ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)–এর সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম অভিযোগ করেছেন, প্রস্তাবিত গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে রাষ্ট্রের একটি অংশ, ডিপ স্টেটের একটি অংশ, মিডিয়ার একটি অংশ এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির অংশবিশেষ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে সম্মিলিত ছাত্র সংসদের উদ্যোগে দেশব্যাপী গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এক গণজমায়েতে তিনি এসব কথা বলেন।
সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে আজাদির ক্যাম্পেইন চললেও একটি সংগঠিত গোষ্ঠী এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, “এই শত্রুদের আমাদের চিনতে হবে। তারা বাংলাদেশের কল্যাণ চায় না, তারা জুলাইকে ধারণ করে না এবং তারা আবারও দেশে ফ্যাসিবাদী কাঠামো ফিরিয়ে আনতে চায়।”
গণজমায়েতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু)-এর প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
জাতীয় পার্টির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে সাদিক কায়েম বলেন, গত ১৬ বছরে যারা শেখ হাসিনা সরকারের সহযোগী ছিল, তারা এখন গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, জাতীয় পার্টির কিছু নেতা অতীতে গণতন্ত্রবিরোধী ভূমিকা রেখেছে এবং গত ১৫ বছরের গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য জিএম কাদেরসহ সংশ্লিষ্টদের বিচারের আওতায় আনা উচিত।
জুলাই বিপ্লবের হতাহতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই আন্দোলনে প্রায় দুই হাজার মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে জাতীয় পার্টি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তিনি অন্যতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে অভিযুক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালালেও এখন আবার একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও তাদের নেতৃত্ব ভারতের নির্দেশনায় রাজনীতি করছে বলে মনে হচ্ছে।
হুঁশিয়ারি দিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, “এই দেশে রাজনীতি করতে হলে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে এবং ভারতের দালালদের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে হবে।”
তিনি বলেন, যারা জুলাই বিপ্লবের শহীদদের চেতনাকে অস্বীকার করে গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে দাঁড়াবে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণরায়ের মাধ্যমে জবাব দেবে।