ইবি প্রতিনিধি :
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলে ভিড়ছেন শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা। সংগঠনটির মিছিল, মিটিং, সমাবেশ ও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে এসব কর্মীদের। এতে সংগঠনটি বিতর্কের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সংগঠনটির নিয়মিত ও ত্যাগী কর্মীরা। এতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচণে বিএনপির ভোটেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে তিন মাস মেয়াদি আহ্বায়ক কমিটি দীর্ঘ চার বছর ধরে বহাল রয়েছে। এ নিয়ে সংগঠনটির নিয়মিত ও ত্যাগী কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। একাধিকবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদল থেকে আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত নতুন কমিটি হয়নি।
এতে কমিটির অধিকাংশ নেতাই ৫ আগস্টের পর সক্রিয় হলেও অপরিচিত, বিবাহিত ও চাকুরিজীবী অবস্থায় রয়েছেন। এদিকে নিয়মিত অনেক কর্মীর শিক্ষাজীবন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে সংগঠনের ভেতরে কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও বিতর্কের কারণে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির ভোটেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদল ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য কার্যক্রম শুরু করে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব কর্মসূচিতে কর্মী সংকটে পড়ে সংগঠনটি। এ সুযোগে সংগঠনটিতে ভিড়তে থাকে শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগের কর্মীরা হলেন, আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এনামুল হক ইমন, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ফজলে রাব্বী, আল-ফিকহ্ অ্যান্ড ল বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের রিয়াদ বিশ্বাস, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ফারুক আহমেদ ফারহান,
ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ওয়াশিকুর রহমান, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ইফতেহার উদ্দীন ও শাকির আহমেদ রাজ, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের সাদ ওসমান, ল’ অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের হুজ্জাতুল্লাহ এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মুফতাইন আহম্মেদ সাবিক।
এসব ছাত্রলীগ কর্মীদের বিভিন্ন সময় ছাত্রদলের কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে। তাদের কয়েকজন বিতর্কিত কাজেও জড়িয়েছেন । সর্বশেষ গত বুধবার নিয়োগ বোর্ডকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ কর্তৃক ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক শরিফুল ইসলাম জুয়েল অপহরণ হন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, প্রক্টরিয়াল বডি ও সাংবাদিকদের উপর হামলা ও মব সৃষ্টি করেন বিভাগটির কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মীরা।
জড়িতদের মধ্যে ছাত্রদল কর্মী ও ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ইফতেহার উদ্দীন ও শাকির আহমেদ রাজও ছিলেন। এছাড়াও গত ২৫ জানুয়ারি ইফতেহার উদ্দীনের বিরুদ্ধে বিদেশি শিক্ষার্থীকে হুমকি ও গালিগালাজের অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে এসব কর্মীর ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতা নিয়ে একাধিকবার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তবুও তারা বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে। সংগঠনটির অনেক নেতাকর্মী অভিযোগ করছেন, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, সদস্যসচিব মাসুদ রুমী মিথুন এবং সদস্য নূর উদ্দিন ও রাফিজ আহমেদের প্রশ্রয়ের কারণে তারা সংগঠনটিতে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৬ জুন লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের সাহেদ আহম্মেদকে আহ্বায়ক এবং ইংরেজি বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের মাসুদ রুমী মিথুনকে সদস্য সচিব করে ৩১ সদস্যের কমিটি আহ্বায়ক দেয় তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। সে সময় কমিটিতে অছাত্র, বিবাহিত ও চাকরিজীবীদের পদ দেওয়ায় প্রতিবাদ করে কমিটি প্রত্যাখ্যান করে একাংশ।
একাংশের অভিযোগ, কমিটির অধিকাংশ সদস্যই এখনও নিষ্ক্রিয়, বিবাহিত ও চাকরিজীবী। তবুও ৪ বছর ধরেই চলছে এ কমিটি। কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ কমিটির অন্য নেতাদের বয়স নিয়েও বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হচ্ছে। এছাড়া এতে সংগঠনটিতে ভাঙন ও গ্রুপিং দেখা যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী বলেন, ‘৩ মাসের কমিটি আজ ৪ বছরে পদার্পণ করেছে। কিন্তু নতুন কমিটি আসেনি। আগে যারা ছাত্রলীগ করেছে এবং ছাত্রলীগের কর্মী ছিল বর্তমানে তারা ছাত্রদলের ব্যানারে এসে নানা ধরনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
ছাত্রদলের বিভিন্ন ব্যানারে আগে যারা ছাত্রলীগ করেছে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অথচ আমাদের নাম দেওয়া হয়না। এমনকি ছাত্রদলের ফ্রন্ট লাইনে থেকে মিছিল স্লোগান দিতে দেখা যাচ্ছে তাদের।
শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজকে বলেন, ‘আপনার কথা আমি বুঝতে পেরেছি তবে এবিষয়ে আমার মতামত নেই। কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে আমার জানামতে ছাত্রলীগের কেউ ছাত্রদলে অনুপ্রবেশের সুযোগ নেই।’
এ বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সেক্রেটারি নাসির উদ্দীন নাসির, দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সহ-সভাপতি জহির রায়হান ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা ফোন ধরেননি।