আবু তাহের, জাককানইবি
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগাম ছুটি চেয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’র পক্ষে কিছু শিক্ষার্থী। তবে এরপরই এই ছুটির আবেদন না মানার পক্ষে সরব হয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
গত ১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীরা’। স্মারকলিপিতে তারা বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮, ৯ ও ১০ তারিখ (মোট তিন দিন) ছুটি ঘোষণা করা হলে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে নিরাপদে নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছে সুশৃঙ্খলভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
তবে স্মারকলিপি প্রদানের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে প্রকাশের পর থেকেই শিক্ষার্থীরা এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা শুরু করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক শিক্ষার্থী লিখেন, “৮ তারিখ বেশিরভাগ বিভাগে এ সেমিস্টার পরীক্ষা। আর তারা যে কয়জন স্মারকলিপি জমা দিলো কয়টা বিভাগের প্রতিনিধি ছিল এখানে কিংবা কয়টা বিভাগে যোগাযোগ করেছে। নির্বাচন এর আগে ২ দিন আনুষ্ঠানিক বন্ধ। যাদের পরীক্ষা আছে তারা তো আর এক্সাম বন্ধ দিয়ে নির্বাচনের ২ দিন আগে বাড়ি গিয়ে মিষ্টি বিলাবে না! কিছু একটা হইলেই নিজেদের ইচ্ছামতো স্মারকলিপি একটা জমা দিয়ে ফ্রেমবন্ধি হওয়া!”
শিক্ষার্থী মাহবুবা মুনিয়া লিখেন, “৮ তারিখ আমাদের সেমিস্টার আছে এবং আমরা সেমিস্টার দিয়েই যাবো। এমনিতেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এত বন্ধ দেয় না। যখন যা ইচ্ছা তাই করে। নির্বাচনের ৪ দিন আগে থেকে বন্ধ চায় মাথায় সমস্যা নাকি? বাংলাদেশের কোন প্রান্তে যেতে ৪ দিন সময় লাগে?”
নাদিয়া আহমেদ ইমা লিখেন, “৯ তারিখ যাদের সেমিস্টার পরীক্ষা তারা কী করবে? মনগড়া সিদ্ধান্ত নিলেই কি হয়ে যাবে নাকি?”
আরেক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, “এরকম একটা সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে কয়টি ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্টদের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে? আর সাধারণ শিক্ষার্থীরাই বা কারা! ৮ তারিখ যাদের সেমিস্টার ফাইনাল রয়েছে এটা সেদিন না হলে রোজার মধ্যে পরলে কতটা সমস্যা হতে পারে সে বিষয়ে ধারণা আছে?”
অপরদিকে স্মারকলিপি প্রদানকারীদের মধ্যে শিক্ষার্থী ইলিয়াস ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পাসে অনেক শিক্ষার্থী আছে যাদের বাড়িতে যেতে ও আসতে পুরো ১ দিন সময় প্রয়োজন হয়। ভাড়া যায় এক হাজার থেকে বারোশো টাকা। এমতাবস্থায় একজন শিক্ষার্থী বাড়িতে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভাববে এত টাকা খরচ করে একদিনের জন্য বাসায় যাবো, আবার আসবো, এর থেকে না যাই। এতে তারা গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। তবে যখন ৩/৪ বন্ধ দিয়া হবে তারা ভাববে ভোটও দিয়ে আসি এবং বাড়ি থেকেও ঘুরে আসি। এতে আর তারা গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না।’