩ হাজার ৫০০ কেজি (সাড়ে ৩ টন) কাঁঠাল রপ্তানি করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ দুবাইয়ে।
রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে দুবাইয়ের জেবল আলী বন্দরে কাঁঠাল পৌঁছাতে সময় লেগেছে প্রায় ২৬ দিন। তবে আশার খবর হচ্ছে—এই দীর্ঘ সময়েও কাঁঠালের মান প্রায় অক্ষত ছিল।
ইউনিভার্স স্টাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুজ্জামান মানিক বলেন, “৩৫ শতাংশ কাঁঠালের গায়ের রঙ স্বাভাবিক ছিল, আর বাকিগুলোর বাইরের রঙ কিছুটা কালো হলেও ভেতরের ফল একেবারে ভালো ছিল।”
তিনি আরও জানান, এই সফল রপ্তানিকে ঘিরে তারা এখন সমুদ্রপথে কাঁঠাল ও আনারসসহ আরও দেশি ফল রপ্তানির পরিকল্পনা করছেন। এ লক্ষ্যে টাঙ্গাইলে একটি ওয়্যারহাউস স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংঘনিরোধ উইং সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের কাঁঠাল এখন যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, আয়ারল্যান্ড ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে কাঁঠালের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৪৪৮ টন কাঁঠাল রপ্তানি হয়েছে। আগের অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ২ হাজার ২৪ মেট্রিক টন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রপ্তানিতে সরকার সহযোগিতা করলে সমুদ্রপথে ফল রপ্তানি কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। এতে পরিবহন খরচ কমবে এবং বৈদেশিক আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।