আবু তাহের, জাককানইবি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিভাগ (ছাত্র) ও আন্তঃঅনুষদ (ছাত্রী) ভলিবল প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। ফাইনাল খেলায় আন্তঃঅনুষদ (ছাত্রী) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কলা অনুষদ এবং আন্তঃবিভাগ (ছাত্র) প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পপুলেশন সায়েন্স বিভাগ।
আজ (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন খেলার মাঠে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় পপুলেশন সায়েন্স বিভাগ ২-১ সেটে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগকে এবং কলা অনুষদ ২-১ সেটে চারুকলা অনুষদকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়। খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “ভলিবল খেলা একটি চরম উত্তেজনার খেলা। যেকোনো খেলাই শুধু বিনোদন নয়, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ও সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। খেলা এবং শারীরিক ব্যায়াম যেকোনো মানুষের জন্যই অতীব প্রয়োজন।
এছাড়া খেলা একে অপরের সাথে মেলবন্ধন ও বন্ধুত্বের প্রতীক। তাই শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমরা বিভিন্ন ধরনের টুর্নামেন্টের আয়োজন করছি এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রাখা হবে।”
পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও দলগত ঐক্যের ফলেই এই সাফল্য এসেছে। শিক্ষক হিসেবে তাদের এই অগ্রগতি ও আত্মবিশ্বাস দেখে আমি ভীষণ অনুপ্রাণিত। জয় আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতেও তারা এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখবে বলে আশা করি।”
কলা অনুষদের নাট্যকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ মামুন রেজা বলেন, “টানা চতুর্থবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া আমাদের নারী দলের জন্য এক অনন্য অর্জন। সীমাবদ্ধতা ও নানা চ্যালেঞ্জের মাঝেও মেয়েরা যে আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও দলগত শক্তির পরিচয় দিয়েছে, তা সত্যিই গর্বের।
শিক্ষক হিসেবে তাদের এই সাফল্যে আমি গভীর আনন্দ ও সম্মান অনুভব করছি। এই জয় প্রমাণ করে মেয়েরা সুযোগ পেলে যেকোনো ক্ষেত্রেই শ্রেষ্ঠত্ব দেখাতে পারে। আশা করি, ভবিষ্যতেও তারা এই বিজয়ধারা অব্যাহত রাখবে।”
উল্লেখ্য, গত ২৭ জানুয়ারি নতুন প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন খেলার মাঠে ২৪টি (ছাত্র) এবং ৬টি (ছাত্রী) দল নিয়ে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল।