জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন আবারও আলোচনায় এসেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সমালোচনামূলক মন্তব্যের কারণে। পর্দায় আগের মতো নিয়মিত না হলেও ফেসবুকে প্রায়ই রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে সরব থাকেন তিনি। এবার পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃবৃন্দের বৈঠক নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শাওন।
শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকালে ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশনে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের সঙ্গে এনসিপির সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে এনসিপি নেতারা দাবি করেন, পাকিস্তান দূতাবাস থেকে আমন্ত্রণের ভিত্তিতেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন। তারা জানান, দুই দেশের দীর্ঘদিনের শত্রুভাবাপন্ন সম্পর্ক কাটিয়ে উন্নতির সুযোগ তৈরি করা দরকার, আর সে জন্য একাত্তরের ইস্যুগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী এসময় “৭১ ডিল” শব্দ ব্যবহার করেন। আর এই শব্দ ব্যবহারের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মেহের আফরোজ শাওন।
ফেসবুকে এনসিপি নেতাদের বক্তব্যের একটি ভিডিও শেয়ার করে শাওন লিখেন—
“মুক্তিযুদ্ধের নাম কি তবে ‘৭১ ডিল’ হয়ে গেল!”
তিনি আরও লিখেছেন—
“এই ‘ঘিলু’ মহোদয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়ে গেলেন কবে? ফরেন পলিসি নিয়ে পাকিস্তানের ফরেন মিনিস্ট্রির সাথে মিটিং করছেন! উনার ভাষ্যমতে ‘গত ১৫/২০ বছরে’ অনেক চেষ্টা করেও পাকিস্তান তাদের ভালো ভালো জিনিস আমাদের শেখাতে পারে নাই! যাক ভালোই হলো, ‘বিল্ডিং রিলেশনশিপ’-এর পর এখন বাংলাদেশ সব শিখে নিবে। ৪৪ সেকেন্ড পার করে দেখলাম ‘৭১ ডিলের একটা ইস্যুও নাকি আছে যেটা ওনাদের মতে দ্রুত সলভ (!) করা উচিত।”
তার এ পোস্টের নিচে অনুরাগীদের প্রতিক্রিয়াও এসেছে ঝড়ের মতো। অনেকে শাওনের সঙ্গে একমত পোষণ করে লিখেছেন—
“কেন পাকিস্তান? আর আপনাদের এই দায়িত্ব কে দিয়েছে?” কেউ লিখেছেন— “পাকিস্তান চাই না, কোনো ডিলও চাই না।” আবার কেউ বলেছেন— “ওনাদের কাছ থেকে বাংলাদেশ কী শিখবে, তা আমাদের কাছে রহস্য।”
মুক্তিযুদ্ধকে “৭১ ডিল” আখ্যা দেওয়ায় শাওনের মতো সচেতন মহলেও ক্ষোভ বিরাজ করছে।