জুলাই আন্দোলনে বিতর্কিত ভূমিকায় আলোচনায় আসা ইউটিউবার ও মাই টিভির পরিচালক তৌহিদ আফ্রিদিকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আন্দোলনের সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু নিজেই নয়, আরও বহু কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে আওয়ামী লীগপন্থী প্রচারণায় যুক্ত করার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ডেইলি শো উইথ ফকরুলসহ একাধিক প্ল্যাটফর্মে অভিযোগ করা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় আফ্রিদি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভিডিও বানাতে বাধ্য করতেন। রাজি না হলে অনেকে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ডিবির সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদ ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে বিপুল অর্থ উপার্জন করে বিদেশে পাচার করেছেন আফ্রিদি।
অবশেষে রোববার রাতে সিআইডি বরিশাল থেকে তাকে গ্রেফতার করে। সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে যাত্রাবাড়ী থানার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাকে “মিডিয়া সন্ত্রাসী” আখ্যা দিয়ে বলেন, আফ্রিদি লাইভে এসে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলোকে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালাতে উসকানি দেন।
আফ্রিদির পক্ষে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করে বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এবং মামলায় ভুল তথ্যের ভিত্তিতে আসামি করা হয়েছে। এমনকি মামলার বাদীও এফিডেভিট দিয়ে জানিয়েছেন, আফ্রিদির সম্পৃক্ততা নেই। তবে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।